সোমবার,২২ এপ্রিল ২০১৯
হোম / বিবিধ / দৃষ্টি রাখুন, আশপাশে পেডোফিলিক নেই তো!
০৩/২৪/২০১৯

দৃষ্টি রাখুন, আশপাশে পেডোফিলিক নেই তো!

- অনন্যা ডেস্ক:

৫ বছরের দোলা ও ৪ বছরের নুসরাত সাজতে ভালোবাসত। বাড়ির পাশেই খেলছিল এই দুই শিশু। ধর্ষক মোস্তফা ওদের লিপস্টিক দিয়ে সাজানো প্রলোভন দেখিয়ে নিজ ঘরে নিয়ে যায়। ঘরে আগেই বসেছিল মোস্তফার মামাতো ভাই আজিজুল। তারা দুজন মিলে দুই শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। কিন্তু শিশু দুটি চিৎকার শুরুর পর শ্বাসরোধে তাদের হত্যা করা হয়। গত ৭ জানুয়ারি রাজধানীর ডেমরা থানার শাহজালাল সড়কের একটি বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।
একই দিন রাজধানীর তুরাগ থানার ভাবনারটেক এলাকায় বাসায় ফেরার পথে ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের পর পুকুরে ফেলে হত্যা করা হয়। তার আগে ৫ জানুয়ারি রাজধানীর গে-ারিয়ায় দুই বছরের শিশু আয়েশা বাড়ির সামনে খেলার সময় প্রতিবেশী নাহিদ তাকে কোলে করে নিজের ফ্লাটে নিয়ে ধর্ষণ করে ফ্লাটের বারান্দা থেকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে হত্যা করে।
দেশে শিশুকে ধর্ষণ করে হত্যার মতো নৃশংস ও লোমহর্ষক ঘটনা প্রতিনিয়তই বাড়ছে। চলতি বছরের শুরুর তিন দিনে পাঁচ শিশু হত্যার শিকার হয়েছে। আর বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের (বিএসএএফ) তথ্য অনুযায়ী ২০১৮ সালের ১১ মাসে (জানুয়ারি-নভেম্বর) দৈনিক গড়ে ১৩জন শিশু নির্যাতন, দুজন শিশু ধর্ষণ এবং একজন শিশু হত্যার শিকার হয়েছে।
এই পৈচাশিক কর্মকা- কেন বাড়ছে, উত্তর খুঁজতে বেড়িয়ে এলো, এই মানসিক রোগের নাম পেডোফিলিয়া। পেডোফিলিয়া হলো শিশুদের প্রতি যৌন আকর্ষণ। এক্ষেত্রে শিশুর বয়স একদিনও হতে পারে। অথবা ১৬/১৮-এর নিচেও হতে পারে। পেডোফিলিয়ার মূল ব্যাপারটি হলো- এখানে দোষী ব্যক্তিটি হবে পূর্ণবয়স্ক, ভিকটিম হবে ১৬ বা ১৮-এর নিচে। যদি ভিকটিমের কনসেন্ট নিয়েও যৌনকর্ম করে, তবুও এটাকে অপরাধ হিসেবেই ধরা হবে।

পেডোফিলিকদের শিকার কারা?

- অবুঝ (একদিনের বাচ্চা থেকে তিন বছরের বাচ্চা)।
- অভাবী (যাদের পিতামাতার খাবার, কসমেটিক্স বা খেলনা কিনে দেবার সাধ্য থাকে না)।
- মানসিক রোগে আক্রান্ত শিশু।
- অজ্ঞান শিশু (হাসপাতালে বা অন্য কোথাও অজ্ঞান অবস্থায় শিশুকে ধর্ষণ)।
শিকার শুধু মেয়ে হবে এমন নয়। ২০% ক্ষেত্রে ছোট ছেলেরাও ধর্ষণের শিকার হয়। পেডোফিলিক বা দোষী যে সচরাচর ছেলে হবে, তাও নয়। অনেক নারী আছেন যারা পেডোফিলিক হিসেবে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। কাজেই বলা চলে যে, পেডোফিলিকদের মধ্যে নারী-পুরুষ নেই।
কেন এমন করে?
- পেডোফিলিকদের একটি অতীত থাকে। যেখানে নিজেরাই একটা সময় ভিকটিম ছিল।
- প্রি-ম্যাচিউর ইজাকুলেশন কিংবা ইরেকটাইল ডিসফাংশনে ভুগতে পারে। ফলে পূর্ণবয়ষ্ক নারীদের সাথে সফল যৌন সঙ্গমে ব্যর্থ।
- যৌন পার্টনারের সাথে বাজে অভিজ্ঞতার যৌনসম্পর্ক।
- মানসিকভাবে দুর্বল ও হতাশাগ্রস্ত মানুষ।
- দীর্ঘদিনের একাকিত্ব, ফলে নারীদের সাথে মিশতে পারে না।
- বন্ধু-আত্মীয়-সমাজে গ্রহণযোগ্যতা কম।
- মাদকাসক্ত।
- বয়স হওয়া সত্ত্বেও বিবাহ কিংবা যৌনসঙ্গী না থাকা।

কীভাবে রোধ করবেন?

- আপনার শিশুর খেলাধুলার স্থান রাখুন দৃষ্টিসীমার মাঝেই।
- পরিচিত কিংবা অপরিচিত বয়স্ক মানুষের কোলে বসতে দিবেন না।
- আপনার সন্তানকে কেউ চুমু খেতে চাইলে নিরুৎসাহিত করুন।
- আত্মীয় এলে কখনোই একই বিছানায় পাঠাবেন না। আলাদা বিছানায় একা শোবার ব্যাপারটি নিশ্চিত করুন।
- আপনার শিশু কারো সাথে যেতে না চাইলে, কারো প্রতি বিতৃষ্ণা দেখালে ভদ্রতাবশত জোরাজুরি করবেন না।
- আপনার সন্তানকে পিতা-মাতার কাছ থেকে কিছু লুকিয়ে রাখার স্বভাব থেকে মুক্ত করুন। হয়ে যান বেস্ট ফ্রেন্ড। তার সাথে বন্ধুর মতো সকল ধরনের আলোচনা করুন।

- কেউ আদিখ্যেতা দেখিয়ে জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করলে, খাবার লোভ দেখিয়ে কাছে ডাকলে, খেলনা দেবার প্রতিশ্রুতি দেখিয়ে ঘুরতে নিয়ে যেতে চাইলে সতর্ক থাকুন।

এটা ঠিক সবাই পেডোফিলিক নয়। আবার কেউ এই সন্দেহের বাইরেও নয়। তাই সন্তানের নিরাপত্তায় সতর্ক দৃষ্টি রাখুন। আশপাশে পেডোফিলিক কেউ নেই তো?