সোমবার,২২ এপ্রিল ২০১৯
হোম / স্বাস্থ্য-ফিটনেস / ভ্যাজাইনাল ইস্ট ইনফেকশন : সতর্কতাই রাখে সুরক্ষিত
০৩/২৪/২০১৯

ভ্যাজাইনাল ইস্ট ইনফেকশন : সতর্কতাই রাখে সুরক্ষিত

-

যোনিপথে ছত্রাক সংক্রমণ, ভ্যাজাইনাল ইস্ট ইনফেকশনÑ এই টার্মগুলোর সাথে অনেক নারী হয়তো পরিচিতই নন। তবে আশ্চর্যের ব্যাপার হলো এই সমস্যায় এদেশের হাজারো নারী ভুগে থাকেন। অজ্ঞতা আর অসচেতনতার কারণে অনেককেই এই সমস্যায় দীর্ঘদিন ভুগতে হয়। অথচ একটু জানা আর কিছু সাবধানতাই পারে সুস্থ যোনি নিশ্চিত করতে।

ভ্যাজাইনাল ইস্ট ইনফেকশন কী?

ভ্যাজাইনাল ইস্ট ইনফেকশন হলো যোনিতে ছত্রাকের সংক্রমণ। মেডিকেলের ভাষায় একে ‘ক্যান্ডিডায়াসিস’ বলা হয়। মেয়েদের যোনিতে সাধারণত ব্যাকটেরিয়া এবং ইস্ট ও ছত্রাকের কোষ থাকে। এই দুটি একটি স্বাভাবিক মাত্রার ব্যালেন্সে থাকে, তবে এই ব্যালেন্স কোনো কারণে নষ্ট হলে ছত্রাক কোষের সংখ্যা বাড়তে থাকে আর তখনই যোনিতে ছত্রাক সংক্রমণ হয়ে থাকে। যার ফলে চুলকানি, জ্বালাপোড়াসহ নানা অপ্রীতিকর সমস্যায় পড়েন আক্রান্ত ব্যক্তি। এই সংক্রমণ কোনো যৌনরোগ নয়, কোনোরূপ যৌনসংসর্গ ছাড়াই এতে আক্রান্ত হওয়া সম্ভব। তবে ভ্যাজাইনাল ইস্ট ইনফেক্টেড অবস্থায় যৌনমিলনে সমস্যা আরও বেড়ে যায়। আর একবার যোনিতে ছত্রাক সংক্রমণ হলে প্রতিকার না নিলে এটা বারবার ফিরে আসারও সম্ভাবনা থাকে। তাই এর থেকে সতর্ক থাকা আর আক্রান্ত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

প্রথমেই জানতে হবে লক্ষণ

বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই লক্ষণ জানা না থাকার কারণে অনেকেই বুঝে উঠতে পারেন না সমস্যাটি আসলে কী, এজন্য সবার আগে ইস্ট ইনফেকশনের লক্ষণগুলো জেনে নিতে হবে-

- যোনিতে চুলকানি;
- যোনির চারপাশ ফুলে যাওয়া;
- প্রস্রাব বা সেক্সের সময় জ্বালাপোড়া;
- সেক্সের সময় ব্যথা অনুভূত হওয়া;
- কালশিটে পড়া;
- আক্রান্ত স্থান লাল হয়ে যাওয়া;
- কখনও কখনও সাদা বা ধূসর স্রাব নিঃসরণ হয়ে থাকে যা পিচ্ছিল হয়।



ইনফেকশনের কারণ

Candida albicans নামক একটি ছত্রাকের কারণে মূলত এই ইনফেকশনটি হয়ে থাকে। ভ্যাজাইনাল এরিয়াতে ক্যানডিডা ছত্রাকের উপস্থিতি একটি স্বাভাবিক ব্যাপার। তবে এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে ল্যাক্টোব্যাসিলাস নামক একটি ব্যাকটেরিয়া, কোনো কারণে এই দুটি পরিমাণ ইমব্যালান্স হলেই ছত্রাকের পরিমাণ বাড়তে থাকে আর সংক্রমণ হয়। কিছু ফ্যাক্টরের কারণে এই সংক্রমণ হতে পারে। প্রথমত বলা যায় অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার। প্রায়শই অ্যান্টিবায়োটিক ল্যাক্টোব্যাসিলাস ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে, এই ব্যাকটেরিয়া ভ্যাজাইনার জন্য ভালো বিধায় এর কমে যাওয়াই সংক্রমণকে ত্বরান্বিত করে। এছাড়াও প্রেগন্যান্সি, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস আর হজমের দুর্বলতাও এর প্রধান কারণ। এছাড়াও কিছু ব্যক্তিগত অভ্যাস যেমন কম ঘুমানো, খাবার গ্রহণে অনীহা আর স্ট্রেস নেওয়াও এই সমস্যাকে ডেকে নিয়ে আসে। পিরিয়ডের আগে বা পরে হরমোনাল ইমব্যালান্সের কারণেও এটি হতে পারে।
ঈধহফরফধ ধষনরপধহং-এর কারণেই বেশিরভাগ ইনফেকশন হয়, তবে আপনি যদি বারবার আক্রান্ত হন তবে দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে কেননা তখন ইনফেকশনটি ভিন্ন কোন ছত্রাকের কারনের প্রতিও ইঙ্গিত করে।

চিকিৎসা আর প্রতিকার

ইনফেকশনকে হেলাফেলা না করে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। সাধারণ ইনফেকশনের ক্ষেত্রে এক থেকে তিন দিনের অ্যান্টিফাংগাল ক্রিম, মলম বা সাপোসিটরি দেওয়া হয়ে থাকে। কোনোভাবেই এসব ঔষধ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করবেন না। ইনফেকশন সিরিয়াস নাকি নরমাল এটি আপনার ডাক্তার পরীক্ষা করে দেখবেন। একই বছরে সাধারণত চার বা তার অধিকবার ইস্ট ইনফেক্টেড হওয়া সিরিয়াস কিছুই ইংগিত করে। পরীক্ষা সাপেক্ষে এক্ষেত্রে দুই থেকে ছয় সপ্তাহের ট্রিটমেন্ট দেওয়া হয়ে থাকে। বারবার যদি ইনফেকশন ফিরে আসে তবে আপনার পার্টনারের ইনফেকশনের কারণে তা হচ্ছে, এটাও একটি কারণ হতে পারে। এক্ষেত্রে প্রতিবার সেক্সের সময়ই কনডম ব্যবহার করবেন।
ঘরোয়া কিছু ন্যাচারাল উপায় আছে ইনফেকশনের প্রতিকারের, যদিও এগুলো প্রেস্ক্রাইবড মেডিসিনের মতো অধিক কার্যকর হয় না। তবে সাধারণ ইনফেকশনের ক্ষেত্রে চাইলে ব্যবহারযোগ্য। কিছু প্রাকৃতিক উপাদান যেমন :

- নারিকেল তেল;
- টি ট্রি অয়েল ক্রিম;
- রসুন;
- টকদই (খাওয়া যেতে পারে বা ভ্যাজাইনাল ওয়ালে পুশ করা যেতে পারে);

এসবের ব্যবহারে উপশম আসতে পারে। তবে এসব লাগানোর সময় হাত যেন পুরোপুরি পরিষ্কার থাকে সেদিকে পূর্ণ খেয়াল রাখা চাই।
প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ সবসময়ই ভালো। তাই কিছু ব্যাপারে খেয়াল রাখবেন-

- সুষম খাবার খেতে হবে সবসময়;
- সবসময় ন্যাচারাল ফাইবারের প্যান্টি পড়ুন (যেমন কটন, সিল্ক বা লিনেন);
- মাঝেমধ্যে টকদই খাবেন;
- সুগন্ধিযুক্ত স্যানিটারি সামগ্রী ব্যবহার এড়িয়ে চলুন
- আন্ডারওয়্যার গরম পানিতে ধুতে হবে;
- ভেজা কাপড়ে বেশিক্ষণ থাকবেন না;
- ঘনঘন হট বাথ নিবেন না বা বাথটাবে গরম পানিতে বেশিক্ষণ সময় কাটাবেন না।

-তানভীর