শুক্রবার,১৯ Jul ২০১৯
হোম / সম্পাদকীয় / সবচাইতে আনন্দ ও যন্ত্রণার সম্পর্ক
০১/১৭/২০১৯

সবচাইতে আনন্দ ও যন্ত্রণার সম্পর্ক

-

দাম্পত্য জীবনে ঝগড়া হবে না, সম্পর্কে শীতলতা আসবে না-এটা অসম্ভব ব্যাপার। দাম্পত্য সম্পর্ক হচ্ছে সবচাইতে আনন্দ ও যন্ত্রণার সম্পর্ক। এই সম্পর্কের টানাপড়েন নিয়ে ব্রিটিশ প্রবাদ- ‘দ্য সেভেন ইয়ার্স ইচ’। এই নামে হলিউডে একটি রোমান্টিক রম্যছবি তৈরি হয় ১৯৫৫ সালে। ছবিটি এতটাই জনপ্রিয়তা পায় যে, পরবর্তীসময়ে ‘দ্য সেভেন ইয়ার্স ইচ’ কথাটি সাইকোলোজিক্যাল টার্মে পরিণত হয়। সেই টার্ম এটাই বলে যে, বিয়ের সাত বছর পর যে দাম্পত্য জীবনে যে জ্বালা শুরু হয়, তা একটু ধৈর্যের সঙ্গে মানিয়ে নিলে ক্রমশ সেরে যায় সম্পর্কের সেই জ্বালা-পোড়া। তারপর আবার সাত বছর পর শুরু হয় নতুন জ্বলুনি। তখন আবার ধৈর্যধারণ করতে হয় স্বামী-স্ত্রীকে। দুজনের একজনকে অন্তত টেনে ধরতেই হয় ভাঙনের রাশ। কোনো একজন রাশ টেনে ধরলেই সম্পর্কটি ক্রমশ স্বাভাবিক হতে শুরু করে। আর দুজনের ভেতরে তুলনামূলক বুদ্ধিমান ব্যক্তিটিই এই রাশ টেনে ধরেন, তিনিই শেষাবধি রক্ষা করতে পারেন দাম্পত্য সম্পর্কটিকে।

কিন্তু সম্পর্কের এই টানাপড়েন নিয়ে অনেকেরই মানসিক সমস্যা তীব্র হয়ে ওঠে। ফরাসি প্রবাদ আছে যে, প্রেম হলো বিয়ের সূর্যোদয় এবং বিয়ে হলো প্রেমের সূর্যাস্ত। অস্কার ওয়াইল্ড তো অবিবাহিত মানুষদের রীতিমতো ঈর্ষা করতেন। তিনি আফসোস করে বলতেন, অবিবাহিত লোকজনের ওপর বেশি করে কর আরোপ করা উচিত-ব্যাচেলাররা বিবাহিতদের চেয়ে বেশি সুখে থাকবেন, এটা অবিচার। আবার গ্যেটে স্পষ্টতই মনে করতেন-রাজাই হোক আর প্রজাই হোক, সে-ই সুখী, যে-তার গৃহে শান্তি খুঁজে পায়। অনেকেই বোঝেন না যে, বিয়ে করার অর্থ হচ্ছে নিজের অধিকারকে অর্ধেক করে নেওয়া এবং কর্তব্যকে দ্বিগুণ করা। সঙ্গী বা সঙ্গিনী যদি কোনো বিষয়ে কষ্ট পান, তাহলে সেটা তার দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখা উচিত। সঙ্গীর সমস্যা বা কষ্টকে সামান্য বিষয় বলে উড়িয়ে দেওয়াটা অত্যন্ত নির্মম। যা একজনের কাছে সামান্য বিষয়, অন্যজনের নিকট সেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতেই পারে। ‘আমিই ঠিক, আমার সঙ্গী বা সঙ্গিনী ভুল’-নিজেকে এভাবে পারফেক্ট মনে করাটাই অনেক বড় মানসিক সমস্যা। পুরাণে বলা হয়-শব্দই ব্রহ্ম। অর্থাৎ শব্দের শক্তি সীমাহীন। একজনের কর্কশ শব্দ অন্যের বুকে যেভাবে বিষাক্ত তিরের মতো বিদ্ধ হতে পারে, তার যন্ত্রণা উপলব্ধি করতে না পারলে কেউ অন্যকে সুখী করতে পারে না, নিজেও সুখ পায় না।

দেখা যাচ্ছে, আমাদের প্রায় সিংহভাগ সমস্যার মূলে রয়েছে দৃষ্টিকোণ বা দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য। সমস্যা রয়েছে আমাদের অহং-এ, ইংরেজিতে যাকে বলে ‘ইগো’। একটা প্রবাদ আছে-লাভ ইজ এনাফ। এটা বারবার প্রমাণিত যে, ভালোবাসা এবং সহমর্মিতার উচ্ছ্বাসে ভেসে যায় সকল জঞ্জাল, আত্ম-অহংকার।

মনে রাখতে হবে, এই জগৎ সৃষ্টির মূলে রয়েছে ভালোবাসা, প্রজাতিরক্ষার মূল শক্তিটিও ভালোবাসা। সুতরাং ভালোবাসাটুকুই যথেষ্ট।
ভালো থাকুন ভালোবাসায়।

- তাসমিমা হোসেন