শনিবার,২৫ মে ২০১৯
হোম / জীবনযাপন / প্রিয় মানুষটি যখন বড্ড ব্যস্ত...
০২/১৯/২০১৯

প্রিয় মানুষটি যখন বড্ড ব্যস্ত...

-

প্রতিটি সম্পর্কেই বিভিন্ন পর্যায় আসে। এমন সময় আসে যখন আপনার সঙ্গী একটু বেশিই চাপে থাকেন, অর্থনৈতিক চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে যান কিংবা অফিসে খুব বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েন। আমাদের কর্পোরেট জীবনকে নয়টা-পাঁচটার বলে সুগারকোট করা হলেও আদতে এটা আরও বেশি সময়গ্রাসী। কাজকে সময় দিতে গিয়ে আমরা প্রায়ই আপনজনদের থেকেও বেশ দূরে সরে যাই। আপনার সঙ্গীও যদি এমনই ব্যস্ত হন তবে এই টিপসগুলো আপনার জন্যেই।

সকালের নাস্তা একসঙ্গে করুন
এখানে মূল উদ্দেশ্যটা হলো সঙ্গীর সাথে নিয়মিত ভিত্তিতে কিছুটা সময় কাটানো, এমন একটা সময় খুঁজে বের করা যেখানে আপনার সঙ্গী কখনো অনুপস্থিত থাকেন না। সকালের নাস্তার সময়টা এমন এক সময় যেখানে দম্পতিরা অন্তত ১০-১৫ মিনিট সময় একসাথে কাটানোর সুযোগ পান। এই সময়টাকে প্রাধান্য দিন। সঙ্গীর সাথে কথা চালাচালি করুন এই সময়ে, তবে সেটা কাজ কিংবা ঘরের নিত্য ব্যাপারে না হয়ে ক্যাজুয়াল কিছু বিষয়ে হলেই ভালো হয়। খেয়াল রাখবেন, মোবাইল ফোন থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন এই সময়ে।
কোনো বিষয় নিয়ে খোঁচাবেন না
আপনিই সেই ব্যক্তি যার কাছ থেকে আপনার সঙ্গী সবচেয়ে বেশি সমর্থন আশা করেন এবং বেশি বোঝাপড়াও আশা করেন। যখন তিনি তীব্র কাজের চাপে সময় দিতে ব্যর্থ হন সে ব্যাপারেও আপনার উপলব্ধি আশা করেন তিনি। তার জায়গায় নিজেকে চিন্তা করুন এবং সে অনুসারে প্রতিক্রিয়া দেখান। সঙ্গীকে ভালোবাসুন, তার কমফোর্ট জোন হওয়ার চেষ্টা করুন এবং মনে রাখুন ব্যস্ত সময়টা ক্ষণস্থায়ী কিন্তু তার সাথে আপনার সম্পর্ক চিরস্থায়ী। কিন্তু তা না করে যদি তার ব্যস্ততা নিয়ে খোঁচাতেই থাকেন তবে ব্যাপারটা আরও খারাপের দিকেই পরিণতি পেতে পারে। তাতে সঙ্গীর মনেও নিজের সম্পর্কে একটা বাজে ধারণা সৃষ্টি করে দেবেন। এবং সেটা আপনার মনের অজান্তেই। এ পরিস্থিতি এড়াতে বিশ্বাস রাখুন সঙ্গীর উপর এবং ধৈর্য ধরুন।
তার কাজ বুঝে নিন।

যদি আপনার হাতে সময় এবং সামর্থ্য থাকে তবে সঙ্গীর কাজ বুঝে নিয়ে তাকে কিছুটা হলেও দায়িত্ব থেকে মুক্তি দিতে পারেন। এতে করে আপনার সঙ্গী মানসিক প্রশান্তি তো পাবেনই সঙ্গে উপরি পাওনা হিসেবে একসঙ্গে কাটানোর জন্য কিছুটা বাড়তি সময়ও পেয়ে যেতে পারেন আপনারা। এটি আপনাদের সম্পর্ককেও বোঝাপড়ার নতুন স্তরে উন্নীত করতে সাহায্য করবে।
কঠোর পরিশ্রমের তারিফ করুন
এই প্রসঙ্গে তেমন ব্যাখ্যা না দিলেও চলে। যদি তিনি কঠোর পরিশ্রম করে থাকেন তবে তার পেছনে কোনো কারণ আছে অবশ্যই। আপনারা দুজনেই একসঙ্গে পুরো জীবন কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং আপনার সঙ্গী আপনাদের জীবন গড়ার ক্ষেত্রে তার অংশে কাজ করে যাচ্ছেন। অবশ্যই তারও আপনার কর্মজীবনের ব্যস্ত সময়ে সমর্থন দিয়ে যাওয়া উচিত। সঙ্গীর কাজ সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করে তার কাজের তারিফ করলে তিনি তো মানসিক প্রশান্তি পাবেনই সাথে এটা তাকে কাজের চাপে একেবারে পিষ্ট হওয়া থেকেও রক্ষা করবে।
যোগাযোগের নির্দিষ্ট সময় খুঁজে বের করুন
তাকে এসএমএস পাঠাতে পারেন। তবে খেয়াল রাখবেন তিনি যেন আপনার এসএমএস-এর উত্তর করতে বেশি চাপে পড়ে না যান। তবে এটা এড়াতে আরেকটা কাজ করতে পারেন। সঙ্গীকে জিজ্ঞেস করতে পারেন দিনের কোনো সময়ে তার কাজের চাপ কিছুটা কম থাকে। সেই সময়টা বেছে নিয়ে চাইলে কথা বলতে পারেন তার সঙ্গে, হোক সেটা খুব কম সময়ের জন্য। এই অল্প সময়ের খোশগল্প আপনার সঙ্গীকে কাজের বিশাল চাপের মাঝে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে, আপনাদের সম্পর্কেও যোগ করতে পারে নতুন মাত্রা। হ
নাহিয়ান ইসলাম


মডেল : সালমীন, শাবিব
ছবি : শুহরাত শাকিল চৌধুরী