শনিবার,২৩ মার্চ ২০১৯
হোম / স্বাস্থ্য-ফিটনেস / চিৎকারে কি মানসিক চাপ কমে?
০২/১৯/২০১৯

চিৎকারে কি মানসিক চাপ কমে?

- নাহিয়ান ইসলাম

শেষ কবে খুব ভালো একটা চিৎকার দিয়েছিলেন? না, টেবিলের কোণার সাথে সংঘর্ষে পায়ের আঙুলে ব্যথা পেলে যেটা করে থাকেন, সেটা নয়। বলা হচ্ছে মানসিক চাপ কমাতে কিংবা রাগ ঝাড়তে খোলা কোনো জায়গায় গিয়ে বড় যে একটা চিৎকার দিয়ে থাকেন তার কথা। কি? অনেকদিন হয়ে গেছে হয়তো?
চিৎকারের একটা নেতিবাচক ইমেজ আছে। সাধারণত একে রাগের সাথেই সম্পর্কযুক্ত বলে মনে করি আমরা। কেউ আমাদের খুব রাগিয়ে দিলে প্রতিক্রিয়ায় যদি আমরা চিৎকার করে বসি তখন ধরেই নেওয়া হয় রাগ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা আছে আমাদের। কিন্তু সত্যিটা হচ্ছে চিৎকার- চেঁচামেচিতে সত্যিকার অর্থেই আমাদের মানসিক চাপ কিংবা হতাশার বোঝা কিছুটা হলেও হালকা হতে পারে!
মানসিক চাপ এবং রাগ এক নয়।

প্রথমেই একটা ব্যাপারে পরিষ্কার ধারণা রাখা প্রয়োজন। কেউ রাগিয়ে দিলে তার উপর চিৎকার করে রাগ ঝাড়া আর চিৎকার দিয়ে হতাশা দূর করার চেষ্টা করা ব্যাপার দুটো এক নয়। অন্যের উপর চিৎকার করলে আপনার আবেগগুলো আরেকজনের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। সাথে সাথে এটা কোনো সমস্যার সমাধানও দিতে পারে না।
যখন আপনি অন্যের উপর চিৎকার করেন তখন এটা ঘটে; কেননা আপনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং নিজের অনুভূতিকে শান্ত উপায়ে ব্যক্ত করতে ব্যর্থ হন। হয়তো লক্ষ্য করবেন বার্তালাপগুলো কখনোই চিৎকারে শুরু হয় না। শান্তভাবেই শুরুর পর বার্তালাপের এক পর্যায়ে যখন আমরা হতাশ হয়ে পড়ি এবং কোনো পক্ষই যখন অপর পক্ষকে বুঝতে ব্যর্থ হয় তখনই মেজাজ হারাই আমরা এবং চিৎকার চেঁচামেচির শুরু হয়।
অন্যদিকে, চাপ কমাতে যে চিৎকার আমরা করি তা বেশ নিয়ন্ত্রিত। আমরা ইচ্ছাকৃতভাবে বেশ পরিকল্পনা করেই এটা করে থাকি। চাপ কমানোর জন্য অন্য যে-কোনো কাজ যেমন দৌড়ানো, ফিজেট স্পিনার ঘোরানো কিংবা বক্সিংয়ের সঙ্গে একে তুলনা করা যায়।
কেন চিৎকার মানসিক চাপকমাতে সাহায্য করে?
চিৎকারের রেচক প্রভাব রয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তা থেরাপির মতোও কাজ করে থাকে। যখন আপনার মাথার উপর একগাদা মানসিক চাপ এসে জমা হয় কিংবা আপনি বিচলিত (রাগান্বিত নয়) বোধ করেন তখন সেগুলোকে কোনো বাচনিকভাবে উগরে দিলে তা আপনাকে মুক্তির অনুভূতি দিতে পারে।
কিছু কিছু কলেজে ফাইনালের আগে চাপ কমাতে শিক্ষার্থীদের ‘প্রাইমাল স্ক্রিম’ বা আদিম চিৎকারে উৎসাহিত করা হয়। এটা তাদেরকে ক্ষণিকের জন্য হলেও ভালো লাগার অনুভূতি দেয়।
আসলে প্রাইমাল স্ক্রিম থেরাপি হচ্ছে সাইকোথেরাপির একটা প্রাচীন পন্থা যা দুশ্চিন্তা, মানসিক আঘাত এমনকি মানসিক চাপ কমাতেও ব্যবহৃত করা হয়। আপনার সব মানসিক চাপ হয়তো মানসিক আঘাতজনিত কোনো ঘটনার সাথে সম্পর্কিত নয়; কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে যে চিৎকার অনেক ক্ষেত্রেই থেরাপির মতো কাজ করে থাকে।
চাপ কমাতে চিৎকার করবেন কীভাবে?
সত্যি বলতে, যদি আপনি স্ক্রিম থেরাপি আপনার কর্মস্থল কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঝে করে বসেন তবে লোকে আপনাকে পাগল ঠাউড়ে বসতে পারে। আমরা আপনাকে জনাকীর্ণ কোনো কামরায় চিৎকার শুরু করতে বলবো না।
আপনাকে এমন একটা জায়গা খুঁজে বের করতে হবে যেখানে আপনার কথা কেউ শুনতে পাবে না। নিজের অ্যাপার্টমেন্টে যদি এ কাজ করা শুরু করেন তবে কিছুক্ষণ পরেই দরজায় পুলিশের নক পাওয়ার ভালো সম্ভাবনা রয়েছে আপনার। এক্ষেত্রে কিছু ভালো জায়গা হচ্ছে-

- আপনার গাড়ি (যদি আশপাশে কেউ না থাকে)
- নির্জন কোনো পাহাড়ে
- কোনো শব্দরোধী ঘরে
রেললাইনের পাশে, শুধু কোনো একটা ট্রেন যাওয়ার অপেক্ষা করুন। যখনই ট্রেনটা পাশ দিয়ে যাবে চিৎকার করে ঝেড়ে ফেলুন আপনার মানসিক চাপকে।
কোনো সাগরের তীরে কিংবা কোনো পার্কে যখন কেউ পাশে না থাকে তখন।
মুখ বালিশে চাপ দিয়ে
চিৎকারের জন্য জায়গা নির্বাচনের আগে আপনাকে মাথায় রাখতে হবে যেন আশপাশে মানুষ না থাকে।
এবার চিৎকারের পালা। ঠিক কত জোরে আপনাকে চিৎকার করতে হবে? কিংবা কতক্ষণ দীর্ঘ হতে হবে সে চিৎকার? সবগুলো প্রশ্নের উত্তরই এক। কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, কোনো নিয়মও নেই। আপনি শুধুমাত্র আপনার উপর বোঝা হয়ে দাঁড়ানো মানসিক চাপকেই কম করতে চাইছেন। যত জোরে সম্ভব চিৎকার করুন, যতক্ষণ না মনে হচ্ছে কিছুটা মুক্তি পেয়েছেন ততক্ষণ ধরে চিৎকার করুণ, যেভাবে মন চায় চিৎকার করুন। যদি এরপরে মুক্তির অনুভূতি পান আপনি সেটাই জরুরি বিষয়।
যদি চিৎকারেও চাপ না কমে তবে?
প্রত্যেকটা চাপ নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির মতো চিৎকারও সবার ক্ষেত্রে কাজ করবে না, এবং এটাই স্বাভাবিক। যদি ভালো একটা চিৎকারের পরে কেবলমাত্র একটা বিদ্ঘুটে অনুভূতি হয় আপনার কিন্তু চাপ ঠিকই বহাল-তবিয়তে থাকে তবে ধরে নিন সেটা আপনার জন্য নয়। অন্য কিছু চেষ্টা করুন।
আমরা সবাই জানি মানসিক চাপ কমাতে চিৎকার করার ধারণাটা দারুণ কিছু নয়। কিন্তু চেষ্টা করতে তো ক্ষতি নেই! এটা বিনামূল্যেই করা যায় এবং কে জানে আপনার মানসিক চাপ কমাতে এটা যোগ্য সমাধান হয়ে দাঁড়ায় কিনা? হ

ছবি : নীল ভৌমিক