শুক্রবার,১৯ Jul ২০১৯
হোম / জীবনযাপন / কন্যা শিশু হয়ে উঠুক স্বাবলম্বী ও সাহসী
০৩/০৩/২০১৯

কন্যা শিশু হয়ে উঠুক স্বাবলম্বী ও সাহসী

-

শুয়োপোকা জীবনের অনেক স্তর পার হয়ে একদিন রঙিন ডানা মেলে আকাশে উড়াল দেয়, প্রজাপতি হয়ে। জীবনের নানাপর্যায়ের এই পরিবর্তিত ধাপগুলোই তাকে একদিন পূর্ণতা দান করে। তবে তার এই যাত্রাটি কিন্তু মসৃণ নয়, প্রকৃতির সাহায্য আর তার চেষ্টা মিলে আসে এই সফলতা। নারীর জীবনও কি এর চেয়ে ভিন্নতর কিছু?
মোটেই না, বরং এর চেয়েও বৈচিত্র্যময় আর চ্যালেঞ্জিং নারীর জীবন। নারীকে জীবনের প্রতি পর্যায়ে অনেক অনেক বেশি কঠিনতর লড়াই জয় করে সফল হতে হয়। আমাদের সমাজে সেটা আরও বেশি কঠিন, এই সমাজে আমাদের মেয়েরা স্বাবলম্বী না হলে নিগৃহীত হয়। মেয়েদেরকে নিজের পায়ে দাঁড়ানো শিখাতে হবে, বাড়াতে হবে তাদের আত্মবিশ্বাস। আগামীর নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে আজকের মেয়ে শিশুকে করে তুলতে হবে স্বাবলম্বী আর সাহসী।

স্বাধীনতার স্বাদ নিতে দিন তাকে:

আমাদের দেশে যা প্রচলিত, মেয়ে হাইস্কুলে উঠলেই তাকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা। চলাফেরা, জীবনযাপনে মেয়েরা হয়ে পড়ে পরাধীন। এমনটা করা উচিত নয়, এতে আপনার শিশুটি তার আত্মবিশ্বাস হারায়, ভীতিকে পুঁজি করে বড় হয়। পরিস্থিতি আর প্রয়োজন বুঝে তাকে স্বাধীনতার স্বাদ দিন, নিরাপত্তা যেমন দরকার তেমনি তার সাহসী আর আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে বড় হওয়াটাও দরকার।

নেতৃত্বগুণ গড়ে তুলতে হবে:

সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা আর নেতৃত্বগুণ একজন মানুষকে সফল করে তোলে। মেয়েরা যেন পরনির্ভরশীল হয়ে জীবন পার না করে তা নিশ্চিত করা আমাদের সবার কর্তব্য। এজন্য মেয়েদেরকে সিদ্ধান্ত নেওয়া শেখাতে হবে, শিখাতে হবে লিডারশিপ স্কিল।

সন্তানকে সঠিকভাবে অ্যাড্রেস করুন:

সন্তানকে প্রপার ভাবে অ্যাড্রেস করার মাঝে নির্ভর করে অনেক কিছুই। ছেলে সন্তানকে গাড়ি, বন্দুক আর মেয়েকে পুতুল, হাঁড়িপাতিল কিনে দেওয়া- এমনটাই তো ভেবে আসছি আমরা বছরের পর বছর। এমন ধ্যানধারণা বদলে ফেলুন। মেয়ে শিশুকে সুন্দর, কিউট বলে তার রূপের প্রশংসা না করে তাকে বলুন স্মার্ট, বুদ্ধিমান ইত্যাদি। সন্তানের বাহ্যিকতা নিয়ে পড়ে থাকবেন না, তার সম্ভাবনাকে খুঁজে বের করুন আর গড়ে তুলুন সেভাবেই।

খেলাধুলা আর আত্মরক্ষা:

গবেষণায় এটি প্রমাণিত যে, খেলাধুলা মেয়ে শিশুকে তার সক্ষমতা সম্পর্কে পজিটিভ করে তোলে, সে নিজের উপর বিশ্বাস করতে শিখে। খেলাধুলা আর ফিজিক্যাল এক্টিভিটি মনকে যেমন প্রফুল্ল রাখে তেমনি নিজের অ্যাবিলিটি নিয়ে দেয় আত্মবিশ্বাস। সেই সাথে মেয়েদের শিখাতে হবে আত্মরক্ষার কৌশল। মেয়েরা নিজেদের রক্ষা করার কায়দা জানলে তাদের পদচারণা হবে দৃপ্ত, সর্বক্ষেত্রে তারা হবে জয়ী।

সমৃদ্ধ করুন তাকে:

সন্তানকে আপনি যত বেশি সাহিত্য-সংস্কৃতি, জ্ঞান-বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ করে তুলবেন, ততই সে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। সন্তানের পার্সোনালিটি কিভাবে গড়ে উঠছে তার উপরে কিন্তু তার ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে। প্রগতিশীলতার চর্চা আপনার সন্তানকে বিচক্ষণ আর স্মার্ট হয়ে বেড়ে উঠতে সাহায্য করবে। তাকে ভালো বই পড়তে দিন, খেয়াল রাখবেন বইগুলো যেন কোনোভাবেই লিঙ্গ বৈষম্যকে রিপ্রেজেন্ট না করে। সন্তানের ভালো শখকে গুরুত্ব দিন, সে যা এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটি করে চায় তা তাকে করতে দিন। নাচ, গান, বিতর্ক, ক্লাব, স্কাউটিং যাই হোক না কেন তাকে উৎসাহিত করুন, সমৃদ্ধ করুন আপনার সন্তানকে।

গুড মেন্টরিং:

সন্তান সাধারণত সবার আগে নিজের মা-বাবাকে অনুসরণ করে, তাদের মতো হতে চায়। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একজন অভিভাবকের জন্য। আপনি চাইলেই আপনার সন্তানকে স্ট্রং পার্সোনালিটি আর কনফিডেন্ট করে গড়ে তুলতে পারেন আপনার নিজের ছায়ার মতো। আপনার মেয়ের মেন্টর হয়ে যান, তাকে যেভাবে আপনি বড় করতে চান তা আগে নিজের মধ্যে ধারণ করুন, যেন সে আপনাকে দেখে ভরসা পায় আর অনুসরণ করে। সাহসী, আত্মবিশ্বাসী আর স্মার্ট করে গড়ে তুলুন তাকে।

উৎসাহ দিন:

আমাদের মেয়েদের জন্য সমাজ এবং জীবন অনেক কঠিন। দৈনন্দিন জীবনে একটা মেয়েকে যত তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয় এতে করে ভেঙেপড়া একদম স্বাভাবিক। মেয়েদের ভেঙে পড়া চলবে না, ইতিবাচক থাকতে হবে। তাই ইতিবাচক মানসিকতা ধারণ করার পাঠ দিন, সেই সাথে দিন উৎসাহ। প্রতিটা ভালো কাজে আপনার এপ্রিশিয়েশনই ওকে এগিয়ে নিবে বিজয়ের লক্ষ্যে।


-তানভীর জাহান
ছবি : শুহরাত শাকিল চৌধুরী