শনিবার,২৩ মার্চ ২০১৯
হোম / ভ্রমণ / কলকাতা-ট্র্যাভেল গাইড
০৩/০৭/২০১৯

কলকাতা-ট্র্যাভেল গাইড

-

ভৌগোলিক এবং কৌশলগত কারণে ব্রিটিশ শাসনামলে কলকাতাকে ভারতবর্ষের রাজধানী করা হয়েছিল। সেই শহর বর্তমানে ভারতের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবেও অনেকের কাছে সমাদৃত। কলকাতা একই সাথে আধুনিক এবং ঐতিহাসিক স্থানও বটে।

হুগলী নদীকে ঘিরে এই শহর চলছে আপন গতিতে। আছে হাজারো মানুষ এবং হাজারো নিদর্শন। ভ্রমণ প্রেমিকরা কলকাতার প্রেমে পড়ে যায় সহজেই। প্রাণের শহর কলকাতা ঘুরে আসতে কী করবেন না করবেন বলে দেই আজ।

কোথায় যাবেন?

বাঙালি এবং ব্রিটিশরা মিলে কলকাতাকে অসাধারণ রূপ দিয়েছে বটে। ভাস্কর্য, প্রাচীন দালানকোঠা, মসজিদ, মন্দির, গির্জা কিংবা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, কী নেই কলকাতায়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যেরও কমতি নেই শহরের আশপাশে। আনন্দের এই শহরে বিরক্ত হওয়ার জায়গা নেই বললেই চলে। অজস্র ঘোরার জায়গার মধ্যে কিছু আকর্ষণীয় জায়গার সাথে পরিচয় করিয়ে দেই।

ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল

তাজমহলের সুদৃশ মার্বেল পাথরের তৈরি ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল ব্রিটিশ রাজ্যের সেই হারানো ঐতিহ্যের অবশিষ্টাংশ। ভারতের ক্লাসিক গম্বুজ স্থাপত্যের সাথে ইউরোপিয়ান রেনেসাঁর মেলবন্ধন খুঁজে পাবেন এই বিশাল আকৃতির প্যালেসে। ভেতরে সংরক্ষিত আছে বেশ কিছু তৈলচিত্র আর সুবিশাল বাগানের মাঝে সূক্ষ্ম কাজের ভাস্কর্য। ভিক্টোরিয়ান আমলের জাঁকজমকপূর্ণ স্থাপত্যশৈলী দেখতে চাইলে অবশ্যই ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল ঘুরে আসতে হবে।

ঠাকুর বাড়ি

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিজ বাড়ি কলকাতার ঠাকুর বাড়ি। ১৭৮৪ সালে নির্মিত এই বাড়ি বর্তমানে একটি অসাধারণ জাদুঘর-এ রূপান্তরিত করা হয়েছে। রবিঠাকুরের নিজের হাতে আঁকা চিত্র, ব্যবহৃত আসবাবপত্র এবং অন্যান্য জিনিস আছে এই জাদুঘরে। তথ্যের ভা-ারও আছে এর ভেতর, যা দেখে বিশ্বকবির ব্যাপারে জানতে পারবেন অনেক অজানা তথ্য।

ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম

ভারতের সবচেয়ে প্রাচীন জাদুঘর কলকাতাতে অবস্থিত। প্রাচীন স্থাপত্যশৈলী অনুসরণ করে নির্মিত এই মিউজিয়ামের সামনে আছে আকর্ষণীয় বাগান আর এর ভেতর আছে যিশুর জন্মের দুই শতাব্দী আগের ভাস্কর্য, মিশরের মমি, মহেঞ্জোদারোর ধ্বংসাবশেষ এমনকি প্রাচীন ম্যামথের ফসিল। মিউজিয়ামের ভেতর ঘুরতেই প্রায় পুরো দিন কেটে যাবে আপনার।

কলকাতা বোটানিক্যাল গার্ডেন

আঠারো শতাব্দীতে নির্মিত বোটানিক্যাল গার্ডেনটি এককালে ব্রিটিশরা ব্যবহার করত চা নিয়ে গবেষণা করতে। বর্তমানে সেখানে প্রায় ১২,০০০ বিরল প্রজাতির গাছ আছে। অ্যামাজনের লিলি, সিডার প্লাম ইত্যাদি গাছ ছাড়াও বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আনা উদ্ভিদ আছে সেখানে। পর্যটকরা গার্ডেনের মাঝে দিয়ে নৌকায় করে ঘুরে বেড়াতে পারবেন। পুরো বাগানজুড়ে বেশ কিছু সুন্দর ছবি তোলার স্থান আছে।

খাওয়া-দাওয়া

কলকাতার কসমোপলিটান অঞ্চলে সব রকম খাওয়ার ব্যবস্থা আছে। তবে খাঁটি বাংলা খেতে চাইলে যেকোনো ভাতের রেস্তোরাঁয় ঢুকে গেলেই হবে। চিংড়ি মালাই, বাটার চিকেন, হারিয়ালি কাবাব, শর্ষে ইলিশ, শাপলার ভর্তা কিংবা ডমিনোজের পিজ্জা, সব আছে কলকাতায়। চাওমিন নুডলস, পানি পুরি কিংবা গরম পাকোড়ার জন্য স্ট্রিট কার্টের বিকল্প নেই। কলকাতার স্ট্রিট ফুড মার্কেট সর্বদা আপনাকে গরম খাওয়া পরিবেশন করতে প্রস্তুত। শহরের প্রতি গলিতেই টাটকা দুধের চা পাওয়া যায়। কলকাতা গেলে খাওয়াদাওয়া নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই।
নাইট লাইফ

হোটেল থেকে সন্ধ্যার পর বের হলেই শুনতে পাবেন গানের মূর্ছনা। কোনটাতে বাংলা ক্লাসিক্ কিংবা কোনখানে মডার্ন ইলেক্ট্রিক মিউজিক। পার্ক স্ট্রিটের কাছে আছে থিয়েটার আর সল্ট সিটির মধ্যে রঙিন আলোর ছড়াছড়ি। রাস্তার ধারেও মিউজিশিয়ানদের সাথে বসে সুন্দর সময় কাটিয়ে আসতে পারেন। কলকাতার নাইট লাইফ অত্যন্ত আকর্ষণীয়। এই অভিজ্ঞতা নিতে ভুলবেন না।

শপিং

হগস মার্কেটে পাবেন সিল্কের শাড়ি এবং হরেকরকম ঘর সাজানোর জিনিস। হুগলীর পাড়ে মালিকের ঘাটে পাবেন জগতের যত ফুল। হাতিবাগান মার্কেটে আছে কটনের কাপড়ের বাজার আর তার পাশেই গয়নাগাটির দোকান। মার্কেটিং করতে হলে কলকাতার বিকল্প নেই। আগে থেকে লিস্ট করে নিয়ে গেলেই হবে। মার্কেট খুঁজে পেতে চাইলে হলুদ ক্যাবের ড্রাইভারদেরকে বললেই হবে। পুরো শহর যেন তাদের হাতের মুঠোয়।

কখন এবং কিভাবে যাবেন?

অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারির কলকাতা যাওয়ার উপযুক্ত সময়। হাল্কা ঠান্ডার মধ্যে শহরের আনাচেকানাচে ঘুরে বেড়াতে বেশ আনন্দ পাবেন। তাছাড়া শীতকালে পুরো শহরজুড়ে সংগীতানুষ্ঠান, নাট্যোৎসব এবং অন্যান্য ফেস্টিভ্যাল চলতেই থাকে। বড়দিন এবং ইংরেজি নববর্ষের সময় কলকাতা হয়ে ওঠে এক জীবন্ত শহর। শীতের মৌসুমে মার্কেটে বছর শেষের ডিস্কাউন্ট বেচাকেনা চলে সবখানে। তাই এই সময় বিয়ের বাজার কিংবা শখের শপিং করতেও যেতে পারেন। বাংলাদেশ থেকে কলকাতা যেতে ট্রেন, বাস কিংবা প্লেনে করে যেতে পারবেন। অন্তত পনেরো দিন সময় নিয়ে ইন্ডিয়ান ভিসার জন্য কাজ শুরু করে দিতে হবে। ইন্টেরনেটে ভিসার জন্য সকল তথ্য জমা দিয়ে সিøপ নিয়ে পাসপোর্টসহ জমা দিতে হবে যে-কোনো ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশান সেন্টারে। মোবাইলে যোগাযোগ করলে ভিসাসহ পাসপোর্ট সংগ্রহ করে আনতে হবে। ভিসার জন্য আবেদন করার আগেই ট্রেন, বাস কিংবা প্লেনের টিকেট বুক করে রাখতে হবে।

--কাজী মাহদী