বুধবার,১৬ জানুয়ারী ২০১৯
হোম / সম্পাদকীয় / লিঙ্গসমতায় এশিয়ায় দ্বিতীয় নয়,আমরা প্রথম হতে চাই
০১/০৩/২০১৯

লিঙ্গসমতায় এশিয়ায় দ্বিতীয় নয়,আমরা প্রথম হতে চাই

-

‘নতুন বছর’ ‘নতুন বছর’ বলে হৈচৈ করার কিছু নেই। যখনই কোনো নতুন বছর এসেছে, সেটা এক বছরের বেশি টেকেনি! রসের ছলে এমন কথা বলেছেন শিবরাম চক্রবর্তী।

কিন্তু সত্যি কি নতুন বছর এক বছরের বেশি টেকে না? অঙ্কের হিসেবে নিশ্চয়ই টেকে না, কিন্তু কোনো কোনো বছরের প্রভাব সারাজীবন আমাদের সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে লেগে থাকে। রাষ্ট্রজীবনে এবং ব্যক্তিজীবনে কোনো কোনো বছর আসে পরমানন্দের হয়ে, আবার কোনো বছর আসে আতঙ্কের হয়ে। বলা হয় যে, মানুষ একই নদীতে দুবার ডুব দিতে পারে না। কারণ, নদীর স্রোত আগের পানিকে সরিয়ে নিয়ে যায়। নদীর বহমান স্রোতধারার মতোই চলে যায় সময়। শৈশবে এক-একটি বছর যেন সহজে ফুরাতে চাইতো না। কিন্তু জীবনসায়হ্নে এসে যেন মনে হয়Ñএই তো সেদিন মাত্র পুতুল খেলার বয়স পার করলাম! দেখতে দেখতে জীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে কত বছর, কত স্বপ্ন। এসবের ভেতরেই নতুন বছর আসে অসীম সম্ভাবনা নিয়ে। আজকের ভোর আগের দিনের ভোরের মতো দেখতে হলেও কোথায় যেন সূক্ষ্ম একটি পার্থক্য থাকে। সেই পার্থক্যই সাহায্য করে নতুন স্বপ্নের ফানুস ওড়াতে।
বাংলাদেশের নারীর ক্ষমতায়ন আর উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই নতুন স্বপ্নের ফানুস উড়ছে বিস্ময়-ডানায় ভর করে। আমরা জানি যে, বিশ^ব্যাপী ১৫ বছর ও তার বেশি বয়সের প্রায় ৫০ শতাংশ নারী কর্মজীবী। কিন্তু একই বয়সসীমার কর্মজীবী পুরুষ প্রায় ৭৫ শতাংশ। এছাড়াও একই কাজের জন্য পুরুষদের থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ কম অর্থ দেওয়ার মতো বৈষম্যমূরক আচরণ করা হয় নারীদের সঙ্গে। ম্যাককিনসে গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায় বলা হয়, শ্রমবাজারে নারীদের অংশগ্রহণের বৈষম্য হ্রাস করতে পারলে বিশে^র মোট প্রবৃদ্ধি ১২ থেকে ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। আশার কথা হলো, কয়েক দশক ধরে নারী ক্ষমতায়নে নেওয়া পদক্ষেপগুলোর কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে ব্যাপকভাবে। গত বছরও বাংলাদেশে অব্যাহত ছিল এইধারা। এই মুহূর্তে বাংলাদেশে কৃষি, সেবা ও শিল্প খাতে কাজ করছেন দু’কোটি নারী। বিচার বিভাগ ও প্রশাসনে উচ্চপদে অসংখ্য নারী অধিষ্ঠিত। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা অভিযানে ইতিহাস সৃষ্টি করছে বাংলাদেশের নারী। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ২০১৮ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, লিঙ্গসমতা দূর করার দিক থেকে বাংলাদেশ এশিয়ার দ্বিতীয়!

একটি নতুন বছর আসে একটি গ্রন্থের না লেখা অধ্যায়ের মতো, যা লিখতে হবে। এ কথা বলেছেন আমেরিকার লেখক মোলোডি বিটি। আমরাও আমাদের লক্ষ্য স্থির রেখে ওই অধ্যায়টি লিখতে চাই। নারী আপন আলোয় উদ্ভাসিত, অমিত সম্ভাবনার আধার। নারী ধৈর্যশীল, মমতাময়ী, বুদ্ধিমতী, দুরন্ত প্রাণশক্তির অধিকারী। কিন্তু সেই গুণাবলির সার্থক বিকাশে চাই উপযুক্ত ক্ষেত্র আর ন্যূনতম সুযোগ। আশা করা যায়, নতুন বছরটিও নারী উন্নয়ন বিকাশের চলমান ধারা অব্যাহত থাকবে।

এবারের অনন্যা সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন লেখক-প্রাবন্ধিক-অধ্যাপক আকিমুন রহমান। আকিমুনের জন্য রইল অভিনন্দন। একইসঙ্গে সবাইকে জানাই নতুন বছরের শুভেচ্ছা, ভালোবাসা।

তাসমিমা হোসেন