শনিবার,২৩ মার্চ ২০১৯
হোম / জীবনযাপন / দেরিতে ঘুম থেকে ওঠার ফলাফল
০২/১৬/২০১৯

দেরিতে ঘুম থেকে ওঠার ফলাফল

- অনন্যা ডেস্ক:

বর্তমান সময়ে গভীর রাত পর্যন্ত জেগে দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা স্বাভাবিক বিষয় হয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে তরূণদের মাঝে এমন প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা যায়।
আবার অনেকেই আছেন যারা সব সময়ই খুব সকালে ঘুম থেকে জেগে ওঠেন।সূর্যের আলো ঘরে পড়তেই তাদের ঘুম নিমিষেই বিদায় নেয়।
সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা এই দুই ধরণের মানুষের মস্তিষ্কের, এমন অভ্যাসের প্রভাব বোঝার চেষ্টা করেছেন। তারা খুব সকালে এবং দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা, এই দুই দলের মানুষের মস্তিষ্কে এমআরআই স্ক্যান করেছেন।
তারপর তাদের সকাল আটটা থেকে সন্ধ্যা আটটা পর্যন্ত বিভিন্ন কাজ করতে দিয়েছেন। এর মাঝে দিনের বেলায় তাদের ঘুম ভাব কতোটা হয় তা জানতে চাওয়া হয়।

এই গবেষণায় দেখা যায়, যারা রাত জাগেন তাদের মস্তিষ্কের যে অংশ সাধারণত মানুষের চেতনা তৈরি করে, সেই অংশের সাথে সংযোগ কম থাকতে দেখা যায়।।
বিজ্ঞানীদের মতে, এই দলের মানুষদের মনোযোগ কম থাকে। যেকোন বিষয়ে তাদের প্রতিক্রিয়া বিলম্বিত হয় এবং ঘুম ঘুম ভাব বেশি থাকে।
আর যারা সকালে ওঠেন তাদের ঘুম ভাব কম থাকতে দেখা যায়। এমনকি তারা সব কাজ অতি দ্রুত করতে পারেন।
তবে যারা বেশি রাত জাগেন তাদের রাত আটটার পর থেকেই অন্যরকম প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। সেসময় তাদের ঘুম ভাব কমে যায় এবং প্রতিক্রিয়া দ্রুত হয়।

গবেষকরা জানান, ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ মানুষ রাতে দেরিতে ঘুম এবং সকালে দেরিতে ওঠা পছন্দ করেন।
এই গবেষণার প্রধান গবেষক ড. এলিস ফেসার চাইল্ডস বলেন, 'এমন মানুষদের স্কুল জীবনে সকালে উঠতে হয়, কর্মজীবনে হয়ত আরও আগে উঠতে হয়। সারাজীবন তাদের শরীরের ছন্দের বিপরীতে লড়াই করে কাজ করতে হয়।'
তিনি আরও বলেন, শরীরের ছন্দের বিপরীতে কাজ করলে মানুষের কর্মদক্ষতা ও স্বাস্থ্য দুটোতেই সম্ভবত নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এমনকি সকালের দিকে তাদের কাজের দক্ষতা বেশ কম থাকতে পারে।
ড. এলিসের মতে, সমাজে সময়ের ব্যবস্থাপনা বিষয়ক ধারণা এমন মানুষদের জন্য খানিকটা নমনীয় হলে, হয়তো তাদের কর্মদক্ষতা ও স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি দুটোই ভিন্ন হতে পারতো।
রাত জাগা আর দেরিতে ঘুম থেকে ওঠা ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যে আরও কী কী প্রভাব পড়তে পারে, বিশেষ করে স্বাভাবিক রুটিনের কার্যক্রম, যেমন সকালে নির্দিষ্ট সময়ে অফিসে বা স্কুলে-কলেজে যাওয়ার জন্য তারা কতটা উপযোগী সে বিষয়ে আরও বিস্তারিত গবেষণার কথা জানানো হয় বিজ্ঞানীদের তরফ থেকে।