সোমবার,২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯
হোম / ফিচার / পিরিয়ডে সুরক্ষা দেবে কচুরিপানা থেকে তৈরি স্যানিটারি ন্যাপকিন
০১/২৭/২০১৯

পিরিয়ডে সুরক্ষা দেবে কচুরিপানা থেকে তৈরি স্যানিটারি ন্যাপকিন

-

কচুরিপানা থেকে তৈরি করা যাবে স্যানিটারি নাপকিন। তৈরি খরচ দুই থেকে তিনটাকা। বিক্রি দাম পাঁচ টাকা। মাত্র পাঁচটাকায় পিরিয়ডকালীন সময়ে সুরক্ষা পাবে নারীরা। সাধ্যের মধ্যে সুখ এবং স্বাস্থ্যসম্মত। বিশেষ করে নি¤œআয়ের মানুষ এ-ধরনের সেবা থেকে বেশি সুরক্ষা পাবে। অন্যদিকে এই স্যানিটারি ন্যাপকিন তৈরির কাজ করছে সুবিধা বঞ্চিত নারীরা। একই সঙ্গে তারা এটি বাজারজাত এবং ব্যবহারও করতে পারবে।

কুচুরিপানা থেকে তৈরি স্যানিটারি ন্যাপকিন তৈরি এবং সে কাজে সুবিধাবঞ্চিত নারীদের ব্যবহার করার উদ্যোগ ‘রিসার্জেন্স’-এর জন্য ‘গ্লোবাল স্টুডেন্ট এন্ট্রাপেনিউর অ্যাওয়ার্ডের’ (জিএসইএ) বাংলাদেশপর্বে বিজয়ী হয়েছেন নাজিবা নায়লা উয়াফা। ব্যতিক্রমর্ধমী এই আবিষ্কারের জন্য তিনি ২০১৯ সালে চীনের ম্যাকাওয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জিএসইএ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। গত ২৪ নভেম্বর ঢাকার জিপি হাউসে উদ্যোক্তাদের সংগঠন এন্ট্রাপেনিউর বাংলাদেশ (ইও বাংলাদেশ) উদ্যোগে চূড়ান্তপর্ব অনুষ্ঠিত হয়। ইও বাংলাদেশ চুতুর্থবারের মতো এ অনুষ্ঠান আয়োজন করল।

গত ২৮ নভেম্বর রাজধানীর বাংলামটরের ইস্কাটন রোডের বাসায় কথা হলো নাজিবা নায়লা উয়াফা’র সঙ্গে। তিনি জানালেন শুরুটা দুই বছর আগে। “মাশিয়াত রহমান, রাফায়েত খান ও আমি তিন বন্ধু মিলে প্রথমে এটা শুরু করি। এখন আমাদের কাজ অনেকদূর এগিয়ে গেছে। ‘রিসার্জেন্স’-এর পক্ষ থেকে আমি এবার অংশগ্রহণ করি। প্রথমে অনলাইনে আবেদন করি। বাংলাদেশের ২১জন শিক্ষার্থী ও উদ্যোক্তা এই পুরস্কারে অংশগ্রহণ করে প্রতিদ্বন্দি¦তা করে। এর মধ্যে থেকে সেরা পাঁচজন ফাইনালে অংশ করে। সর্বশেষ চূড়ান্ত ফলাফলে ‘রিসার্জেন্স’-এর পক্ষে আমি বিজয়ী হই।”

প্রথমে কাজ শুরু করেন মোহাম্মদপুরের বিহারী ক্যাম্পে। এর পর হাজারীবাগে। ‘রিসার্জেন্স দরকার’, ‘মেয়ে বলত কি বোঝ’, ‘আমার শরীর আমার অধিকার’, ‘পিরিয়ড নিয়ে কথা বলি’- পর্যায়ক্রমে এই চারটি শিরোনামে ক্যাম্পেইন করেন। উয়াফা আরো জানালেন, “আমি যখন বিহারী ক্যাম্পে বা বস্তিতে যাই, তখন সেখানে নারীদের পিরিয়ডকালীন সময়ের বিভিন্ন সমস্যা দেখতে পেয়েছি। কারণ তারা এই বিষয়টাকে অন্যভাবে গ্রহণ করে। পিরিয়ড হলে নোংরা বা পুরাতন কাপড় ব্যবহার করে। আবার সেটি ব্যবহারের পর যেনতেন স্থানে ফেলে রাখে। ফলে পরিবেশ, সাস্থ্য দুটোই ঝুঁকির মধ্যে থাকে। আবার এ-কারণে তারা কাজেও যেতে পারে না। কারণ আমাদের সমাজে এখনও কুসংস্কার ও ধর্মান্ধতা রয়ে গেছে। বিশেষ করে পরিবারের ভেতরেই মেয়েরা অনেক ক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন হয়। বিশেষ করে উঠতি বয়সি বালিকাদের ক্ষেত্রে এটা বেশি সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সেক্ষেত্রে আমাদের এই আবিষ্কার কচুরিপানা থেকে স্যানিটারি ন্যাপকিন সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের জন্য উপকার দিবে। একদিকে তারা এটি তৈরি করেত পারবেন। অন্যদিকে ব্যবহার ও বাজারজাত করে উপার্জন করতে পারবেন।”

বতর্মানে ২০জন সুবিধাবঞ্চিত নারী এই কাজে জড়িত রয়েছেন। এই ন্যাপকিন তৈরির জন্যও বেশি ঝামেলা পোহাতে হয় না। ভ্রাম্যমাণ সিস্টেমে যে-কোনো জায়গায় তৈরি করা সম্ভব। পর্যায়ক্রমে আরো বৃদ্ধি করে সারা বাংলাশে ছড়িয়ে দিতে চান। পিরিয়ড নিয়ে সমস্যা যেন বাংলাদেশে না থাকে সে লক্ষ্যে ছুটে চলছেন তিনবন্ধু। সামনের দিনে প্রতিবন্ধী নারীদের নিয়ে কাজ করতে চান। কারণ প্রতিবন্ধী নারীদের আরো সমস্যার মোকাবেলা করতে হয়।

নাজিবা নায়লা উয়াফার জন্ম ৩১ অক্টোবর, ১৯৯৫ সালে রাজধানী ঢাকায়। দুইবোনের মধ্যে তিনি বড়। ছোটবোন নারমীন ওয়াফা এইচএসি পড়ছেন ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে। বাবা এম এ ওয়াফা এবং মা সুরমা ওয়াফা। ২০১২ সালে এসএসসি, ২০১৪ সালে এইচএসসি পাস করে বর্তমানে তিনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ শেষবর্ষে পড়াশোনা করছেন। পাশাপাশি তিনি একটি এফএম রেডিওতে আরজে হিসেবে কাজ করেন।


- ইমাম মেহেদী