বৃহস্পতিবার,২২ অগাস্ট ২০১৯
হোম / রূপসৌন্দর্য / হিমেল আবহাওয়ায় ত্বকের বাড়তি যত্ন
০১/০২/২০১৯

হিমেল আবহাওয়ায় ত্বকের বাড়তি যত্ন

-

বাইরে তাপমাত্রা কমতে শুরু করার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ত্বকের মলিনতাও বাড়তে শুরু করে। হিমেল আবহাওয়ায় ত্বক আর্দ্রতা হারায় তাই রুক্ষতা বেড়ে যায়। এ কারণেই বছরের এই সময় বাড়তি যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।

সারা বছর ত্বকের যতœ নিলেও শীতের মৌসুমে বেশি সচেতন হওয়া জরুরি। সারাবছরের রুটিনে কিছুটা পরিবর্তন আনতে হয় এই সময়।

শীতে গরম পানিতে গোসল করা আরামদায়ক হলেও ত্বকের খাতিরে গরম পানি এড়িয়ে চলতে হবে। গরম পানি ত্বক এবং চুল দু’য়ের জন্যই ক্ষতিকর। অতিরিক্ত গরম পানি ত্বক শুষ্ক করে তোলে এবং এর কারণে চুল পড়ার মাত্রাও বৃদ্ধি পেতে পারে। গরম পানির বদলে কুসুম উষ্ণ পানি ব্যবহার করুন।

শীতে নিজের যত্নে কিছু সহজ বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। এখানে ওই দিকগুলোই তুলে ধরা হলো।

ময়েশ্চারাইজার সমৃদ্ধ ক্লিনজার
সাবান বা সাধারন ক্লিনজার ত্বককে শুষ্ক করে তোলে। তাই এই আবহাওয়ায় হালকা এবং ময়েশ্চারাইজার সমৃদ্ধ ক্লিনজার বেছে নিন ত্বক পরিষ্কারের জন্য। কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করুন এবং ত্বক পরিষ্কারে ময়েশ্চারাইজার সমৃদ্ধ ক্লিনজার বেছে নিন। বাড়তি উপকার পেতে গোসলের পানিতে অল্প পরিমাণে গ্লিসারিন গুলিয়ে নিতে পারেন। গ্লিসারিন ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।

ত্বক ময়েশ্চারাইজ করা
গোসল করার ১০ মিনিটের মধ্যে লোশন, বডি অয়েল বা বডি বাটার ব্যবহার করুন। কারণ এই সময় ত্বকের লোমকূপগুলো প্রসারিত অবস্থায় থাকে ফলে যে-কোনো ময়েশ্চারাইজার সহজেই ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে ভালো ফল দেয়। তাছাড়া গোসলের পানির তাপমাত্রা আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।

ব্রণ নিয়ে দুশ্চিন্তা নয়
আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে ব্রণ, র‌্যাশ ইত্যাদি সমস্যা হওয়া খুব স্বাভাবিক। তবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তা করা একদমই উচিত নয়। কারণ দুশ্চিন্তা ব্রণের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। বরং কিছুটা সময় দিন, প্রয়োজনে দাগ দূর করার জন্য নিজের ত্বকের ধরন বুঝে প্রসাধনী ব্যবহার করতে পারেন ত্বকের যতেœর তৃতীয় ধাপে।

ভারি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার
ত্বকের ধরন যেমনই হোক না কেন, সারাবছরই ত্বকের যতেœ ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা জরুরি। তবে শীতে ত্বকের চাহিদা বদলে যায়, কারণ প্রকৃতি শুষ্ক হতে থাকে এর ফলে ত্বকের আর্দ্রতাও কমতে শুরু করে। তাই সারা বছর যেই ময়েশ্চারাইজার ত্বকের জন্য যথেষ্ট মনে হয় তা শীতে একেবারেই উপযোগী নয়। এই সময় ভারি এবং দীর্ঘস্থায়ী ময়েশ্চারাইজার বেছে নিতে হবে। দিনে এবং রাতে উভয় সময়ই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। রাতে অনেকটা সময় ময়েশ্চারাইজার ত্বকে কাজ করতে পারে তাই এই সময় ফেশিয়াল অয়েল অথবা অলিভ অয়েল বা বাদাম তেল ব্যবহার করা যেতে পারে।

সানস্ক্রিন ব্যবহার
বছরের যে-কোনো সময়ই ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে সুরক্ষিত রাখা জরুরি। কুয়াশা ঢাকা সকালগুলোতে সানস্ক্রিনের প্রয়োজন নেই, এমন ধারণা একেবারেই ঠিক নয়। তাই যে-কোনো আবহাওয়াতেই সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে।

ঠোঁটের যতœ
শীতে ঠোঁট শুষ্ক হয়ে যাওয়া, ঠোঁট ফাটা খুবই পরিচিত সমস্যা। এই সময় নিয়ম মতো ঠোঁট স্ক্রাব করে লিপবাম বা পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করতে হবে।

শীতের এই আবহাওয়াতে কিছুটা বাড়তি যতœ নিলে এবং সচেতন থাকলে নানান সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

অদ্বিতী

ছবিঃ নীল ভৌমিক