শুক্রবার,১৯ Jul ২০১৯
হোম / ফিচার / নির্জন দ্বীপে একলা থাকেন কিম
০২/২৬/২০১৯

নির্জন দ্বীপে একলা থাকেন কিম

- অনন্যা ডেস্ক:

দক্ষিণ কোরিয়ার এক নির্জন দ্বীপ। যেখানে ঘন জঙ্গল আর অট্টালিকার সমান উঁচু গাছে ভরা। কিছুদূর বাদেই দেখতে পাওয়া যায় বিশাল বিশাল পাথরের খন্ড। দ্বীপটির এক অংশ বিশাল পাহাড়ে ঘেরা। আর যতোদূর চোখ যায় কেবল সুবিশাল জলরাশি। প্রকৃতির এই স্বর্গরাজ্যে কেবল একা বসবাস করেন ৮১ বছর বয়সী দক্ষিণ কোরিয়ান এক নারী। তার নাম কিম সিন ইওল।



১৯৯১ সাল থেকে তার স্বামীর সঙ্গে এই দ্বীপে বাস করতেন তিনি। তবে গত বছর তার স্বামী মারা যাওয়ায়, এখন একাই থাকেন কিম।

তিনি একজন ফ্রি-ডাইভার। ২০১৭ পর্যন্ত সমুদ্রের তলদেশে ডুব দিয়েছেন। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে এখন আর এই কাজ করেন না।
কোরিয়ান এই দ্বীপটির নাম ডোকাডো। দ্বীপটির চারপাশের জলরাশি জাপানের অধিভুক্ত। জাপানীরা এই দ্বীপকে তাকেশিমা নামে সম্বোধন করলেও বহির্বিশ্ব একে লিয়ানকোর্টস রক নামেই চেনে।

সিওল থেকে প্রায় ৪৩৩ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত এই দ্বীপ।আর এই দ্বীপের কাছাকাছি সমুদ্রের নিচে প্রায় ২৩০০ মিটার উঁচু একটা আগ্নেয়গিরি রয়েছে।
সাধারণত এই দ্বীপে পর্যটক থেকে শুরু করে সবাই বেড়াতে আসেন। প্রায় সময়ই খুব বেশি ঝড়বৃষ্টি শুরু হলে আশপাশের জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে দ্বীপটি।

বছর চল্লিশ আগে, এই দ্বীপে সমুদ্রের তলদেশে ডাইভারদের বেশ কিছু পরিবার বাস করলেও আবহাওয়ার এই বৈরিতার কারণে ধীরে ধীরে জনশূন্য হতে থাকে। বর্তমানে কিম একাই বসবাস করেন এই দ্বীপে।
তিনি জানান, দিনের অধিক সময় তার মাছ ধরেই কেটে যায়।

কিমের নাতি জানান, কিমের কাছে এটা শান্তির জায়গা। আর সে এখানেই থাকতে ভালবাসেন। এমনকি নিজের ছেলে ও পুত্রবধূকেও দ্বীপের বাসিন্দা করতে আপত্তি নেই তার। কিমের মতে, পর্যটকদের কাছে ডাকটিকিট, সাবান এবং সি ফুড বিক্রি করেই সংসার চালিয়ে নেওয়া সম্ভব।