শনিবার,২৩ মার্চ ২০১৯
হোম / বিবিধ / দেশীয় ফুটবলে মিরোনার জয়যাত্রা
০৩/০৮/২০১৯

দেশীয় ফুটবলে মিরোনার জয়যাত্রা

-

দেশের ফুটবলে নতুন দিগন্তের সূচনা করে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো পুরুষ ফুটবল দলের কোচ হলেন বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের সাবেক মিডফিল্ডার মিরোনা। কাগজে কলমে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের দল ঢাকা সিটি এফসির প্রধান কোচ হয়েছেন তিনি। নিজের এই অর্জনে উচ্ছ্বসিত মিরোনা দেখছেন ভবিষ্যতে আরও দূরযাত্রার স্বপ্ন।
ফিফার আইন অনুযায়ী চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে কোনো দলের কোচ হবার পূর্বশর্ত হচ্ছে ‘বিক্যাটাগরির লাইসেন্স। কিন্তু দলটির কোচ নোমান নান্নুর লাইসেন্স ‘সি’ ক্যাটাগরির, যা মিরোনার সামনে খুলে দিয়েছে সম্ভাবনার দুয়ার। ‘বি’ ক্যাটাগরির লাইসেন্সধারী মিরোনাকেই দলের কোচ হিসেবে নিয়োগ করেছে দলটি। ফলে দেশের ইতিহাসে প্রথম নারী হিসেবে কোনো পুরুষ ফুটবল দলের কোচ হবার কীর্তি গড়েন নৌবাহিনীর সাবেক এই খেলোয়াড়।

বাগেরহাটের মেয়ে মিরোনা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর খেলোয়াড় হিসেবে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে প্রথমবারের মতো পা রাখেন নিজ জেলা দল বাগেরহাটের প্রতিনিধি হিসেবে। এরপর তার পা পড়েছে জাতীয় ফুটবল দলেও। ২০০৯ সাল থেকে নারী দলের মিডফিল্ডার হিসেবে মাঠ কাঁপিয়েছেন তিনি। ২০১৬ সালে জাতীয় দল থেকে অবসরে যান মিরোনা।
পদচারণা ছিল অ্যাথলেটিকক্সেও। জাতীয় ফুটবল দল থেকে অবসর গ্রহণের পর নৌবাহিনী এবং বিজেএমসির হয়ে খেলেছেন তিনি। সাফল্য এখানেও এসে লুটিয়ে পড়েছে তার পায়ে। দুই দলের হয়ে ১৩টি স্বর্ণপদক জয় করেছিলেন তিনি।
নতুন ক্যারিয়ারের শুরুটা তেমন আশানুরূপ হয়নি তার। প্রথম ম্যাচেই ফরাশগঞ্জের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে তার দল। তবে মিরোনার আশা ভালো কিছুরই। গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মিরোনা জানান, ‘আমি ভালো কাজ করলে দল ভালো করবে। ফলাফল অনুকূলে আসবে। দলকে চ্যাম্পিয়ন করতে পারলে বিপিএলে খেলার সুযোগও আসবে।’ আপাতত এ চিন্তাই খেলে যাচ্ছে মিরোনার মগজে।
মাত্র ২৬ বছর বয়সেই কোচিং জগতে চলে আসা মিরোনা জানালেন জাতীয় দলের খেলোয়াড় থাকাকালীন সময়েই কোচিং ক্যারিয়ারের প্রতি আকৃষ্ট হন তিনি। মিরোনা বলেন, ‘আসলে আমি যখন নিয়মিত জাতীয় দলে খেলছি তখনই আমাদের দেশে পুরুষ-নারী উভয়ের জন্যেই কোচিং বিষয়ক কর্মশালা শুরু হয়। তো আমাদের নারী ফুটবল উইংয়ের সেক্রেটারি মাহফুজা আক্তার কিরণ আপাউৎসাহ দিয়েছিলেন কোর্সটা করার জন্য। তার উৎসাহেই মূলত কোচিংয়ের দীক্ষা নিই।’

ছেলেদের ফুটবলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় একে বড় অর্জন হিসেবেই দেখছেন মিরোনা। পুরুষ দলের কোচ হিসেবে একজন নারীকে দায়িত্ব দেওয়ার ব্যাপারে ক্লাবটির সাধারণ সম্পাদক শামস উদ-দোজা খান জানান মিরোনার প্রতিভাতেই মূলত মুগ্ধ হয়েছিল ক্লাবটি। তার ভাষায়, ‘তাকে আমরা আগে থেকেই চিনতাম। সে দারুণ প্রতিভাবান একজন মেয়ে। মূলত কোচ হিসেবে তার প্রতিভা দেখে মুগ্ধ হয়েছি আমরা। সে মেয়ে না ছেলে সে হিসেব করিনি। অল্পেতেই ছেলেদের অনুপ্রাণিত করতে পারে সে, সে ভাবনা থেকেই আমরা তাকে দায়িত্ব দিয়েছি।’
খেলাধুলায়, বিশেষত ফুটবলের মতো খেলা যেখানে শারীরিক উচ্চতা ও গড়ন বেশ বড়সড় একটা ভূমিকা পালন করে, সেখানে ৪ ফুট ৮ ইঞ্চি উচ্চতাও মিরোনার অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে হার মেনেছে।
তবে নিজের শারীরিক গড়ন নিয়ে যে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের কথা শুনতে হয়নি তাকে, ব্যাপারটা মোটেও তেমন নয়। মিরোনা জানালেন সেসবকে খুব সযত্নে পাশ কাটিয়ে চলেছেন সব সময়। ডিসিএফসি কোচের ভাষায়, ‘পেশাদার খেলোয়াড়দের শারীরিক গড়ন সাধারণ মানুষদের চেয়ে আলাদাই হয়। এ নিয়ে খুব বাজে মন্তব্য করে মানুষ, যা ভাষায় প্রকাশের অযোগ্য। কিন্তু বড় অর্জনের লক্ষ্যে এসবকে পাশ কাটিয়েই খেলে যেতে হয় আমাদের।’
বাগেরহাটের মেয়ে মিরোনার সামনে সুযোগ ছিল ভারতের একটি রাজ্যদলের কোচিং করানোরও। কিন্তু সে প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে দেশীয় দল ঢাকা সিটি এফসিকে কোচিং করানোকেই প্রাধান্য দেন তিনি।
দেশের পুরুষ ফুটবলের ইতিহাসে প্রথম নারী কোচ জানালেন এখানেই নিজেকে সীমাবদ্ধ করতে চান না তিনি। হালে বি ক্যাটাগরির লাইসেন্স থাকলেও অচিরেই সেটিকে এ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করার আশাবাদও ব্যক্ত করেন।

-আহমাদ সাঈদ