শনিবার,২৩ মার্চ ২০১৯
হোম / খাবার-দাবার / মিষ্টির মজার মজার রেসিপি
০২/২০/২০১৯

মিষ্টির মজার মজার রেসিপি

-

উৎসব-পার্বন, মেহমানদারি কিংবা নিছক পাতে খাবার জন্য হোক, মিষ্টিমুখ করা একেবারে আবশ্যক। আর আমাদের দেশে যত স্বাদের ও উপকরণের মিষ্টি আছে, তার জুড়ি মেলা আসলেই ভার। সেরকমই কিছু অপূর্ব স্বাদের মিষ্টির রেসিপি এবার পাঠকদের জন্য দেয়া হলো।

বাদামের স্পেশাল ফিরনি


উপকরণ

দুধ- ২ লিটার
পোলাও চাল- (৪ ভাগের ১ ভাগ) কাপ
বাদাম- ১ কাপ (কাজু, আমন্ড ও পেস্তা)
চিনি- দেড় কাপ
ডিম- ২টা
এলাচ, দারুচিনি- ৩টা করে
গুড়া দুধ- ১ কাপ
মাখন- ৫০/১০০ গ্রাম (কম বেশি করা যাবে পছন্দমতো)
সাজানোর জন্য বাদাম- পরিমাণমতো

প্রণালি

দুধে এলাচ দারুচিনি দিয়ে ফুটাতে হবে। পোলাও চাল ধুয়ে ভিজিয়ে রাখতে হবে ১ ঘণ্টা। পরে হামানদিস্তায় চাল একটু ভেঙে বা মোটা গুঁড়ো করে নিতে হবে।
দুধ থেকে এলাচ দারুচিনিগুলি উঠিয়ে গুঁড়া চাল দিয়ে ক্রমাগত নাড়তে হবে। যেন দলা পাকিয়ে না যায়। মাঝারি আঁচে চাল ফুটাতে হবে। চাল ভালোমতো সিদ্ধ হলে চিনি দিতে হবে।
বাদামগুলি আধা ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রেখে গুঁড়া করে ফিরনিতে দিতে হবে। কিছুক্ষণ পরে ডিম ভালো করে ফেটিয়ে একটু উপর থেকে ফিরনিতে অল্প অল্প করে দিতে হবে ও নেড়ে নেড়ে মিশাতে হবে।
এরপর গুঁড়া দুধ পরিমাণমতো পানিতে গুলে ফিরনিতে দিতে হবে যেন ফিরনির ঘনত্ব ঠিক থাকে সেদিকে খেয়াল রেখে। ঘনত্ব, মিষ্টি সব কিছু ঠিক করে শেষে মাখন দিতে হবে।
সাজানোর জন্য বাদামগুলো কুচি করে অল্প মাখন বা ঘি দিয়ে হাল্কা ভেজে নিতে হবে।
শেষে মাখন গলে গেলে ফিরনি নামিয়ে পরিবেশন পাত্রে ঢেলে উপরে কাজু পেস্তা আমন্ড দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করতে হবে।
ক্রিমি, মোলায়েম, মজাদার এই ফিরনি ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে বা রুম টে¤পারেচারে - দুটোতেই অনেক মজার।

ক্ষীর জামুন


উপকরণ

গুঁড়া দুধ- ১ কাপ
ময়দা- ২ টেবিল চামচ
বেকিং পাউডার- ১ চা চামচ
ঘি- ২ টেবিল চামচ
ডিম- ১টা বড়
এলাচিগুঁড়া- সামান্য (ইচ্ছা)
সিরা
চিনি- দেড় কাপ
পানি- সাড়ে কাপ
এলাচ- ২/৩টি
জাফরান- ১ চিমটি

ক্ষীর তৈরি করতে-

দুধ- ১ লিটার
চিনি- ১/৩ কাপ
জাফরান- সামান্য
গুঁড়া দুধ ও ময়দা- ১ চা চামচ করে

প্রণালি

গুঁড়া দুধ, ময়দা ও বেকিং পাউডার চালুনি দিয়ে চেলে এর সাথে ঘি খুব ভালো করে মিশাতে হবে। এলাচগুঁড়া দিলে এই সময় দিতে হবে। ডিম ভালো করে ফেটিয়ে দুধ এর মিশ্রণে হালকা হাতে মিশাতে হবে।
এবার গোল গোল করে মিষ্টি বানিয়ে ডুবোতেলে মাঝারি আঁচে লাল করে ভেজে নিতে হবে।
আগেই চিনি পানি ও ৩/৪টা এলাচ দিয়ে সিড়া করে রাখতে হবে। ভাজা মিষ্টিগুলি সিড়ায় ছেড়ে ৫/৬ মিনিট ফুটাতে হবে ঢাকনা দিয়ে মাঝারি হিটে। মিষ্টি হয়ে গেলে ৩/৪ ঘণ্টা ঢেকে ঠান্ডা করতে হবে।

দুধ ও চিনি একসাথে ফুটিয়ে ঘন করতে হবে। শেষে গুঁড়া দুধ ও ময়দা ও জাফরান দিয়ে ঘন ক্ষীর করে নামিয়ে ঠান্ডা করতে হবে।
মিষ্টিগুলি মাঝ বরাবর কেটে তার উপর ক্ষীর দিয়ে উপরে বাদাম দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করতে হবে।
লোভনীয় এই মিষ্টি খুবই মজার।

ক্ষীরসাপাতি মিষ্টি

এই মিষ্টিতে প্রথমে লম্বা করে রসগোল্লা বানিয়ে এর ভিতর ক্ষীরসা দিয়ে মাওয়ায় গড়িয়ে নিতে হবে। অনেক অনেক মজার এই মিষ্টি।

উপকরণ

¯পঞ্জ রসগোল্লা তৈরি করতে-
দুধ- ১ লিটার
ভিনেগার/ছানার পানি- হাফ কাপ। (ভিনিগার নিলে হাফ কাপে পানি ও ভিনেগার সমান করে মিলিয়ে নিতে হবে)
সিরা- চিনি দেড় কাপ
পানি- ৪ কাপ
ছানা তৈরি-

দুধ চুলায় দিয়ে ফুটে উঠলে চুলা বন্ধ করে ছানার পানি/ভিনেগার অল্প অল্প করে দিতে হবে এবং চামচ দিয়ে নেড়ে দেখতে হবে। সবুজ পানি ছাড়লে ৫ মিনিট পর ছানা পাতলা কাপড়ে ঢেলে ভালো করে ধুয়ে নিন।
এবার পানি ঝরতে দিন। ১ঘণ্টা পর বাড়তি পানি চেপে বের করে নিন। এবার ভালো করে মথে নিন। হাতে তেল উঠলে বুঝতে হবে মথা হয়ে গেছে।
সিরা চুলায় দিয়ে ফুটে উঠলে ছানা দিয়ে লম্বা করে মিষ্টি বানিয়ে সিরায় ছেড়ে দিন ও ১৫ মিনিট ঢাকনা দিয়ে ফুটিয়ে নিন। চুলা বন্ধ করে ৪/৫ ঘণ্টা সিরায় রাখতে হবে।
ছানার সাথে ১ চা চামচ ময়দা ও ১ চা চামচ চিনি মিশানো যায় মথার সময়।


উপকরণ

ক্ষীরসা তৈরি করতে-
দুধ- ১ লিটার
চিনি- তিন ভাগের এককাপ
ময়দা- ১ চা চামচ (ইচ্ছা)

পদ্ধতি :

দুধ ও চিনি চুলায় দিয়ে নেড়ে নেড়ে জ্বাল দিয়ে ঘন করতে হবে। প্রয়োজন হলে অল্প ময়দা বা গুঁড়া দুধ দেওয়া যায়। একদম ঘন হলে নামাতে হবে।

মাওয়া তৈরি :

গুঁড়া দুধ - হাফ কাপ
ঘি- হাফ চা চামচ
গোলাপ এসেন্স- ১/২ ফোঁটা
সব উপকরণ এক সাথে মিশিয়ে নিলেই হয়ে যাবে।

প্রণালি

¯পঞ্জ রসগোল্লার রস হালকা চিপে ছুরি দিয়ে মাঝে কেটে ক্ষীরসা ঢুকিয়ে দিতে হবে।
এবার মিষ্টিগুলি মাওয়ায় গড়িয়ে পেস্তা কুচি ছড়িয়ে পরিবেশন করতে হবে।
দারুণ মজার এই মিষ্টি একবার খেলে স্বাদ মুখে লেগে থাকে...

মনোহরি পটল

উপকরণ

পটল- ১ পোয়া
চিনি- ১ কাপ
পানি- আড়াই কাপ
দুধ- ১ লিটার
চিনি- ১/৩ কাপ
ঘি- ১/৪ কাপ
জাফরান- ১ চিমটি
এলাচ- ৩/৪টা
সবুজ ফুড কালার- সামান্য
বাদাম- সাজানোর জন্য


প্রণালি

পটল হালকা করে আচড়িয়ে ছিলে নিতে হবে। ধারালো ছুরি দিয়ে পটল মাঝ বরাবর চিরে সাবধানে সব বিচি ও অন্য সবকিছু বের করে নিতে হবে।
হাঁড়িতে পরিমাণমতো পানি নিয়ে ফুটাতে হবে ও এতে এক চিমটি লবণ দিতে হবে। পটল ভালো করে ধুয়ে ফুটন্ত পানিতে দিয়ে ১০ মিনিট ফুটাতে হবে। পটলগুলি উঠিয়ে ঠান্ডা পানিতে ছেড়ে দিতে হবে এতে রঙ ঠিক থাকবে পটলের।
এরপর পটল এর পানি ঝরিয়ে প্যানে ঘি দিয়ে পটলগুলি হালকা ভেজে নিতে হবে।
একটা হাঁড়িতে ১ কাপ চিনি ও ২.১/২ কাপ পানি দিয়ে সিরা করতে হবে। কয়েকটা এলাচ দিতে হবে। সিরা ফুটে উঠলে পটল গুলি দিয়ে ১০ মিনিট ফুটাতে হবে চুলার আগুন জোরে বাড়িয়ে। ঢাকনা ছাড়া করতে হবে।
ইচ্ছা হলে সিরায় সামান্য সবুজ রঙ দেওয়া যাবে। পটলগুলি হয়ে গেলে নামিয়ে ঠান্ডা করতে হবে।

ক্ষিরসা তৈরি করতে-
১ লিটার দুধ ফুটাতে হবে। এতে ১/৩ কাপ চিনি দিয়ে ফুটিয়ে ঘন করতে হবে। সামান্য জাফরান ও ১ চা চামুচ ঘি দিয়ে ক্ষিরসার মতো ঘন হলে নামাতে হবে।
শেষে পটলগুলিতে ক্ষিরসা ভরে উপরে বাদামকুচি দিয়ে পরিবেশন করতে হবে।
সব বয়সের সবার জন্যই মজাদার এই মনোহরি পটল।


রেসিপি ও ছবিঃ আসমা ওয়াহেদ