শুক্রবার,১৯ Jul ২০১৯
হোম / স্বাস্থ্য-ফিটনেস / ক্ষিদে ক্ষিদে ভাব দূরকরার সহজ উপায়
০৩/০৪/২০১৯

ক্ষিদে ক্ষিদে ভাব দূরকরার সহজ উপায়

-

ওজন কমানোর জন্য ডায়েটিং বা অন্য যে-কোনো পন্থার সবচেয়ে বড় বাধা হলো মূল খাবারের মাঝের সময়গুলোতে বাড়তি ক্ষিদে ক্ষিদে ভাব। এসব বাড়তি ক্ষিদে ভাবের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো মূল খাবার পর্যন্ত অপেক্ষা করা গেলেও ডায়েটের পরিমাণ অনুযায়ী খাবারে ক্ষিদে তো যায়ই না, বরং অনেকক্ষণ ধরে ক্ষিদে পুষে রাখার কারণে বেশি খাওয়া হয়ে যায়। তাছাড়া ক্ষিদে পুষে রাখলে প্রাকৃতিকভাবেও শরীরের ওজন কমার বদলে বেড়ে যেতে থাকে। তাই শরীরের ওজন কমানোর প্রক্রিয়ায় থাকার সময় বাড়তি ওজন কমানোর জন্য ১০টি সহজ কৌশল অবলম্বন করতে পারেন।

পানি পান করুন

অনেক সময় পিপাসাকেও ক্ষিদের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হয়। তাছাড়া শরীরে প্রয়োজনীয় পানির পরিমাণ ধরে রাখতে পানি পানের বিকল্প নেই। তবে এজন্য চা, লেবু চা বা গ্রিন টি নয়, একবারে সাধারণ তাপমাত্রার পানি পান করুন।

ব্যায়াম

গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ব্যায়াম করলে তা খাবারের রুচি বাড়ানোর বদলে দমিয়ে দেয়। তাই নিয়মিত ব্যায়াম করলে তা বাড়তি ক্ষিদে ভাবের প্রশমন করতে পারে।




চিউয়িং গাম

চিউয়িং গাম চিবুলে তা হাবিজাবি ও অস্বাস্থ্যকর খাবারের চিন্তা করা থেকে মস্তিষ্ককে ভুলিয়ে রাখে। তবে এজন্য অবশ্যই চিনিমুক্ত চিউয়িং গাম ব্যবহার করতে হবে।

প্রোটিন

বেশি করে প্রোটিন খাওয়ার মানে এই নয় যে আপনি প্রতি ঘণ্টায় একটি করে প্রোটিন বার খাবেন। বরং প্রোটিন বারগুলোতে রিফাইন্ড চিনি ব্যবহার করা হয় যা ডায়েটের ফল ভেস্তে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। বাড়তি প্রোটিনের জন্য টক দই, দুধ, পনির, মুরগির মাংস, মাছ, বাদাম, মটরশুটি, শাকসবজি ও বিভিন্ন ধরনের ডাল খান।

স্মার্ট ¯স্ন্যাকিং
মাঝেমধ্যে হালকা স্ন্যাকস খাওয়া খারাপ নয়, বরং এতে শরীরে শক্তি জোগায়। প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় ক্যালরির চাহিদা পূরণ করার জন্য নিয়মিত বিরতিতে পরিমিত পরিমাণে স্ন্যাকস খাওয়া ভালো উপায়। এক থেকে দেড় ঘণ্টার বিরতিতে হালকা স্ন্যাকস খেয়ে বাড়তি ক্ষিদে ক্ষিদে ভাব নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

খাবারে মশলা বাড়ান

বাড়তি ক্ষিদে ভাবের একটা বড় কারণ হলো খাবারের স্বাদ সন্তোষজনক না হওয়া। এজন্যই প্রতিদিনের নিয়মিত খাবার বাদ দিয়ে শুধু সিদ্ধ সবজি খেয়ে ডায়েট করলে বাড়তি ক্ষিদে ভাব থেকে যাবেই। বরং প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান নিশ্চিত করে বাসার নিয়মিত খাবার পরিমাণমতো খান, বাড়তি ক্ষিদে ভাব নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

চিনি থেকে সাবধান

প্রসেসড ফুডে প্রচুর পরিমাণে রিফাইন্ড চিনি থাকে যা অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে বাড়তি ক্ষিদে ভাব বাড়ে। মিষ্টি খুব পছন্দ হলে প্রাকৃতিকভাবেই চিনিযুক্ত খাবার, যেমন- বিভিন্ন মিষ্টি ফল, প্রাকৃতিক ফলের রস থেকে উৎপাদিত শরবত, গুড় ও অন্যান্য খাবার খান। তাছাড়া নিয়মিত খাবারের সাথে সামান্য মিষ্টিজাতীয় খাবার খেয়ে নিন যেন পরে তা খাওয়ার ইচ্ছা কমে যায়।

নাস্তা খান অবশ্যই
ওজন কমানোর জন্য দিনের মূল খাবারগুলোর কোনোটা বাদ দেওয়া মোটেই ভালো বুদ্ধি না। আর নাস্তা বাদ দেওয়া তো রীতিমতো অপরাধ! নাস্তা হলো দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার, এবং কোনোভাবেই এটি বাদ দেয়া যাবে না। সকালে যখন পেট ও পুরো শরীর ফাঁকা থাকে তখন শরীরে পুষ্টি উপাদানগুলো যুক্ত করা জরুরি।

খাওয়ার সময়টা উপভোগ করুন

খাওয়ার সময় ধীরে-সুস্থে খান, সময়টা ও খাবারগুলো উপভোগ করুন। ধীরে-সুস্থে খাওয়া ক্ষিদে কম পাওয়ার একটি কৌশলও বটে। ধীরে ও চিবিয়ে খাবার খেলে তাতে মানসিক তৃপ্তিও আসে। ফলে শরীর দীর্ঘতর সময় ধরে ক্ষিদের অনুভূতি টের পায় না।

অন্যান্য কারণের উপশম

যথেষ্ট পানি পান এবং সময়মতো পর্যাপ্ত পরিমাণে খাওয়ার পরেও বাড়তি ক্ষিদে ভাব থাকলে এর কারণ হতে পারে পেটে কৃমি বা অন্য কোনো শারীরিক অসুস্থতা। এক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে দেরি করা উচিত না।

-কাজী শাহরিন হক