শনিবার,২৩ মার্চ ২০১৯
হোম / বিবিধ / মাথায় উকুন? ঘরেই আছে সমাধান
০৩/০৮/২০১৯

মাথায় উকুন? ঘরেই আছে সমাধান

-

মাথায় উকুন কম বিব্রতকর সমস্যা নয়। মাথায় উকুন হলে সারাদিন মাথা চুলকায় এবং যার ফলে একটা অস্বস্তির মধ্যে দিন কাটে। বেশির ভাগ সময় দেখা যায় যে, প্রথমে বাড়ির বাচ্চাদের উকুন হয়ে থাকে। তারপর সবার মাথায় আস্তে আস্তে ছড়ায়।

মাথায় উকুন আসার পর ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে ডিম পাড়ে। এরপর ১০ দিন সময় লাগে উকুন বড় হতে। একসঙ্গে ডিম থেকে উকুন হওয়ার কারণে অনেক দ্রুত চুলে উকুন ছড়িয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে যতই উকুননাশক প্রসাধনী ব্যবহার করেন, উকুন বারবার ফিরে আসে।

আর এই প্রসাধনীতে নানাধরনের রাসায়নিক দ্রব্য থাকার কারণে চুলেরও মারাত্মক ক্ষতি হয়। অথচ ঘরোয়াভাবেই এটা থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে।

নিম আর তুলসি

আট থেকে দশটি নিমের পাতা ও একই পরিমাণ তুলসিপাতা ছেঁচে রসটা বের করে নিন। রসটা আলাদা করে নিয়ে তার মধ্যে খানিকটা নারিকেল তেল মিশিয়ে হালকা গরম করুন তারপর তা মাথার তালুতে আলতো করে লাগান। এটা রাতে করলেই সাধারণত ভালো হয়। তাতে করে সারারাত রেখে সকাল বেলা শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেললে ভালো ফল দেয়। এভাবে সপ্তাহে দুবার করুন, উকুন দূর হবে। আবার ধোয়া চুল নিমপাতা সিদ্ধ পানি দিয়ে ধুলেও কাজে দিবে। পানিতে বেশি করে তেজপাতা দিয়ে আধা ঘণ্টা ফুটিয়ে ছেঁকে নেবেন। এতে মাথায় কোনো ছত্রাকের আক্রমণ থাকলে তাতেও কাজে দিবে। কারণ নিমে আছে এন্টিব্যাক্টেরিয়াল ও এন্টিমাইক্রোবায়াল এজেন্ট। আর তুলসি আপনার মাথার তালু ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।

কাজুবাদাম আর লেবু

আপনার চুলের পরিমাণ অনুযায়ী কিছু কাজুবাদাম ছেঁচে পেস্ট তৈরি করুন। তারপর তার সাথে লেবুর রস মিশিয়ে মাথার তালুতে লাগিয়ে ঘণ্টা দুই লাগিয়ে রাখুন। তারপর সাধারণ শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। কাজুবাদাম থেকে বের হওয়া তেল আপনার চুলের পুষ্টি জোগাবে ও উকুন মারতে সাহায্য করবে। আর লেবুর অ্যাসিডিক উপাদান উকুনের ডিম মেরে ফেলবে।

নারিকেল তেল ও কর্পূর

উকুন তাড়ানোর জন্য নারিকেল তেলের কোনো জুড়ি নেই। নারিকেল তেল উকুনের শ্বাসরোধ করতে সাহায্য করে। আর কর্পূরে আছে এন্টিপ্যারাসিটিক উপাদান। রাতে ৩-৪ চামচ নারকেল তেল এবং কর্পূর গরম করে তা চুলে এবং মাথার তালুতে ভালো করে লাগাতে হবে। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে শ্যাম্পু করতে হবে। সপ্তাহে কয়েকদিন নিয়ম করে এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে উকুন থেকে মুক্ত মিলবে।

পেট্রোলিয়াম জেলি

নারিকেল তেলে অনেকের অ্যালার্জি থাকে। তাই তাদের জন্য উকুন তাড়ানোর বিকল্প পদ্ধতি হলো পেট্রোলিয়াম জেলি। পেট্রোলিয়াম জেলি দিয়ে নারিকেলের তেলের মতো পদ্ধতিতে উকুন তাড়ানো সম্ভব। সকালে বেবি অয়েল দিয়ে চুল ম্যাসাজ করে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন, চুলের উকুন ও উকুনের ডিম সহজেই দূর হবে। কিন্তু পেট্রোলিয়াম জেলি পরিষ্কার করা বেশ ঝামেলার কাজ। বেশ কয়েকবার ধোয়ার পরেও তা পরিষ্কার হতে চায় না। তবে, যাদের চুল ছোট তাদের জন্য পেট্রোলিয়াম জেলি একটি ভালো উপাদান হিসেবে কাজে দিতে পারে। কেননা তাদের ক্ষেত্রে পরিষ্কার করার ঝামেলা তুলনামূলকভাবে কম।

অন্যান্য টোটকা

পিঁয়াজ ও রসুনেও আছে উকুন মারার কার্যকরি উপাদান। উকুনের উপদ্রব দমন করার জন্য রসুনের ব্যবহার প্রাচীন এবং বেশ কার্যকরী। দুটির কোনো একটি পেস্ট করে চুলের গোড়ায় লাগাতে পারেন। তবে পিঁয়াজ বা রসুন দুই ক্ষেত্রেই আপনাকে এর কড়া গন্ধ সহ্য করতে হবে। আবার ভিনেগার দিয়েও উকুন নাশ করা যায়।
যেদিন চুলে এসবের কোনো একটা করবেন, সেদিন আপনার বিছানার চাদর, বালিশের কাভার, চিরুনি ও অন্যান্য সামগ্রী ধুয়ে ফেলবেন গরম পানি দিয়ে, যেন এসব কাপড়ে রয়ে যাওয়া উকুন বা উকুনের ডিম চুলে ফেরত আসতে না পারে।

-রিয়াদুন্নবী শেখ