শনিবার,২৩ মার্চ ২০১৯
হোম / বিবিধ / বিশের কোঠাতেই হোক সঞ্চয়ের শুরু
০৩/০৫/২০১৯

বিশের কোঠাতেই হোক সঞ্চয়ের শুরু

-

পড়াশোনার পাট চুকিয়ে মাত্র চাকরিজীবন শুরু করেছেন এমন মানুষদের কাছে আর যাই হোক ‘সেভিংস’ ব্যাপারটা এখনই অতটা মুখ্য হয়ে ওঠার কথা না। হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া বিশ-পঁচিশ বয়সের তরুণরা টাকা জমানোর চেয়ে খরচেই প্রায় পুরোটা ফোকাস দিয়ে থাকেন, সেভিংস বা অবসরের পরের চিন্তাভাবনা অনেকের কাছেই তাই কয়েক আলোকবর্ষ দূরের বিষয়। তবে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা বলছেন একেবারে ভিন্ন কথা। জীবনের প্রতিটি পর্যায়কে আনন্দময় করে তুলতে সেভিংস-এ মনোযোগ দিতেই হবে, আর তার মোক্ষম সময় এখনই!

তেইশ-চব্বিশ পর্যন্ত পড়াশোনা, পঁচিশে চাকরি, সাতাশ-আটাশে বিয়ে, পরের বছর ত্রিশ চাকরি এবং সবশেষে অবসর; জীবনকে গতানুগতিক কিছু সময়ের হিসেবে বেঁধে ফেলে ব্যস্ত জীবন কাটে আমাদের। কিন্তু কখনো কী ভেবে দেখেছেন ‘অবসর’ শব্দটা জীবনে আসতে আসতে বয়সের ঘর যখন ষাটে পৌঁছে যাবে তখন আদৌ কি জীবন উপভোগের শক্তি, সামর্থ্য থাকবে? যদি থেকেও থাকে তবে টাকা-পয়সার হিসাব মেলানো যাবে তো? সঞ্চয়ের চিন্তা যে বয়স থেকে করবেন ভাবছেন তখন সামগ্রিক অবস্থা কি সহায়ক হবে? আদৌ অবসর জীবন নির্ভারভাবে কাটানোর মতো টাকা জমা থাকবে? এতশত প্রশ্ন ও অনিশ্চয়তার মারপ্যাঁচ এড়ানোর জন্য যা করতে পারেন তা হলোÑ কর্মজীবন শুরু হওয়ার সাথে সাথে খরচের পাশাপাশি সঞ্চয়ের চিন্তা। এমন চিন্তায় কতটা সুফল মিলবে তা জানিয়ে দিচ্ছি এখনই।

হাতে সময় যতবেশি, সঞ্চয়ও ততবেশি

সিম্পল ম্যাথ, যতবেশি সময় ধরে ধারাবাহিক সঞ্চয় করবেন, জমাকৃত টাকার পরিমাণও বেশি হবে। অধিকাংশ ব্যক্তিই সঞ্চয়ের চিন্তাভাবনা শুরু করেন মধ্য ত্রিশ থেকে। স্বাভাবিকভাবেই এর আট-দশ বছর আগে থেকে টাকা জমানো শুরু করলে সেটা আপনার জন্য সবদিক থেকেই মঙ্গলকর হবে। তাই অবসরের পরিকল্পনা অনেক আগে থেকেই হাতে নিয়ে লম্বা সময় ধরে সঞ্চয় করুন।

দায়িত্বের চাপে সঞ্চয় যায় হারিয়ে

ক্যালেন্ডারের পাতায় সময় যত এগোতে থাকবে জাগতিক নিয়মে আপনার কাঁধে দায়িত্বের বোঝা তত ভারি হবে। একটা সময় যখন সব চিন্তাভাবনার মূলে আপনি নিজেই ছিলেন, তখন মা, বাবা, পরিবারের সদস্য, স্ত্রী, সন্তানদের নিয়েই ভাবনার মূল সীমারেখা আবর্তিত হবে। বাড়তি দায়িত্ব মানে বাড়তি খরচ, বয়স যত বাড়তে থাকবে খরচের পরিমাণও তত বাড়বে। তাই ত্রিশের পর সঞ্চয়ের পথ কিন্তু দুর্গম, সময় থাকতে এখনই জমানো শুরু করুন।

কত টাকা জমালে অবসরজীবন নিশ্চিন্তে কাটবে?

ব্যাংকে কী পরিমাণ টাকা থাকলে আপনার অবসর জীবন আরামসে কাটবে তা নির্ধারণ করা কিন্তু সহজ কথা নয়। মূল্যস্ফীতির এই যুগে বাজার প্রায় সময়টাই অস্থিতিশীল থাকে। তাই আজ যে টাকায় যে পণ্য কিনতে পারছেন, কাল তার দাম বাড়বে। এভাবে সময়ের সাথে সাথে টাকার মান পড়তে থাকলে আজ থেকে ৩০-৩৫ বছর পর অবসর জীবনে ঠিক কত টাকা জমালে মোটামুটি নিশ্চিন্তে বাকিটা সময় পার করা যাবে তা আন্দাজ করা অনেক কঠিন। এতশত হিসাব না কষে সহজ সমাধান হিসেবে ‘যতবেশি সম্ভব সঞ্চয় করতে হবে’ এমন মাইন্ডসেট নিয়ে এগোতে পারেন। বলাই বাহুল্য, বয়স বিশের ঘরে থাকা অবস্থায় তা শুরু করলে সঞ্চয় স্বাভাবিকভাবেই বেশি হবে।

অনাকাক্সিক্ষত খরচের ক্ষেত্রে...

যতই নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করুন না কেন, অসুখ-বিসুখ, রোগ-শোক ইত্যাদি আসবে। ভাগ্য খারাপ থাকলে দুর্ঘটনা বা বড় বিপদও আসতে পারে। এসবের বাইরে বিয়ে, ফ্যামিলি ট্যুর, সন্তানের পরিচর্যা ইত্যাদি তো আছেই। তাই জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে খরচের পরিমাণ গ্রাফ মেনে চলবে এমনটা নয়, অনাকাক্সিক্ষতভাবেও অনেক খরচ চলে আসতে পারে। এমন বিপদে সবচেয়ে কাজে লাগবে আপনার সঞ্চয়। আর এ সময় বিপদ-আপদ যে ত্রিশ বা চল্লিশের পরেই আসবে তা কিন্তু নয়। তাই বয়স কম থাকা অবস্থায়ই এসব নিয়ে পরোক্ষ প্রস্তুতি নিতে থাকুন। বেশি করে সঞ্চয় করুন, যাতে করে বড় বিপদে অন্তত আর্থিক দুশ্চিন্তা কম থাকে।

-শাহরিয়ার মাহী
ছবি : শুহরাত শাকিল চৌধুরী