সোমবার,২৭ মে ২০১৯
হোম / জীবনযাপন / সন্তান হোক বিজ্ঞানমনস্ক
০১/২৭/২০১৯

সন্তান হোক বিজ্ঞানমনস্ক

-

বাচ্চারা সব বিষয়ে একটু বেশিই কৌতূহলী। এই কৌতূহলই তাদের জ্ঞানভান্ডারকে আরও সমৃদ্ধ করতে নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। আপনার সন্তানের ভেতরের কৌতূহলকে কাজে লাগিয়ে ছোটবেলা থেকেই তাকে বিজ্ঞানমনস্কভাবে তৈরি করে নিতে পারেন আপনি।

বর্তমানে প্রযুক্তি নিয়ে বুঁদ হয়ে থাকা অনেক বাচ্চার কাছেও বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিষয়টা কিছুটা একঘেয়ে মনে হতে পারে। তবে আপনার সন্তানকে নিচের কৌশলগুলো অনুসরণ করে বিজ্ঞান বিষয়ে শেখাতে গেলে সম্ভবত খুব একটা বেগ পেতে হবে না। একবার চেষ্টা করেই দেখুন না!


প্রতিদিনের জীবনে একটুখানি বিজ্ঞান
সন্তানকে নিয়ে ছোট ছোট সায়েন্টিফিক এক্সপেরিমেন্ট করুন। যেমন মাঝে মাঝে আপনার রান্নাঘরকেই ল্যাবরেটরিতে পরিণত করতে পারেন। ভিনেগার আর সোডা দিয়ে আগ্নেয়গিরি বানানোর মতো মজাদার কাজের জন্য রান্নাঘরের চাইতে উপযুক্ত জায়গা আর হতেই পারে না। বিজ্ঞানে তাদের আগ্রহী করে তুলতে ভিন্ন ভিন্ন মিশ্রণ এবং সল্যুশনের গঠন এবং কীভাবে এসব উপাদানগুলো দিয়ে খাবার তৈরি হয় তা দেখাতে পারেন। এছাড়া আপনি নিজে যদি বিজ্ঞান সম্পর্ক স্বচ্ছ ধারণা রাখেন তবে ছোট ছোট থিওরি মজার ছলে বা বাস্তব উদাহরণ দিয়ে বোঝাতে পারেন।

এছাড়া সন্তানদের রোজকার এমন সব কাজে তাদের যুক্ত করতে পারেন যাতে কিছুটা হলেও বিজ্ঞানের ব্যবহার আছে। ক্লিনিং টুলসকে ব্যবহার করতে পারেন এক্ষেত্রে। শেখাতে পারেন কীভাবে অ্যাসিড জং ইত্যাদি ময়লা দূর করতে পারে। ডিশ সাবান দিয়ে বুদবুদ তৈরি করতে পারেন এবং

কে আগে শেষ করতে পারে এই প্রতিযোগিতা-এসবই ছোটবেলা থেকে সন্তানদের বিজ্ঞানমনস্ক করে তুলবে।

বিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট খেলনা উপহার দিতে পারেন
বাচ্চারা খেলাচ্ছলে শিখতে ভালোবাসে। এমন অনেক খেলা আছে যা বিজ্ঞান শেখানোর জন্য আপনি আপনার সন্তানের সঙ্গে খেলতে পারেন। এমনই একটা খেলা হচ্ছে ফ্ল্যাশ কার্ড। এর মাধ্যমে আপনি বিভিন্ন গ্রহ নক্ষত্র কিংবা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ চেনাতে পারেন আপনার সন্তানকে। এমন অনেক খেলাই আছে আপনার আশপাশে, শুধু খুঁজে বের করা বাকি এই যা!


বেড়ানো আর শেখা হোক একই সাথে
বাচ্চাদেরকে আনন্দ দিয়ে শেখানোর জন্য তাদেরকে বিভিন্ন বিজ্ঞানকেন্দ্র এবং জাদুঘরে নিয়ে যেতে পারেন যেখানে বিভিন্ন পুরনো আর্টিফ্যাক্টস কিংবা নতুন কোনো বিজ্ঞান প্রকল্পের রেপ্লিকা দেখানো হয় অথবা বিজ্ঞান সম্পর্কিত মুভি দেখানো হয়।

বিজ্ঞানের বিভিন্ন রূপ দেখাতে আপনার সন্তানকে বিভিন্ন সায়েন্স ক্যাম্প, প্ল্যানেটারিয়াম কিংবা চিড়িয়াখানায় নিয়ে যেতে পারেন। তাদের স্বাধীন শেখার প্রক্রিয়াকে আরও গতি দেয়ার জন্য বিভিন্ন সংস্থা এবং ইভেন্টে যেতে দিতে পারেন তাদের।


খেলাচ্ছলে শেখার প্রক্রিয়া
আপনি নিজেই সন্তানকে সাথে নিয়ে বিভিন্ন প্রজেক্ট বানিয়ে তাদের সৃষ্টিশীলতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারেন। কিছু মজাদার পরীক্ষা শিখিয়ে দিতে পারেন যেমন, মেন্টোসকে ডায়েট কোকে ডুবিয়ে ক্ষুদে বিস্ফোরণ ঘটানো কিংবা সাধারণ পানিতে ডিম ভাসানোর পদ্ধতি শিখে। পরীক্ষাগুলো করার সাথে সাথে বাচ্চাদের কাছে এসবের কার্যকারণ ব্যাখ্যা করে দিলে যেমন এসব বিষয় তাদের মাথায় গেঁথে যাবে তেমনি বিজ্ঞানেও আগ্রহ বাড়বে।

সন্তান প্রশ্ন করুক যত খুশি
সন্তানকে বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে আগ্রহী করার আরেকটা উপায় হলো তাকে বারবার প্রশ্ন করতে উৎসাহ দেয়া। ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে তাদের প্রশ্ন শুনুন। এরপর এ বিষয়ে ধারণা এবং বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা দিতে চেষ্টা করুন। তার উত্তর যদি জানা না থাকে তবে সন্তানকে সঙ্গে নিয়েই বই বা গুগলের দ্বারস্থ হোন। এতে করে তাদের তথ্যের ভান্ডার তো সমৃদ্ধ হবেই, সাথে তাদের সমস্যা সমাধানের গুণটাও বাড়বে পাল্লা দিয়ে।

- নাহিয়ান ইসলাম

- ছবিঃ নীল ভৌমিক