বুধবার,১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯
হোম / ফিচার / ছোট্টমণির প্রথম স্কুলে যাওয়া
০১/২১/২০১৯

ছোট্টমণির প্রথম স্কুলে যাওয়া

-

সন্তান প্রথম স্কুলে যাচ্ছে, বাবা-মার কত স্বপ্ন বুকের মাঝে জমা হচ্ছে। সন্তানকে নিয়ে অভিভাবকের স্বপ্ন ও আশংকা সমান। নতুন জায়গা, পরিবেশ, শিক্ষক ও আর সব বাচ্চাকাচ্চার মাঝে সন্তান মানিয়ে নিতে পারবে তো? বাবা-মা, বিশেষ করে মা-কে ছেড়ে স্কুলের সময়টুকু থাকতে পারবে তো? নতুন গন্ডিতে পা বাড়ানোর উত্তেজনা ও ভয় সামলে সন্তানকে তার প্রথম স্কুলের জন্য তৈরি করার ক্ষেত্রে বাবা-মার রয়েছে বেশ কিছু দায়িত্ব।

সন্তানকে স্কুলের সাথে পরিচিত করানো
স্কুলে যাওয়ার মাস দুয়েক আগে থেকেই শিশুকে স্কুলের ব্যাপারে মানসিকভাবে প্রস্তুত করা দরকার। স্কুলে কী হয়, ক্লাসে কী হয়, কতক্ষণ সেখানে থাকতে হবে, এসব বিষয়ে তাকে আগেই শেখান। তাতে করে হঠাৎ করে বাচ্চা নতুন পরিবেশে ঢোকার পূর্বে মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে পারবে।

-সন্তান যদি প্রি-স্কুলে থাকে তাহলে মূল স্কুলের সাথে সহজেই মানিয়ে নিতে পারে। তবে আমাদের এখানে সাধারণত সরাসরি বাচ্চাকে প্রাথমিক শ্রেণীতে ভর্তি করানো হয়। প্রি-স্কুলে থাকলে বাচ্চাকে আগেই দেখান এরপরে সে কোথায় পড়বে।

-প্রয়োজনে ক্লাস শুরুর আগেই বাচ্চাকে নিয়ে স্কুলে ঘুরে আসুন, বাচ্চার শিক্ষকের সাথে দেখা করুন। যাতে করে শিশু বুঝতে পারে কোন দরকার পড়লে তার শিক্ষক তাকে সাহায্য করার জন্য রয়েছে।

-স্কুলের নিয়মকানুনগুলো বাচ্চাকে বুঝিয়ে বলুন এবং কেন নিয়ম মেনে চলা দরকার তাও বুঝিয়ে বলুন। যেমন টয়লেটে যেতে হলে শিক্ষকের অনুমতি নিতে হয়, এমন শিষ্টাচারগুলো।

মূল প্রস্তুতি পর্ব
স্কুলের যাওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে বাচ্চার জন্য ইউনিফর্ম বানানো, ব্যাগ ও খাতা-কলম কেনা, টিফিন বক্স রেডি রাখা দরকার। প্রয়োজনে বাচ্চাকে সাথে নিয়েই এসব করতে পারেন। এতে স্কুল সম্পর্কে তার আগ্রহ জন্মাবে। তাছাড়া-

-স্কুলে যাওয়ার প্রথম দিনের আগেই বাচ্চাকে ইউনিফর্ম ও জুতা পরিয়ে দেখুন। বিশেষ করে জুতা আগে থেকে পরানো ও ফিতা বাঁধা যাতে করে সে এটার সাথে অভ্যস্ত হতে পারে ও কোনো সমস্যা হলে বলতে পারে।

-বাচ্চার উচ্চতা ও ওজনের সাথে মানানসই হালকা ওজনের ব্যাগ কিনুন।

-এমন টিফিনবক্স দিন যেটা সে সহজেই খুলতে পারে। প্রয়োজনে পিকনিক বা বাইরে ভ্রমণে তাকে টিফিনবক্সের সাথে পরিচিত করে তুলুন।

-বাচ্চার আর কিছু দরকার আছে কিনা খুঁজে বের করুন। যেমন পেন্সিলবক্স, মার্কার, লাইব্রেরি ব্যাগ ইত্যাদি।

-সন্তানের নাম তার ইউনিফর্মে ঠিকমতো লেখা আছে কিনা দেখুন। তাছাড়া ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ব্যাগ ও টিফিন বক্সেও নাম লেখা থাকা দরকার।

প্রথম দিকে বাচ্চাকে সামলানো
স্কুলে যাওয়া শুরু করা বাচ্চার জন্য অনেক বড় পরিবর্তন। এক্ষেত্রে নতুন কিছুর ব্যাপারে শিশুর যেমন কিছুটা উত্তেজনা থাকে তেমনি অনেক মানুষ একসাথে দেখে ও নিয়মের বেড়াজালে পড়ে সে ভীতও থাকে। এ নিয়ে আরো কিছু টিপসÑ

-সন্তানকে আদর-ভালোবাসা ও সাপোর্ট দিন। তার প্রথম স্কুলে যাওয়া নিয়ে আপনি কতটা উদ্দীপ্ত ও আগ্রহী তা ওকে বুঝতে দিন। তার ফলে সেও আগ্রহী হয়ে উঠবে।

-স্কুলের মজার সময় নিয়ে কথা বলুন। স্কুল থেকে ফেরার পর প্রথমে বন্ধুবান্ধব, খেলাধুলা ইত্যাদি নিয়ে জিজ্ঞাসা করুন এবং বলতে দিন।

-বড়দের মতোই শিশুদের মধ্যে নানা উদ্বেগ, শঙ্কা, কষ্ট ও আত্মসম্মানবোধ রয়েছে। বাচ্চার আশঙ্কাগুলো দূর করার দায়িত্ব আপনারই।

প্রথম কয়েক সপ্তাহ
স্কুল শুরু হওয়ার পরও বাচ্চার সাপোর্ট প্রয়োজন হয়। এখানে কয়েকটি সহজ টিপস দেওয়া হল।

-স্কুলের ঘণ্টা বাজার আগেই বাচ্চাকে স্কুলে পৌঁছে দিন। আবার ছুটির পর সঠিক সময়ে তাকে আনতে যান। সময়মতো আপনাকে না দেখতে পেলে বাচ্চা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়তে পারে।

-স্কুল পরবর্তী সময়টা আনন্দময় করতে তার পছন্দের কোনো কাজ করতে পারেন বা পছন্দের কোনো খাবার দিতে পারেন।

-যদি স্কুলে গিয়ে শিশু আপনাকে একেবারেই ছাড়তে না চায়, সে ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে নিজেকে সরিয়ে নিন। প্রথম কিছুদিন সম্ভব হলে ক্লাসের ভেতরে থাকুন। এরপর ক্লাসের বাইরে এমন জায়গায় থাকুন, যেখান থেকে সে আপনাকে দেখতে পায়।

-প্রথমদিকেই বাচ্চার পড়াশুনা, উন্নতি এসব নিয়ে চাপ দিবেন না। সময় নিয়ে তার দুর্বলতা কোথায় জানুন।

-সন্তান সব ধরনের বাচ্চার সাথেই খেলবে এই স্বাভাবিক। অনেক সময় একাও খেলা করতে পারে। এ নিয়ে বকাঝকা করা উচিত নয়।

রিয়াদুন্নবী শেখ
মডেল: আনিকা, রিখিয়া, রেজোয়ানা, ফারশীদ

ছবিঃ শুহরাত শাকিল চৌধুরী