রবিবার,২১ Jul ২০১৯
হোম / রূপসৌন্দর্য / রূপচর্চা: হেয়ার মাস্ক ব্যবহারে পান ঝলমলে চুল
০২/২০/২০১৯

রূপচর্চা: হেয়ার মাস্ক ব্যবহারে পান ঝলমলে চুল

- অদ্বিতী

শীতের মৌসুমে ত্বকের পাশাপাশি চুলেরও নানান সমস্যা দেখা দেয়। রুক্ষতা, খুশকি, মাথার ত্বক তৈলাক্ত হয়ে যাওয়া এমন নানা সমস্যা খুবই কমন। তাই বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় এই সময় চুলের বাড়তি যতœ নেওয়া উচিত।
চুলের যত্নে নিয়মিত তেল দেওয়া ও শ্যাম্পু ব্যবহার করা ছাড়াও চুলে পুষ্টি জোগাতে এবং সুন্দর রাখতে চুলের চাহিদা বুঝে হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। পার্লারে গিয়ে চুলে বিভিন্ন ট্রিটমেন্ট করানো বেশ খরচসাপেক্ষ হতে পারে। সেই ঝক্কি কমাতে ঘরে বসেই তৈরি করে নেওয়া যেতে পারে কার্যকর হেয়ার মাস্ক।

স্ট্রবেরি আর ডিমের কুসুমের হেয়ার মাস্ক

প্রাণহীন চুলে জেল্লা ফেরাতে স্ট্রবেরি দারুণ কার্যকর। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চুলকে ঝলমলে করে তুলে আর ডিমের কুসুম চুলকে মজবুত করে।
তবে স্ট্রবেরির বীজ চুল থেকে ধুয়ে ফেলতে বেশ কিছুটা সময় লাগতে পারে। তাই হাতে যখন সময় থাকবে তখনই এই মাস্ক ব্যবহার করা উচিত।
মাস্কটি তৈরি করতে প্রয়োজন হবে এক কাপ পরিমাণ স্ট্রবেরি পিউরি, একটি ডিমের কুসুম, তিন টেবিল চামচ অলিভ অয়েল।
স্ট্রবেরি পিউরি, ডিমের কুসুম এবং অলিভ অয়েল, সবগুলো উপাদান ব্লেন্ডারে দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত ভালোভাবে মাস্কটি লাগিয়ে ২০ থেকে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এই সময় প্লাস্টিকের হেয়ার ক্যাপ পরুন, এতে চুলের গোড়ায় পুষ্টি পৌঁছাবে।
এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে মাস্ক ধুয়ে কন্ডিশনার লাগিয়ে পাঁচ মিনিটি অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলুন। এরপর পুনরায় ভালোভাবে শ্যাম্পু করে কন্ডিশনার লাগিয়ে নিন।

কলা ও অ্যাভোকাডোর হেয়ার মাস্ক

পাকাকলা এবং অ্যাভোকাডোতে থাকা ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ভিটামিন ই চুলের জন্য অত্যন্ত উপকারী। আর এই মাস্কে নারিকেল তেলের মিশ্রণ চুলকে আরও মসৃণ করে তুলবে।
এই মাস্কটি তৈরি করতে প্রয়োজন হবে একটি পাকা অ্যাভোকাডো, একটি পাকাকলা এবং দুই টেবিল চামচ নারিকেল তেল।
অ্যাভোকাডো ও কলা ভালোভাবে চটকে নারিকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি পুরো চুলে ভালোভাবে লাগিয়ে ২০ থেকে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে ভালোভাবে শ্যাম্পু করে কন্ডিশনার ব্যবহার করুন।

দই আর অ্যাপেল সাইডার ভিনেগারের মাস্ক

শীতের মৌসুমে চুল স্বাভাবিকভাবেই রুক্ষ হয়ে যায়। তার উপর বাড়তি স্টাইলিং চুলকে আরও প্রাণহীন করে ফেলে। এমন অবস্থা থেকে বাঁচাতে ডিপ কন্ডিশনিং মাস্কটি বেশ উপকারী।
মাস্ক তৈরি করতে প্রয়োজন হবে এক চা চামচ অলিভ অয়েল, দুই টেবিল চামচ টকদই এবং আধা চা চামচ অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার।
একটি পাত্রে সবগুলো উপাদান মিশিয়ে ভেজা চুলে পুরো মাস্কটি ভালোভাবে লাগিয়ে নিতে হবে। তবে মাস্কটি যেন চুলের গোড়ায় না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ২০ থেকে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে। মাসে একবার ব্যবহারে এই মাস্ক চুলকে সুস্থ ও মসৃণ রাখতে সাহায্য করবে।

অ্যাভোকাডো মাস্ক

অ্যাভোকাডো এবং অলিভ অয়েলে থাকা ফ্যাট এবং প্রাকৃতিক তেল ত্বকের পাশাপাশি চুলের জন্যও সমানভাবে উপকারী। এই উপাদানগুলো চুলের শুষ্কতা দূর করে তা মজবুত করে তোলে।
মাস্কটি তৈরি করতে প্রয়োজন হবে অর্ধেক পাকা অ্যাভোকাডো, ১ চা চামচ অলিভ অয়েল, ১ চা চামচ মধু, এক থেকে দুই ফোঁটা ল্যাভেন্ডার এসেনশিয়াল অয়েল।
পাকা অ্যাভোকাডোটি ভালোভাবে থেঁতো করে নিতে হবে। মিহি করে থেঁতো করে নেওয়া অ্যাভোকাডোর সঙ্গে বাকি সব উপাদান মিশিয়ে মাস্কটি তৈরি করে নিতে হবে। এসেনশিয়াল অয়েল মাস্কে সুগন্ধী হিসাবে কাজ করবে। এবার পরিষ্কার চুলে পুরো মাস্কটি ভালোভাবে লাগিয়ে নিন। চুলের গোড়ায় ভালোভাবে মাস্ক লাগাতে হবে। মাস্ক লাগানোর পর শাওয়ার ক্যাপ দিয়ে চুল আটকে রাখুন এতে মাস্ক ছড়াবে না। ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করে শ্যাম্পু করে ফেলুন এবং কন্ডিশনার ব্যবহার করুন।