সোমবার,২২ এপ্রিল ২০১৯
হোম / স্বাস্থ্য-ফিটনেস / ফাস্টিং ডায়েটে ওজন কমে?
০৩/২৪/২০১৯

ফাস্টিং ডায়েটে ওজন কমে?

-

ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের বছরে এক মাস রোজা রাখতে হয়, হিন্দুধর্মেও রয়েছে উপবাসের নিয়ম-কানুন। তবে ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি অনেকের কাছে এই সময়টা ওজন কমানোর মোক্ষম উপায় হিসেবে বিবেচিত হতে থাকে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এভাবে রোজা রেখে বা না খেয়ে থেকে ওজন কমানোটা আসলে কতটা স্বাস্থ্যসম্মত? এভাবে ওজন কমানোর চিন্তায় প্রাথমিকভাবে সুফল মিললেও পরবর্তীসময় এর প্রভাব কতটুকু বজায় থাকে?

না খেয়ে থাকার কারণ

ধর্মীয় বিধিনিষেধ মেনে রোজা রাখা বা উপবাস করা যাই হোক না কেন, মূল জিনিসটা হলো দিনের বেশিরভাগ সময় না খেয়ে থাকা। ধর্মীয় কারণ ছাড়াও অন্যান্য বিভিন্ন কারণে আপনাকে দিনের একটা বড় অংশ সময় না খেয়ে থাকতে হবে। যেমনÑচিকিৎসাসংক্রান্ত কারণে না খেয়ে থাকতে হতে পারে। অনেকে আবার দেহে ডিটক্সিফিকেশন চালানোর জন্যও না খেয়ে থাকেন। উল্লিখিত বিষয়গুলোতে সমস্যা নেই, তবে গোল বাঁধে তখনই যখন ব্যক্তি এই না খেয়ে থাকার অভ্যাসটাকে মেদ দূর করার উপায় হিসেবে দেখতে থাকেন। বর্তমান সময়ে শরীরের বাড়তি চর্বি দূর করার উপায় হিসেবে বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার মানুষ একেবারে না খাওয়ার পথ বেছে নেন, অনেকেই আবার ধর্মীয় প্র্যাকটিসের আওতায় বিষয়টিকে পরোক্ষভাবে এই ধারণার বাস্তবায়ন করছেন।

না খেয়ে ওজন কমানো কতটা স্বাস্থ্যসম্মত?

বেশ কিছুদিন খাবার গ্রহণের পরিমাণ একেবারে কমিয়ে দিলে দ্রুত হারে ওজন কমে যাচ্ছে এমনটা লক্ষ্য করা যাবে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে এই পরিবর্তন ক্ষণস্থায়ী এবং শরীরের জন্য বেশ ক্ষতিকারক। এভাবে ব্যক্তি হয়তো সাময়িক সাফল্য লাভ করতে পারেন। তবে কিছুদিন পরেই দেখবেন শরীর ঠিক উল্টো পথা হাঁটছে। এভাবে রোজা, উপবাস করে বা সারাদিন না খেতে থাকার অভ্যাসের কারণে শরীরের মেটাবলিজমের হার একেবারে কমে যায়। আপনি সারাজীবন একেবারে না খেয়ে থাকতে পারবেন না। যখনই আপনি আগের রুটিনে ফিরে আসবেন, শরীর খাদ্য হিসেবে গ্রহীত সব ক্যালরি স্টোর করে রাখবে। এরফলে শরীরে বাড়তি মেদ জমা হবে। তাই এভাবে না খেয়ে থেকে ওজন কমানোর চিন্তাটা অনেকাংশেই আপনার জন্য বুমেরাং হিসেবে দেখা দেবে। এছাড়া এমন পদ্ধতি অনুসুরণ করলে সাইড ইফেক্ট হিসেবে নিম্নোক্ত সমস্যাগুলো ফেস করতে হতে পারে।

- মাথা ব্যথা ও মাথা ঘোরা
- লো ব্লাড সুগার
- ক্লান্তি
- মাসল পেইন
- কিডনির সমস্যা
- অনিয়মিত হার্টবিট

যা করা যেতে পারে

- একেবারেই যদি না খেয়ে থাকার সিদ্ধান্ত নিন তবে পিরিয়ডটা দুই থেকে তিন দিনের বেশি করবেন না। এই সময়কাল শেষ হলে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে
ফিরে আসুন এবং জাংক ফুড এড়িয়ে চলুন।
- এভাবে রোজা রাখা বা না খেয়ে থাকার সময় কঠিন ব্যায়াম বা খুব বেশি জিম করতে যাবেন না। এর পরিবর্তে হালকা ব্যায়াম বেছে নিন।
- অন্য খাবার না গ্রহণ করলেও অন্তত ফল, জুস এবং বেশি করে পানি খান; হাইড্রেটেড থাকার চেষ্টা করুন।
- হুট করে অনেক ওজন কমে যাবে এমন মিথ থেকে বেরিয়ে এসে স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ ও নিয়মিত ব্যায়ামÑএই দুটোর কম্বিনেশনে মেদ কমানোর প্ল্যান
করুন।

-শাহরিয়ার মাহী