শুক্রবার,১৯ Jul ২০১৯
হোম / স্বাস্থ্য-ফিটনেস / মায়ের বুকের দুধ : যা কিছু জানা দরকার
০৩/০৩/২০১৯

মায়ের বুকের দুধ : যা কিছু জানা দরকার

-

শিশুর জন্মের পর প্রথম ছয়মাস শুধু মায়ের বুকের দুধই তার জন্য যথেষ্ট। আর কোনো খাবারের প্রয়োজন নেই। শুরুতে শিশু দুধ না পেলে অনেক মা দুশ্চিন্তায় ভোগেন। আবার ঠিক কীভাবে দুধ খাওয়ানো উচিত, মায়ের কি ধরনের খাবার খাওয়া উচিত এমন নানা প্রশ্ন থাকে মনে। মাতৃত্বকালীন সময়ের সাধারণ জিজ্ঞাসার উত্তর দিতেই এই লেখা।

মায়ের বুকের দুধ কেন দরকার?

বুকের দুধে রয়েছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, যা শিশুর স্বাস্থ্যকে ভালো রাখতে কাজ করে। তবে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো কেবল তার জন্যই উপকারী নয়, এটি মায়ের জন্যও জরুরি। এরফলে মায়ের সঙ্গে শিশুর মানসিক যোগাযোগ তৈরি হয়। বুকের দুধ পান করার ফলে শিশুর ঘ্রাণ ও স্বাদ গ্রহণ শক্তি বৃদ্ধি পায়, কারণ মায়ের খাবারের বিভিন্নতার কারণে বুকের দুধের স্বাদ পরিবর্তন ঘটে। মায়ের বুকের দুধে উপস্থিত লিউকোসাইট, অ্যান্টিবডি, এনজাইম এবং হরমোন শিশুর আদর্শ খাদ্য। বুকের দুধের প্রোটিন সহজে হজম হয় এবং শিশুর শরীরে ইনফেকশন প্রোটেকশন হিসেবে কাজ করে। শিশুর দেহের হাড়ের সুগঠনের জন্য মায়ের বুকের দুধে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম ও আয়রন থাকে।






কীভাবে দুধ খাওয়াবেন?

শিশুর যথেষ্ট পরিমাণে দুধ পেতে হলে জন্মের পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দুধ দিতে হবে। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় মাকে কোনো আরামদায়ক স্থানে বসা উচিত। যদি মা বসা অবস্থায় থাকেন, তাহলে পিঠ সোজা রাখতে হবে, কাঁধ উঁচু করে রাখা যাবে না। মায়ের আরাম নিশ্চিত হলে এক ধরনের শিথিলতা আসে যাতে দুধ নিঃসরণে সুবিধা হয়। সব সময় লক্ষ্য রাখতে হবে, যাতে শিশু সম্পূর্ণ দুধ খেতে পারে। কারণ দুধ থেকে গেলে পরবর্তী দুধ জমতে বাধা প্রাপ্ত হয়। শিশুকে দুধ খাওয়ানোর সময় মাকে হালকা, কম ঘাম হয় এমন আরামদায়ক কাপড় পরা উচিত।

ঠিকমতো দুধ না আসার কারণ?

মায়ের বুকে দুধ তৈরি হওয়া একটা ‘ডিমান্ড অ্যান্ড সাপ্লাই সিস্টেম’ অনুসরণ করে। অর্থাৎ শিশু যত দুধ টানবে, তত মায়ের মস্তিষ্কের পিটুইটারি গ্রন্থি উদ্দীপ্ত হয়ে বেশি বেশি প্রলেকটিন হরমোন তৈরি করবে। ততবেশি দুধ উৎপাদিত হবে। বুকের দুধ তৈরির একমাত্র উদ্দীপক বা স্টিমুলাস হলো শিশুর দুধ টানা। তাই যে মায়েরা একেবারে শুরু থেকেই বারবার দুধ দেননি, তাঁদের এই উৎপাদনপ্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।

মাতৃত্বকালীন সময়ে কী খাবেন?

ব্রেস্ট ফিডিং করান এমন মায়েদের বুকের দুধের পরিমাণ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে যে খাবারগুলো তাদের ল্যাকক্টোজেনিক ফুড বলে। বুকের দুধের সরবরাহ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এরকম বেশ কিছু খাবার আছে।

ওটমিল:

বুকের দুধের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে চমৎকারভাবে কাজ করে ওটমিল। সকালে ১ বাটি গরম ওটমিল খেতে পারেন অথবা দইয়ের সাথে মিশিয়েও খেতে পারেন ওটমিল। ওটমিল কোলেস্টেরল কমাতে এবং ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে।

বাদাম:

প্রোটিন এবং এসেনশিয়াল ফ্যাটি এসিডে সমৃদ্ধ বাদাম। নবজাতকের মায়েরা যদি ক্লান্তি অনুভব করেন তাহলে এক মুঠো বাদাম খান। এরফলে দুধের সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে। দুধের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে কাজুবাদাম, কাঠ বাদাম ইত্যাদি বাদামগুলো। দুধের সাথে বাদাম ব্লেন্ড করে মিশিয়ে পান করতে পারেন। বাদামে ভালো ফ্যাট ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও থাকে।

মেথি ও রসুন:

এ দুটিই মায়ের দুধ বৃদ্ধি করতে বেশ কার্যকর। সারারাত মেথি একগ্লাস পানিতে ভিজিয়ে রেখে পরের দিন সকালে তা পান করুন। এর ভিটামিন, মিনারেল, আয়রন এবং ক্যালসিয়াম রয়েছে যা মায়ের বুকের দুধ বৃদ্ধি করে। সকালে খালি পেটে ৩ কোয়া রসুন খেতে পারেন। এটিও বুকের দুধ বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে। কাঁচা রসুন খেতে না পারলে রান্নায় রসুন ব্যবহার করুন।

অন্যান্য সুষম খাদ্য:

খাদ্যতালিকায় কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও ফ্যাটের সমন্বয় করুন। স্বাস্থ্যকর ফ্যাট যুক্ত খাবার খান। তবে স্যাচুরেটেড ও ট্রান্স ফ্যাট গ্রহণ এড়িয়ে চলুন। জটিল কার্বোহাইড্রেট যেমন- আস্ত শস্য, সিরিয়াল, তাজা ফলমূল ও শাকসবজি শুধু পুষ্টিই সরবরাহ করবে না বরং দীর্ঘস্থায়ী শক্তি প্রদান করবে। সব ধরনের খাদ্যের গ্রুপ থেকেই খাদ্য নির্বাচন করা ও খাওয়া প্রয়োজন।

-রিয়াদুন্নবী শেখ