শনিবার,১৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৯
হোম / সম্পাদকীয় / চৈত্রের প্রহর শেষের রাঙা আলো
০২/০৬/২০১৯

চৈত্রের প্রহর শেষের রাঙা আলো

-

এ জগৎটা আসলে ‘মায়া’। আর সেই মায়ার নাম ‘প্রেম’। এ কথা দার্শনিকদের। অন্যদিকে বিজ্ঞান বলে, এ মায়ার নাম হলো ‘অক্সিটোসিন’ নামের একটি হরমোন! ‘অক্সিটোসিন’ হরমোনের নিঃসরণই নিয়ন্ত্রণ করে আমাদের মস্তিষ্কের প্রেমানুভূতি। ‘ভেবে দেখুন, প্রেমের সৈন্য নেই, সামন্ত নেই, অথচ প্রেম বিশ্ববিজয়ী।’
রবীন্দ্ররচনাবলী থেকে কথাগুলো খুঁজে পাওয়া গেল। সত্যিই তো! প্রেমের মতো পরাশক্তি আর কোথায় আছে? কিশোর কুমারের সেই গানের মতোÑ ‘প্রেম বড় মধুর/কভু কাছে কভু সুদূর।’ ইংল্যান্ডের দুর্ধর্ষ রাজা অষ্টম হেনরি প্রেমে পড়ে ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন তাঁর রাষ্ট্রধর্মই। তিনি প্রেমে পড়েছিলেন অ্যান বলিন নামের এক প্রটেস্ট্যান্ট রমণীর! অথচ ইংল্যান্ড তখনো ক্যাথলিক রাজ্য। তাই ধর্ম যখন বাধা হয়ে দাঁড়াল, তখন প্রেমের প্রবল শক্তির তোড়ে ভেসে গেল রাষ্ট্রধর্মই। প্রেমিকার জন্য রাজা অষ্টম হেনরি ইংল্যান্ডকে ঘোষণা করলেন ‘প্রটেস্ট্যান্ট’ দেশ হিসেবে। বিখ্যাত ফরাসি কবি গ্যেটে মনে করেন, ‘একমাত্র ভালোবাসা সারাতে পারে সব রোগ।’ আবার প্লেটোর ধারণা- ‘প্রেম হলো মানসিক ব্যাধি।’ রবীন্দ্রনাথ যেমন সর্বনাশ দেখেছিলেন প্রেমিকার চোখে- ‘প্রহর শেষের আলোয় রাঙা সেদিন চৈত্রমাস/ তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ।’ সর্বনাশই বটে। প্রেম বলেÑআমি আকাশ হয়ে তোমায় দেখব, বাতাস হয়ে তোমায় স্পর্শ করব, পথিক হয়ে তোমায় পথ দেখাব আর পথের পাশে বেলগাছ হয়ে তোমার মাথায় বেল ভাঙব।
প্রেম সজীব রাখার মূলমন্ত্র হলো পরস্পরের প্রতি বিশ্বস্ততা। অবিশ্বস্ততার অনেক গল্প ছড়িয়ে আছে চারদিকে। এক কথিত প্রেমিকা কার্ডের দোকানে গিয়ে প্রেমিককে দেওয়ার মতো সবচেয়ে সুন্দর কার্ডটি চাইলেন। দোকানি একটি কার্ড বের করে আনলেন, তাতে লেখাÑ ‘আমি ভালোবাসি তোমাকে, শুধুই তোমাকে।’ মেয়েটির কার্ড দেখে খুব পছন্দ হলো, দোকানিকে তিনি ‘এক ডজন’ কার্ড দিতে বললেন।

আবার এক কথিত প্রেমিক জুয়েলারির দোকানে গিয়ে প্রেমিকাকে উপহার দেওয়ার জন্য সবচেয়ে দামি ব্রেসলেট চাইলেন। দোকানদার বললেন, ‘স্যার, ব্রেসলেটে কি আপনার প্রেমিকার নাম লিখে দেব?’ ভদ্রলোক কিছুক্ষণ চিন্তা করে বললেন, ‘না, তার দরকার নেই। তার চেয়ে বরং লিখে দিনÑ ‘তুমিই আমার প্রথম এবং একমাত্র প্রেম।’ প্রেমিক ছেলেটি আসলে ভাবছিলেন যে, এই প্রেমিকার সঙ্গে যদি তার ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়, তাহলে ব্রেসলেটটি তিনি নতুন কোনো প্রেমিকাকে দিতে পারবেন।
এখন নাকি একাধিক প্রেম না থাকলে কেউ ‘মর্ডান’ হতে পারেন না। এদের জন্যই শতবছর আগে লেখা হয়েছিলÑ ‘এরা সুখের লাগি চাহে প্রেম, প্রেম মেলে না, শুধু সুখ চলে যায়।’ এ-কারণে ভ্যালেন্টাইন ডে এখন হয়ে উঠেছে কর্পোরেট বাণিজ্যের জমজমাট বাজার। এই বাজারকে কেন্দ্র করে সারাবিশে^ ব্যবসা হয় শত ট্রিলিয়ন ডলারের। ভ্যালেন্টাইন ডে-তে কে না এই গড্ডলিকায় গা ভাসায়?
আসলে, সময়ের ¯্রােতে সবাই উজানেই গা ভাসাতে চায়। তাতে ক্ষতি নেই বিশেষ। তবে, হে নারী, নিজের মর্যাদা হারিয়ে ফেলো না তুমি। কোনো আঘাতে ভেঙে পড়ো না, ভালোবাসতে শেখো নিজেকেও।
সবাইকে ফাগুনের শুভেচ্ছা।

- তাসমিমা হোসেন