শনিবার,২৫ মে ২০১৯
হোম / সাহিত্য-সংস্কৃতি / কবিতা
০২/২০/২০১৯

কবিতা

-

বর্ণমালা
-দুলাল সরকার

কিছু বর্ণমালা মানুষকে আগুনের মুখোমুখি করেছিল
কিছু বর্ণমালা মানুষকে সত্যের মুখোমুখি করেছিল
কিছু বর্ণমালা মানুষকে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছিল
ঈগলের ডাকে সম্বিত ফিরে পেয়ে কিছু বর্ণমালা
বিক্ষিপ্ত তরঙ্গের প্রেরণা জুগিয়েছিল...

উৎপাদনশীল কালো মাটির কিছু শব্দাবলী
ক্রমশ স্বদেশের জন্য কিছু ভালোবাসা শিখিয়েছিল
আকাশ স্পর্শ করে বেঁচে থাকার জন্য কিছু
ভিন্ন অর্থের মধ্যে মহাকাশের নিঃসীম সৌন্দর্যের
আলোর মুখপাত্র হতে বলেছিল !

বাংলার প্রান্তিক মানুষের শস্য-শ্যামল
ভূমির অধিকার চেয়ে যে গান মানুষকে
লোকজ উৎসের কথা বলেছিল...সব দূরত্ব ঘুচিয়ে
মানুষে মানুষে স্বপ্নের কথা বলেছিল
রৌদ্রের কথা বলতে গিয়ে নিরন্তর
জীবনের কথা শুনিয়ে দিল,
আমি সেই বর্ণমালার কথা বলি
আমি সেই ফাল্গুনের কথা বলি
আমি সেই ভালোবাসার কথা বলি।

পাঠ্যবই
-মুজিব ইরম

অনেক লিখেছি আমি অপাঠ্য পুস্তক
এবার লিখিবো কিছু পাঠ্যবই
যদি দয়া হয় পাঠ করো
তুলে রাখো উন্নি গরম বুকে
তোমার নামের গুণে
তোমার দয়ায়
জানি আমি
এ পুস্তক অপাঠ্য রবে না আর
একদিন
পাতাগুলো ভরে যাবে গুণে, আগর চন্দনে।

জীবনানন্দের মতো
-সাফিনা আক্তার

তুমি যদি বৃষ্টি হতে আজ একফোঁটা
তবে তোমাকেই ছুঁয়ে দেখতাম
লজ্জাবতীর লাজ ভেঙে দিতাম আঙুলের বাঁধ
তুমি যদি আজ খেলতে জলের রঙে
একটু হলেই মিশে যেতাম মনে মনে খুলে স্বপ্নফাঁদ
যদি তুমি হতে মেঘ-কোরাস
কচি লেবুপাতার মতো নরম সবুজ তবে আমি
খেলে যেতাম তোমার কালো চোখের তারায়,
হতে যদি জলস্রোতÑ বেবিলনের রাজা!
আমি শুধু রানির মতো নক্ষত্র মেঘের আড়ালে
চাঁদ গলে পড়া জলজোছনায় আর বিদিশায় আমি
এশিয়ান রূপসীদের মতো নেচে- ধূমপ্রিয়!
তুমি বনহংসের মতোÑ শরীরে সুস্বাদু অন্ধকার মেঘমালা
শব্দের মতো ঝুমুর ঝুমুর ধ্বনি সুন্দর বেজে ওঠো
আমি বনহংসী ফাগুনের ভেজা রাত
তুমি জীবনানন্দের মতো তির্যক চেয়ে থাকো
মেখে নিয়ে ঠোঁট-শরীরের সবটুকু স্বাদ
যদি তুমি বৃষ্টি হও একবারÑ
আমি ভিজে যাবার আকাক্সক্ষায়Ñ ভিজবো আবার।

ধরনা
-অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

যতক্ষণ ঝড়ের ভিতর থেকে অক্ষর না আসে
আগুনের মর্ম থেকে প্রদীপ না আসে
পথের প্রদাহ থেকে প্রতীক না আসে
মেঘের গর্জন থেকে গৌরব না আসে
বিদেহী বাতাস থেকে বিন্যাস না আসে
অষ্টপ্রহর থেকে আনন্দ না আসে
শব্দের সংস্থান থেকে সন্ন্যাস না আসে
ততক্ষণ বসে থাকবো শ্মশানে-মশানে, সর্বনাশে,
সাদা পাতা, তোমাদের পাশে।

চৈত্রের রাস্তা
-মন্দিরা এষ

এই রকম চৈত্রে একটি রাস্তা হারিয়ে গেল ;
কিছু লাল ছড়িয়ে-
দ্বিধাযুক্ত ফিসফাস; ঝাউসারি-বালিয়াড়ি জুরে।
কেউ বলছে- বড়ো শান্ত ছিল, যেন মেঠোপথ!
কেউ বলছে- উচ্ছন্নে গিয়েছিল আগেই, এঁকেবেঁকে!
নদী বলছে- জলের কাঙাল ছিল!
জারুল বলছে- বুক পেতে নিতে পারে ধুলোমাখা ফুল!
এইরকম এক চৈত্রে রাস্তাটি হারিয়ে গেল ;
যে পথের অন্যপাড়ে-
আমার ঘুমঘর-
স্নানঘাট-
কাটাঘুড়ি-
ঈশপের দেশ!
যে-পথের এপার বিক্ষত সহস্র পদাঘাতে!
চিহ্ন রেখে হারিয়ে গেল রাস্তা;
এরচেয়ে মরে যেতে পারত!

আমাদের ভালোবাসার দিন
-আমিনুল ইসলাম

যখন কুঁড়িরা শুকিয়ে জীর্ণশিশু
বিলের কবিতা চৌচির অক্ষরা
বৃষ্টিøতে দখিনা মৌসুমী হাওয়া
তখন মধুর প্রণয়ের হরকরা।

যখন জলের যৌবন থই থই
জলদে জলদে জীবন গুঞ্জরিত
তখন নিবিড় খোয়াবের বীজতলা
নবান্নমুখি হাসিতে মঞ্জুরিত।

শুভ্রমেঘের পালকে যখন আঁকা
ব্যাকুল প্রাণের বেদনার জলছবি
ঢোলকবিহীন হৃদয়বেদীতে তখন
আমরা দুজন যুগলপ্রাণের ছবি।

যখন শস্যে উদ্ভাসিত ভূমি
ইঁদুর ব্যস্ত ভূগর্ভস্থ গোলায়
ভালোবাসাঘন নবান্ন উৎসবে
আমরা তখন হিল্লোলিত দোলায়।

যখন হিমের কয়েদি রোদেশ¡র
বুলবুলি খোঁজে নীড়গরমের হাওয়া
ভাপাপিঠার গন্ধে-তাপে তখন
ভালোবাসিবার প্রাঙ্গণটুক ছাওয়া।

যখন কোকিল প্রত্যাগত ঘরে
নতুন শাড়িতে পর্ণমোচীকে চেনা
আমরা তখন প্রণয়ের গুলবাগে
ফোটাই শিমুল পলাশ হাসনাহেনা।
আমরা পেয়েছি হৃদয়জলের নদী
কেউবা সে-জলে ভরে স্বপ্নের ঘট
কারোবা কণ্ঠে উত্তাল ভাটিয়ালী
কেউবা উদাস মাথায় জমিয়ে জট।

ভাওয়াইয়া বাজে নকশিকাঁথার মাঠে
সমবেত গানে বটমূলও সুরময়ী
মেহেদিচালিত হাতজড়ানো হাতে
বকুলতলায় আমরা মৃত্যুঞ্জয়ী।

ঝঞ্ঝার মুখেও আমাদের ভার্সিটি
সকালে বিকালে প্রণয়ের পাঠশালা
টিএসসি আজ প্রণয়ের সংসদ
কোরামহীনতা যেথায় রচে না তালা।

যখন ছড়ায় লুটের সূক্ষ্মজাল
আইএমএফ বা ধূর্ত বিশ¡ব্যাংক
অথবা তৃতীয়বিশে¡র রাস্তায়
গর্জে ওঠে সর্বগ্রাসীর ট্যাংক;

তখনো আমরা হাতে রেখে আর হাত
বজ্রশপথ করে যাই নবায়ন
মুগ্ধ ঠোঁটে ভিড়ে যায় শুধু ঠোঁট
পতাকায় চোখ বন্ধুত্বপরায়ণ।

আমাদের রাত আমাদের যতদিন
নয় তো কেবলি সময়ের সিলেবাস
প্রতিটি সেকেন্ড মিনিট অথবা ক্ষণ
উষ্ণ করিছে প্রেমপ্রণয়ের শ্বাস।

আমাদের নেই পেট্রিয়টের গোলা
বি-ফিফটি-টু লাগবে না কোনো কাজে
অধরে অধরে আমরা রচিলে মিনার
টুইন টাওয়ারও নুয়ে আসে ঘন লাজে।

আমরা মানি না ভালোবাসাহীন দিন
আমরা মানি না ভালোবাসাহীন রাত
বসন্ত অথবা সিডর ঘূর্ণিঝড়ে
প্রেমের বাঁধনে আমরা বেঁধেছি হাত।