বুধবার,১৬ জানুয়ারী ২০১৯
হোম / বিনোদন / বর্ণাঢ্য জীবনের বর্ণিল আখ্যান- ‘হাসিনা : অ্যা ডটার’স টেল’
১২/২৭/২০১৮

বর্ণাঢ্য জীবনের বর্ণিল আখ্যান- ‘হাসিনা : অ্যা ডটার’স টেল’

-

বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জীবনকে উপজীব্য করে নির্মিত হলো ডকুড্রামা ‘হাসিনা : অ্যা ডটার’স টেল’। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বর্ণাঢ্য জীবনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তকে রুপালি পর্দায় তুলে ধরার কাজটি করেছেন নির্মাতা পিপলু খান। সিআরআই ও অ্যাপেল বক্সÍ এই দুটি প্রতিষ্ঠানের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত এই ডকুড্রামায় বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার বয়ানে তাঁদের পরিবারের নানাদিক তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন পিপলু খান। তার পরিচালনা সফল হয়েছে, রুপালি পর্দায় ধরা পড়েছে প্রধানমন্ত্রীর জীবনের নানা অধ্যায় ও সংগ্রামের কথা, যা হাজারো দর্শকের হৃদয় ছুঁয়েছে।

পৃথিবীর অন্যান্য দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে রাষ্ট্রনেতাদের জীবন নিয়ে বড় পর্দায় কাজ একেবারে নেই বললেই চলে। সেদিক থেকে ‘হাসিনা : অ্যা ডটার’স টেল’ ডকুড্রামাটিকে একটি মাইলফলক হিসেবে গণ্য করা যায়। ডকুড্রামাটির মাধ্যমে দর্শকরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জীবনের চড়াই-উতরাইগুলোকে যেমন খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাবেন, একইসাথে তাঁর জীবনের অজানা অধ্যায়গুলোর সঙ্গেও পরিচিত হবেন।

ডকুড্রামাটি মুক্তির পূর্বেই পরিচালকের কিছু সাক্ষাৎকার থেকে জানা যায় যে, গল্পটি যতটা না প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার, তাঁর চেয়ে বেশি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার। বাবা-মেয়ের মধুর সম্পর্কের স্মৃতিগুলো এসেছে সেলুলয়েডের পর্দায়, যা দেখে দর্শকের মনে অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করবে। একইসাথে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথাও শ্রদ্ধাভরে স্মরণে আসবে আরো একবার। কাহিনির বর্ণনায় আছে শেখ হাসিনার মুখে তাঁর মায়ের হাতের রান্নার স্মৃতি রোমন্থন অথবা টুঙ্গিপাড়ায় কাটানো বর্ণিল দিনগুলোর কথা। একজন শেখ হাসিনার সাধারণ জীবনের অসাধারণ মুহূর্তগুলোর সঙ্গে দর্শকদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন তিনি

নিজেই। পুরো ডকুড্রামাটি ন্যারেট করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানা। বঙ্গবন্ধু পরিবার ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোকে নিজের সুনিপুণ নির্মাণ দক্ষতাঁর মাধ্যমে পর্দায় তুলে ধরেছেন পরিচালক পিপলু খান। ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৫৮’র মার্শাল ল এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়টাতে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবার যে কঠিন সময় অতিক্রান্ত করেছিলেন, তা দর্শকদের সামনে তুলে ধরতে অনেক পারিবারিক ছবি ও আর্কাইভাল ফুটেজ ব্যবহার করেছেন নির্মাতা।

একাত্তরের পঁচিশে মার্চের কালরাতে ধানমন্ডি-র ৩২ নম্বরের বাসা থেকে বঙ্গবন্ধুকে তুলে নিয়ে যায় পাক হানাদার বাহিনী। অকুল পাথারে পড়ে যায় বঙ্গবন্ধু পরিবার এবং গোটা জাতি। চরম অনিশ্চয়তার সেই সময়ের কথা শেখ হাসিনা নিজেই ডকুড্রামাটিতে বর্ণনা করেন। মুক্তিযুদ্ধের পর বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের স্মৃতি বর্ণনা করতে গিয়ে কোথায় যেন একটা খুশির ঝিলিক লক্ষ্য করা যায় প্রধানমন্ত্রীর মাঝে। দুই বোনের পারিবারিক অনেক স্মৃতির ঝাঁপির ফাঁকে দর্শক যেন এক অজানা শেখ হাসিনাকে দেখতে পান। পঁচাত্তরের পনেরোই আগস্ট ধানমমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তাদের বুলেটের আঘাতে শাহাদাত বরণ করেন। শেখ হাসিনা তখন দেশের বাইরে অবস্থান করছিলেন। সংবাদটি পাওয়ার সাথে সাথেই শেখ হাসিনা এবং তাঁর বোন শেখ রেহানার জীবনে আঁধার নেমে আসে। তবে শোকের আবহকে সঙ্গে নিয়েই তাঁরা জার্মানি হয়ে ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সুবাদে ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করেন। কিন্তু দেশমাতৃকার টানে রাজনৈতিকভাবে টালমাটাল দেশের হাল ধরতে ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আসেন তিনি। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়ার সময়গুলো এবং স্বৈরাচারপরবর্তী সময়ে তাঁর নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়গুলোও ডকুড্রামাটিতে বেশ মুনশিয়ানার সাথে তুলে ধরেছেন নির্মাতা। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচারের মুখোমুখি করা কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল, সেটিও প্রধানমন্ত্রী নিজেই সবিস্তারে উল্লেখ করেছেন।

নির্মাতা পিপলু খানের প্রায় পাঁচ বছরের সাধনার ফসল ‘হাসিনা : অ্যা ডটার’স টেল’ তথ্যচিত্রটি। ২০১৩ সাল থেকে নিয়ে মুক্তি পর্যন্ত প্রতিটি মুহূর্তেই অক্লান্ত পরিশ্রম ও নিষ্ঠার মাধ্যমে তথ্যচিত্রটিকে দর্শকদের সামনে নিয়ে এসেছেন তিনি। আর তাই দর্শকরা তথ্যচিত্রটির প্রতিটি ফ্রেমেই যতেœর ছাপ লক্ষ্য করবেন। এক্ষেত্রে নির্মাতার সাথে সাথে চিত্রগ্রাহক সাদিক আহমেদও সাধুবাদ পাবেন। তথ্যচিত্রটির কাহিনিকে গভীরতা দিতে নির্মাতা অনেক লোকেশন ব্যবহার করেছেন। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া থেকে বেলজিয়ামের ব্রাসেলস, জার্মানির বন ও ভারতের দিল্লিতেও দৃশ্যায়ন করেছেন নির্মাতা। বিশেষত টুঙ্গিপাড়ার দৃশ্যগুলো মুগ্ধ করবে দর্শকদের। এছাড়া দেবজ্যোতি মিশ্রের সংগীত ও নবনীতা সেনের সম্পাদনা বাহবা পাবে দর্শক-সমালোচক সবার।

এককথায়, ৭০ মিনিট দীর্ঘ ‘হাসিনা : অ্যা ডটার’স টেল’ ডকুড্রামাটির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু পরিবারের অজানা ইতিহাসগুলোর সঙ্গে যেমন পরিচয় ঘটবে দর্শকদের, একইসাথে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সাধারণ থেকে অসাধারণ একজন রাষ্ট্রনেত্রী হয়ে ওঠার মুহূর্তগুলোকেও কাছ থেকে দেখতে পারবেন। তথ্যচিত্রটিতে শেখ হাসিনার সংগ্রামী জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত জীবন্ত হয়ে ধরা দেবে দর্শকদের কাছে। এক সংগ্রামী রাষ্ট্রনেত্রীর জীবনের ঘটনাগুলো তুলে ধরার মাধ্যমে ইতিহাসের স্মারক হয়ে থাকবে এই তথ্যচিত্রটি।

হোসাইন মাহমুদ আব্দুল্লাহ

ছবিঃ দ্য ডেইলি স্টার, বাংলা ট্রিবিউন, ঢাকা ট্রিবিউন