বৃহস্পতিবার,২২ অগাস্ট ২০১৯
হোম / সাহিত্য-সংস্কৃতি / কবিতা
০৩/২৪/২০১৯

কবিতা

-

ছায়াসঙ্গী নেই
-সোহরাব পাশা

কথা নেই বাড়ছে গুঞ্জন
ঠোঁটে তীক্ষ্ম দুর্বোধ্য হাসির প্ররোচনা
বেড়ে যাচ্ছে মেঘের আহ্লাদ, নৈঃশব্দ্যের লোনাজল
নিশ্বাসের নিবিড় মুদ্রণে
পাখিরাও খুঁজে ফেরে জ্যোৎস্না রং প্রিয় রাত্রির যাপন
আলিঙ্গনে লাবণ্যের মগ্ন কোলাহল শরীরের তীব্র ঘ্রাণ
অন্ধকার অমীমাংসিত শূন্যতার অন্ধ নদী
ভেতরে শেকড় নেই, জল ওড়ে হাওয়ার ডানায়
কোথাও পুড়ছে হৃদয় বসন্ত-ভোরের গান, প্রসন্ন বেহালা
পুড়ে যাচ্ছে তোমার চোখের আলো-পড়া মানচিত্র
তুমি নীরবে মুখস্থ করছো অশ্রুর দীর্ঘ পাঠ
অন্য বেলা
দূর ডাকে পেছনের নির্জন দুপুর
গন্তব্যের ছায়াসঙ্গী আজ বাড়ি নেই
বারান্দায় কাত-করা অকেজো মলিন
সাইকেল,
বড়ো বিষণ্ণ গভীর একাকিত্ব নিয়ে ফিরে যায়
ক্লান্ত বিহ্বল পা
অন্য কোনো প্রান্তরের দিকে।

মোম
-রাজু আহমেদ মামুন

ও মোম, ও গলে যাচ্ছ যে মোম
আমি এক প্রাচীন সামান।
বাইসন-গুহা-বনপ্রান্তর থেকে
দীর্ঘ কৃষিভূমি পেরিয়ে পেরিয়ে
দেবতাদের সাথে প্রাচীন নগরে
এসেছিলাম।
একদিন চলে গেছে দেবতারা, তবু
মুঠোভরা সামান্য উত্তাপ নিয়ে
তোমারে খুঁজেছি বহুকাল।
ও মোম, ও গলে যাচ্ছ যে মোম
কি হবে এবার!

বাঁধ ভেঙেছে
-পারমিতা নক্ষত্র


বাঁধ ভেঙে দে, বাঁধ ভেঙে দে।
দে রে দে, দে, দে, দে রে।

যাব আমি আকাশ পাড়ে
সূর্য ধারে
এই আঁধারে
ডুবসাঁতারে
মুক্তো তুলে
আকাশ কপালে
টিপ পরাব রে।
বাঁধ ভেঙেছে রে।
ভেঙেছে, ভেঙেছে,
ভেঙেছে বাঁধ এবারে।

নামব নিচে পাতাল ফুঁড়ে
খুঁজব কোণা, ঘুরব গলি
আনব তুলে হীরক কলি
আঁধার কাটতে রে।
বাঁধ ভেঙেছে রে।
ভেঙেছে, ভেঙেছে,
ভেঙেছে, বাঁধ এবারে।

অপর-প্রবণ
-রাজু আলাউদ্দিন

কেন পর-নারীতে আমার এত লাল আর গোলাকার লোভ জেগে ওঠে?
কেন সাদা নারীতে আমার লোভ পুঞ্জীভূত হয়ে ওঠে শরণার্থী মানুষের মতো?
কেন নিজের জায়ার চেয়ে অন্য নারীরা বেশি প্রিয় মনে হয়?
কেন নিজের দেশের চেয়ে অন্যদেশ বেশি লোভনীয়?
কেন মেঘ চলে যায় দূরে, আরও দূরে তার উৎসভূমি ছেড়ে?
কেন অবৈধ সঙ্গম ছাড়া সুখ নেই কোনো?
কেন অপরের দৌলতে বাসনা প্রবল হয়ে ওঠে?
কেন ধর্মের চেয়ে আজ অধর্মে আমার প্রাণ মুক্তি খুঁজে পায়?
কেন মন ওত পেতে বসে আছে অন্য নারীর প্রত্যাশায়?
কেন মন মজে আছে অন্য কবির কবিতায়?

হে পাঠক, মহাত্মন, অপর-প্রবণ
আরও কিছু খোলামেলা বলবার কথা ছিল এই কবিতায়
তুমি তা একাকী লিখে নিও
দোসর যমজ ভাই আমার।

শাদা নাকফুল
-মাহী ফ্লোরা

সব কাঁপিয়ে যেন মেঘ এসে নামে!
কোথায় রাত্রি নামে সমস্ত দিন
লুকিয়ে রেখেছে মুখ-
শাদা নাকফুল!
দু’একবার তোমাকে পাবার পর যেমন দুহাতভরা শিউলি হলুদ,
কেমন সে রঙ!
শীত খুব শীত ভোরে কে আমাকে ডাকে?
ওঠো জাগো কোলের ভেতর থেকে একা ঘুমবাড়ি, কি করে তোমার কাছে আমি
আমার মন এমন ঘুমোলো, উঠোনে নিকোচ্ছে কেউ কোনো কুয়াশা! ঝমঝম শব্দ কাঁপছি আমি
আমার বুক ;
কি করে তোমার কাছে আমি, আমার মন-
ঘুমোলো ভেবেই উঠে বসে থাকি। গণিত আর গণিতের বই ছাড়া কোথাও নেই একটা সবুজ ডানা।
রূপকথা – যাকে আপন করে আমি কোলে নিতে পারি। সঁপে দিতে পারি মুহূর্ত।
বাহিরে কোলাহল।
আমি জেগে থাকি ভয়ে, কি করে আমার ঘুম তোমার ঘুমের কাছে এসে বসে থাকে!

তল্লাসী
-ইমরান মাহফুজ

চাঁদের সাথে জোছনার পরকীয়া
অনুভবে বাতাসে বাতাসে কথা কয়
প্রার্থনার ডানায় মুখোমুখি হৃদয়।

আমি রোদের বিলি কেটে কাঁপছি
খরজ্বালা বুক খুঁজছে মৌলানার মন
অন্তস্থলেও চলছে তল্লাসী!

র”মির উৎসাহে নাভীতে সাগর
ঠিকঠাক ডুবে যায় তল তলে।

যা কিছু গভীর-তাই রহস্য!