শুক্রবার,১৯ Jul ২০১৯
হোম / বিবিধ / টিম বিল্ডিং-এর সাতসতেরো
০৩/০৫/২০১৯

টিম বিল্ডিং-এর সাতসতেরো

-

কর্মক্ষেত্র কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায়শই আমাদের দলবদ্ধ হয়ে কাজ করার প্রয়োজন পড়ে। দল গঠনের সময় একজন দলনেতা সবচেয়ে বেশি যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন তা হচ্ছে এমন একটা দল গঠন করা, যা যে-কোনো পরিস্থিতিতে দলের প্রধান লক্ষ্য অর্জনে কাজ করে যাবে। শুধুমাত্র দারুণ প্রতিভাবান কিছু কর্মীর সমন্বয়ই একটা সফল দলের পূর্বশর্ত নয়, বরং ক্ষেত্রবিশেষে একজন দারুণ নেতৃত্বগুণসম্পন্ন নেতার গুরুত্ব প্রতিভাবান কর্মীদের প্রয়োজনীয়তাকে ছাপিয়ে যায়।

বিশ্বাস

সফল দলের প্রধানতম পূর্বশর্ত হচ্ছে প্রত্যেকের প্রতি প্রত্যেকের আস্থা ও বিশ্বাস। যে-কোনো সমস্যা মোকাবেলায় দলের যে-কেউ অপরের সাহায্যে এগিয়ে আসবে, এমন বিশ্বাস দলটির মধ্যকার সমন্বয়কে সুসংহত করবে। বিশেষ করে দলনেতার উচিত হবে এমন কিছু করা যাতে অন্য সবাই তাকে যথেষ্ট আস্থা ও বিশ্বাসের নজরে দেখে।
দারুণ প্রতিভাবান একটা দলও সাফল্যের মুখ দেখতে ব্যর্থ হয় যদি দলের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস অনুপস্থিত থাকে। দলের প্রতিটি সদস্যের মধ্যে বন্ধনের ব্যাপারটি নিশ্চিতকরণ এবং দলের মধ্যে যে-কোনো রকমের অপ্রীতিকর ও সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি এড়াতে হলে একজন দলনেতাকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।



নেতৃত্ব

যে-কোনো মিশন শুরুর আগেই দলের অন্যান্য সদস্যদের কাছে নিজের নেতৃত্বগুণ সম্পর্কে স্পষ্ট একটা ধারণা দিয়ে দিতে হবে দলনেতাকে। সাথে সাথে এতে ধারাবাহিকতাও নিশ্চিত করতে হবে। এর ফলে দলের সদস্যদের জন্য নেতার প্রতিভা ও শক্তি-সামর্থ্যগুলো সম্পর্কে জেনে সে অনুযায়ী কাজ করাটা সহজ হয়ে যায় অনেকটাই।

পরিচিতি

দলের প্রতিটি সদস্যকে ব্যক্তিগতভাবে ও পেশাগতভাবে চেনা দলনেতার অন্যতম গুরুদায়িত্ব। এতে তার পক্ষে প্রত্যেকের শক্তিমত্তা ও দুর্বলতার অনুপাতে তাদের ভূমিকা বুঝিয়ে দেওয়া সহজ হয়। দলের সবার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার আরেকটা দিকও আছে, যা একজন সফল দলনেতার জন্য দারুণ সুফল বয়ে আনে। আর তা হলো, দলের প্রতিটি সদস্য তখন জানবে যে দলনেতা তাদেরকে বেশ গুরুত্ব সহকারে দেখছেন, যা দলে একটা সুখী পরিবেশ সৃষ্টিতে দারুণ ভূমিকা পালন করে।

দায়িত্ব ও ভূমিকা পরিষ্কার বুঝিয়ে দেওয়া

দলের প্রতিটি সদস্যকে চলমান মিশনে তার ভূমিকা ও দায়িত্ব পরিষ্কারভাবে বুঝিয়ে দিতে হবে দলনেতাকেই। দলে ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে এটা বেশ জরুরি একটা দিক। এতে করে দলের প্রতিটি সদস্যের জন্য অপর সদস্যের গুরুত্ব বুঝে সে অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যাওয়াটা সহজ হয়ে যায়। সেই সাথে একজন আরেকজনের কাজে হস্তক্ষেপের বিষয়টিও থাকবে না।

প্রতিক্রিয়া দেখানো

দলের কোনো সদস্যের এমন কোনো কাজ দলের লক্ষ্য অর্জনে বাধা সৃষ্টি করছে, সেক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়া দেখাতে হবে দলনেতাকে, এটি সফল দলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কেননা ক্রমাগত প্রতিক্রিয়া জানাটা দলের সদস্যদেরকে সঠিক কক্ষপথে থাকতে সাহায্য করে। দলনেতার যদি মনে হয় কোনো কাজ ঠিক হচ্ছে না, তৎক্ষণাৎই তা জানিয়ে দেওয়া উচিত। এক্ষেত্রে দেরি করলে সমস্যা সৃষ্টি হয়ে লক্ষ্য অর্জন ব্যাহত করতে পারে।
অপরপক্ষে প্রতিক্রিয়া দেখালে দলের প্রতিটি সদস্য তার ভুল তৎক্ষণাৎ শুধরে নেবার সুযোগ পায় এবং সকলের কাজে গতি এবং উদ্যম বৃদ্ধি পায়।

প্রশংসা করা ও অনুপ্রেরণা দেওয়া

প্রশংসা পেতে কার না ভালো লাগে! যদি দলনেতা দলের সদস্যদের প্রতিটি ভুলে প্রতিক্রিয়া দেখানোর পাশাপাশি দারুণ কাজ করলে প্রশংসাও করেন তবে তা সদস্যদের আরও ভালো কাজ করার জন্য অনুপ্রাণিত করে। চূড়ান্ত ফলস্বরূপ দলটি তার কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে সহজেই।


-নাহিয়ান ইসলাম
ছবি : নীল ভৌমিক