শনিবার,২৩ মার্চ ২০১৯
হোম / নারী / কুমারখালীর প্রথম শহিদ মিনার তৈরির অন্যতম রূপকার
০৩/০৮/২০১৯

কুমারখালীর প্রথম শহিদ মিনার তৈরির অন্যতম রূপকার

রওশন আরা বেগম নীলা

- ইমাম মেহেদী

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নারীদের অবদান বহুমাত্রিকভাবে। স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় বাংলাদেশের নারীদেরও অসামান্য অবদান রয়েছে। সে-সময়ে কুষ্টিয়া কুমারখালীর নারীরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল। তাঁদের মধ্যে রওশন আরা বেগম নীলা অন্যতম।
পৈতৃক নিবাস কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার ভবানীপুর গ্রামে। কিন্তু যুদ্ধকালীন সময়ে বাবা মায়ের সঙ্গে থাকতেন কুমারখালীর সেরকান্দি গ্রামে। বাবা প্রয়াত জুলমত আলী শেখ বাংলাদেশ রেলওয়ে চাকরি করতেন। মা প্রয়াত রাবেয়া খাতুন ছিলেন গৃহিণী। বাবার চাকরি কারণে পরিবারের সাথে থাকতেন বগুড়ার শান্তাহার শহরে। জন্ম শান্তাহারে ১৯৫৪ সালরে ৬ অক্টোবর ।

১৯৬৮ সালে ৭ মে শান্তাহার থেকে এসে কুমারখালী বালিকা বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ক্লাসে মাত্র ২৬জন ছাত্রী ছিলেন। তখন ৬দফা ভিত্তিতে শাসন ব্যবস্থা দাবি করায় বঙ্গবন্ধুসহ অনেকেরই বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা হয়। বঙ্গবন্ধুসহ তাঁদের অনেকেরই কারাবন্দি করা হয়েছিল। সেই সময় কুমারখালীর স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ও তৎকালীন ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল করিম হান্নানের উৎসাহ প্রেরণায় রাজনীতিতে আসেন তিনি। ১৯৬৮ সালের শেষের ছাত্র রাজনীতির সূচনা হয় রওশন আরা বেগম নীলার। তিনি তখন কুমারখালী সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ছাত্র রাজনীতিতে যোগ দেন। ১৯৬৮-৬৯ সালে প্রায় প্রতিদিনই মিছিল মিটিংয়ে যোগ দিতেন। তখন ৬ দফা ও ১১ দফা মেনে নেয়ার দাবিতে আন্দোলন করতেন। মিছিলে সামনে থেকে স্লোগান দিতেন তিনি। বয়সে ছোট এবং আগ্রহ থাকার কারণে সবাই ভালোবেসে সামনে রাখতেন। ‘জ্বালো আগুন জ্বালো’, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা-তোমার আমার ঠিকানা’, ‘জয় বাংলা’ ইত্যাদি সেøাগানে প্রতিদিন কুমারখালী ধ্বনিত হতো। সে সময়ে মিছিলে মেয়েদের মধ্যে থাকতেন মুসা ডাক্তারের মেয়ে সুফিয়া, ঈসা ডাক্তারের মেয়ে রাহেলা, ঝর্ণা, শিরিনা, দিপালী, রুবীসহ আরো অনেকেই। পুরুষদের মধ্যে থাকতেন আজিজ খান, আজিজ প্রামাণিক, রহিম জোয়ার্দ্দার, রেজাউল করিম হান্নান, যদবুয়রার আব্দুল মজিদ, নন্দ গোপাল বিশ্বাস, মসলেম, পান্না, টুনু, টগর, নান্নু, সাত্তারসহ আরো অনেকেই। মাঝে মাঝে বাঁশগ্রামের আব্দুল বারী, কুষ্টিয়ার দুদু ও গিয়াস মিন্টু, মমিন মিছিলে এসে যোগ দিতেন তাঁদের সাথে জানালেন তিনি।

বঙ্গবন্ধুকে কারা মুক্তকরাসহ ৬দফা ১১দফার আন্দোলন একসময়ে ৬৯’র গণঅভ্যুত্থানের রূপ নিয়েছিল। তারপর ১৯৬৯ সালে ২২ ফেব্রুয়ারি শনিবার দুপুর ২টার সময় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু মুক্তি পাওয়ার খবর শুনে আনন্দ মিছিল করেন তাঁরা।
১৯৬৮ সালের ২১ফেব্রুয়ারির কয়েকদিন আগে তৎকালীন ছাত্রলীগ সভাপতি রেজাউল করিম হান্নানের নেতৃত্বে একটি শহিদ মিনার তৈরি হয়েছিল কুমারখালীতে। সেটিই ছিল কুষ্টিয়ার প্রথম শহিদ মিনার। নির্মাণ কাজে সহযোগিতায় ছিলেন রওশন আরা বেগম নীলা, নন্দ গোপাল বিশ্বাস, অসম ওয়াহেদ পান্না, মসলেম, বজলুল করিম টগর, ফজলুল করিম নান্নুসহ ছাত্রলীগের কিছু কর্মী। শহিদ মিনার তৈরি করতে সার্বিক সহযোগিতা করেছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম গোলাম কিবরিয়া, মুন্সী রশিদুর রহমান ও বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী। ২১শে ফেব্রুয়ারি দিনে শহিদ মিনারটি সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম গোলাম কিবরিয়া আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। তারপর রওশন আর বেগম নীলাসহ স্কুলের সহপাঠীরা মিলে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। কিন্তু ১৯৭১ সালে যুদ্ধের সময় পাক হানাদার শহিদ মিনারটি ভেঙে ফেলে।
১৯৭০ সালে এসএসসি পাস করে জুলাই মাসে কুমারখালী মহাবিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার মধ্যদিয়ে ছাত্ররাজনীতিতে আরো সক্রিয় হন তিনি। ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে প্রাণপণ দিয়ে দেশের জন্য কাজ করেন। নির্বাচনের সময় তাদের বাড়িতে বাড়িতে ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম ও তাঁর সহধর্মিণী, আক্কাস উকিল; তাঁর সহধর্মিণী, নূরে আলম জিকু এবং তাঁর সহধর্মিণী, কালাম, এনামুল, সুফিয়া, রুবীসহ আরো অনেকেই নিয়মিত আসা-যাওয়ার কারণে তাঁদের সান্নিধ্য পান তিনি।

প্রথমে ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসম আবদুর রব পতাকা উত্তোলন করলেন। পরের দিন ৩ মার্চ কুমারখালীতে স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক রেজাউল করিম হান্নান শহরের গণমোড়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করলেন। তখন সেখানে মরহুম গোলাম কিবরিয়া, নন্দ গোপাল বিশ্বাস, আসম ওয়াহেদ পান্না, বজলুল করিম টগর, ফজলুল করিম নান্নু, মসলেম ভাইয়ের সাথে তিনি ও উপিস্থিত ছিলেন। রেডিওতে ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণে শোনার পরে স্বাধীনতার জন্য দৃঢ়প্রত্যয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ হন তিনি। সে সময়ে কিছু সুবিধাবাদী, মৌলবাদী তারা পিস কমিটি, আলবদর, আল সামস্, রাজাকার বাহিনী গঠন করে। ৭ এপ্রিল কুমারখালীতে বোমা হামলা চালায় পাকবাহিনী। সেই বোমা হামলাতে তেবাড়িয়ার ওমর আলীসহ আরো চারজন মৃত্যুবরণ করেন।
সাক্ষাতের এক পর্যায়ে রওশন আরা বেগম নীলা জানালেন, আমার বাবা আমাদের নিয়ে ভীষণ সমস্যায় পড়েছিলেন। তখন আমাদের নিরাপত্তা ছিল না। তাই বাবা আমাদেরকে নিয়ে এপ্রিল-জুন এই তিন মাস যদুবয়রা ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামে নানির বাড়িতে রেখে আসেন। ইতোমধ্যে বাড়িতে বর্ষার পানি এসে গেল। আমরা তখন কুন্ডুপাড়ার ইসা ডাক্তারের বাড়িতে অবস্থান করেছিলাম। পৌরসভায় পাকিস্তানি বোম পুলিশের ক্যাম্প ছিল। প্রায়ই সিদ্দিক বিহারী এসে জানতে চাইতেন আমার সাথে মুক্তি বাহিনীর কোনো যোগাযোগ আছে কিনা? আমার মা উর্দূতে তাদের সাথে কথা বলতেন।
আমরা ইসা ডাক্তারের বাড়ির নিচের তলায় ছিলাম। দোতলায় থাকতেন জেএনহাই স্কুলের শিক্ষক মতিয়ার মাওলানা। তিনি পিচ কমিটির সদস্য ছিলেন। তার তিন ছেলে গালিব আলবদর, নাকিব আল সামস ও সাকিব রাজাকার বাহিনীতে ছিলেন। একারণে কৌশলগত কারণে আমরা বিপদমুক্ত ছিলাম।
ভাদ্র আশ্বিন মাসের দিকে আব্বা বাটিকামারা রেলগেইট থেকে নৌকায় করে ঘাসখাল মঞ্জু সাত্তারের বাড়িতে রেখে আসলেন আমাদের। পনেরদিন সেখানে নির্ভয়ে ছিলাম। ওখানে আমি, সুফিয়া, রাহেলার খালা রুবীসহ কয়েকজন কাটা রাইফেল ও গ্রেনেড ছোড়ার ট্রেনিং নিয়েছিলাম। আমাদের ট্রেনিং দিয়েছিল মুক্তিযোদ্ধা পরিমল, গণি, মঞ্জু সাত্তার, রাজ্জাকদের কাছ থেকে। আমি যেহেতু আগে থেকেই মিছিল মিটিং করতাম। এ কারণে আমি খুব সাহসের সাথে আগ্রহী হয়ে ট্রেনিং করলাম।

৭ ডিসেম্বর আমাদের জন্য ভীষণ ভয়ংকর দিন ছিল। হঠাৎ দুপুর ১২টার সময় মুক্তিযোদ্ধারা কুমারখালী আক্রমণ করল। কুন্ডুপাড়ায় আমাদের বাসায় এসেছিল। আমি ও আমার ছোটভাই সাবু মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দিয়ে পানি খাওয়াচ্ছিলাম। আমার মা তাঁদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেলেন। হঠাৎ মুক্তিযোদ্ধারা দ্রুত কুমারখালী ছেড়ে চলে গেল। ঠিক তার এক ঘণ্টা পরেই রাজাকারদের আগমন। পাকিস্তানি দোসরেরা কুষ্টিয়ায় প্রশিক্ষণে ছিল। পাকিস্তান জিন্দাবাদ, ইয়া আলী ইয়া আলী বলতে বলতে মানুষ হত্যা শুরু করল। কিছুক্ষণ পরেই দেখলাম কুন্ডুপাড়ার পিন্টু মাস্টারের বাড়ির দোতলায় উঠে পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিল। চারিদিকে গোলাগুলির আওয়াজ। কান্নাকাটি চিৎকারের শব্দ কানে ভেসে এল। চারিদিকে রাজাকারেরা ইয়া আলী, ইয়া আলী বলে চিৎকার করছিল আর দরজা ভাঙছিল। ওইদিনই নীলু ভাইয়ের বাবা ননী মিয়া, বাবু, জামাল সাহেব ও নতুন উকিলের বড়ভাই স্বপনকে হত্যা করল। বিকেলবেলা আমার আব্বা আছরের নামাজ আদায় করতে বসেছেন। আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি নদীর ওপারে নানার বাড়ি চলে যাব বলে। হঠাৎ বাইরে থেকে ভীষণ রকমের দরজা ধাক্কাতে লাগল। তখন আমার আব্বা নামাজ ছেড়ে দরজা খুলে দিলেন। আমরা ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে থাকলাম। চারজন রাজাকার আমাদের বাড়িতে প্রবেশ করে সব ঘরে তল্লাশী শুরু করল। তারা উপর তলায় গিয়ে মতিয়ার মাওলানার খবর নিয়ে এসে এক রাজাকার আমার কপালে রাইফেল ঠেকিয়ে বলল, তুই বেশি পেকে গেছিস। মেরেই ফেলবো তোকে। হঠাৎ আমার কলেজের সহপাঠী এক রাজাকার এসে রাইফেল সরিয়ে দিয়ে বলল মেয়ে মানুষের মেরে কী করবেন? তার দয়ায় আমি জীবন ফিরে পাই। একটু পরেই আমার আব্বা পিছনের দরজা খুলেছিল। সামনে বুলবুল টেক্সটাইলের রফিক ভাইদের বাসা আর ডানে মনসুর ডাক্তারের বাসা। দরজা খোলা মাত্রই মনসুর ডাক্তারের বড় ছেলে ফিরোজ রাজাকার রাইফেল ধরে গুলি করার জন্য। সেবারও বেঁচে গেলাম।

১৪ ডিসেম্বর আমরা সপরিবারে পুরাতন চড়াইকোল বাছের ম-লের বাড়িতে চলে গেলাম। যাওয়া সময় দেখলাম মনসুর ডাক্তারের ছোট ছেলে খুশি বাটিকামারা যুদ্ধে মারা গিয়েছে। ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হলে বাড়ি ফিরে এলাম
১৯৭৪ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কুষ্টিয়া জনসভায় সার্কিট হাউজে আমরা নারী নেত্রীরা মিলে সাক্ষাৎ করেছিলাম। সব মেয়েরাই বঙ্গবন্ধুকে সালাম করছিল, আমিও করলাম। বঙ্গবন্ধু পা স্পর্শ করাতে তিনি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে আশীর্বাদ করেছিলেন। এটি আমার জীবনের পরম পাওয়া ছিল।
জয়িতা রওশন আরা বেগম নীলার জীবনের গল্প এখানেই শেষ নয়। দেশ স্বাধীন হলে কুমারখালী ডিগ্রি কলেজ থেকে ১৯৭২ সালে এইচএসসি পাস করেন। ১৯৭৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কুমারখালীর প্রয়াত রশিদার রহমান ও জাহানারা বেগমের সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম হান্নানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। ১৯৭৫ সালে একই কলেজে থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। দুই বছর দুর্গাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করে করেন।

পরে শিক্ষকতা চাকরি ছেড়ে সরকারি চাকরি করেন দীর্ঘ ৩৫ বছর। ২০১১ সালের ৩০ নভেম্বর চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। ২০১১ সাল থেকে বাংলাদেশ নারী পরিষদের কুমারখালী শাখার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে পালন করছেন। নারী পরিষদের মাধ্যমে সমাজ থেকে বাল্যবিয়ে নিরোধ, নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে গ্রাম থেকে গ্রামে চষে বেড়ান মহীয়সী এ নারী। সেই ছোটবেলা থেকেই মানুষের কল্যাণে কাজ করে চলেছেন তিনি। ১৩৭০ বঙ্গাব্দে (১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দে) কুমারখালী জেএন হাই স্কুলে নির্মিত কুমারখালীর প্রথম শহিদ মিনার নির্মাণেরও অন্যতম রূপকারও তিনি। কুমারখালীর ইতিহাসে বেগম রওশন আরা নীলার নামটি স্মরণীয় হয়ে আছে ইতিহাসে।
মহীয়সী এ নারী এখন নিরন্তর ছুটে চলেছেন সমাজের অসহায় পিছিয়ে পড়া, সুবিধাবঞ্চিত হতদরিদ্র নারীদের কল্যাণে। বাল্যবিয়ে বন্ধ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার এ নারী দিন নেই রাত নেই আন্দোলন সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে এবং ইতিহাস-ঐতিহ্য সংস্কৃতি-মুক্তিযুদ্ধের ওপর যারা কাজ করে যাচ্ছেন তাদের নানাভাবে সহযোগিতা, পরামর্শ দান করে যাচ্ছেন। সংসার জীবনে মহীয়সী এই নারীর গর্ভে জন্ম নিয়েছে দুটি সন্তান। মেয়ে শারমিনা পারভীন কেকা। ছেলে রেফুল করিম। তারাও সমাজ সংস্কৃৃতির সঙ্গেই আছেন। বর্তমানে পরিবার নিয়ে থাকেন কুমারখালী উপজেলার দূর্গাপুর গ্রামে হান্নান কটেজে। সমাজ সেবায় বিশেষ অবদানের জন্য ২০১৬ সালে কুষ্টিয়া জেলার শ্রেষ্ঠ জয়িতা নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।