বৃহস্পতিবার,২২ অগাস্ট ২০১৯
হোম / সম্পাদকীয় / বিজয়, নির্বাচন আর রাশির তিন-চক্র
১২/১৯/২০১৮

বিজয়, নির্বাচন আর রাশির তিন-চক্র

-

সাধারণত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে বাংলাদেশে শীত পড়তে শুরু করে। কিন্তু এবার শীত নয়, গরম পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশে। শীতের কুয়াশা ভেঙে গরম-বাষ্প ছড়িয়ে পড়তে যাচ্ছে ছাপান্ন হাজার বর্গমাইলজুড়ে। এই উত্তাপ নির্বাচনের। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের।

এবারের নির্বাচন কোনো সাধারণ নির্বাচন নয়, এ যেন জীবনমরণের প্রশ্ন, অস্তিত্বের প্রশ্ন। এ কারণে ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনটি সবার রক্তচাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। গতবারের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মতো নয় এ-নির্বাচন। এখানে অংশগ্রহণ করছে নিবন্ধিত সকল রাজনৈতিক দল। কিন্তু বাংলায় শত্রুতার যত প্রবাদ-প্রবচন আছে, তার সবই যেন প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের যুগল বিশেষণে পরিণত হয়েছে। আদায়-কাঁচকলা, দা-কুমড়া, সাপে-নেউলের মতো প্রবল বৈরী শব্দযুগল জেঁকে বসেছে দুই দলের অনুসারীদের মানসজগতে। এর অবশ্য যৌক্তিক কারণও আছে। বৈরিতার অনেক ভয়ঙ্কর ঘটনার সাক্ষী আছে বাংলাদেশ।
ডিসেম্বর বিজয়ের মাস। পৃথিবীর সকল জাতির বিজয় দিবস থাকে না। আমাদের আছে। অভাবিত রক্তক্ষয়ের ভেতর দিয়ে আমাদের ঘরে আসন পেতেছে বিজয়ের রাজটীকা। এই পৃথিবীতে যুক্তরাষ্ট্রের পরে কেবল বাংলাদেশই ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ শুরু করেছিল এবং বিজয় অর্জন করেছিল। বাঙালি জাতি বিজয় অর্জনের মূলে ছিল পাকিস্তানের মতো একটি সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের বিপরীতে গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। একটি রাষ্ট্রের জন্য ৪৭ বছর খুব দীর্ঘ সময় না হলেও এর মধ্যে বাংলাদেশের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির খতিয়ান ঈর্ষণীয় বলা যায়। খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিবিসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা বাংলাদেশের বর্তমান অগ্রযাত্রাকে ‘বিস্ময়কর’ বলেছে একাধিকবার। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নারীদের অবদানের ক্ষেত্রে। সার্বিক হিসেবে জিডিপি-তে নারীর অবদান ৪৮ শতাংশ। জিডিপিতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নারীর অবদান এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সেখান থেকে পেছনে ফিরে যাবার আর কোনো সুযোগ নেই। একথা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট যে, অর্থনীতিতে নারীর আজকের এই অবদানের নেপথ্যে রয়েছে মুক্তিসংগ্রামে নিবেদিত ত্রিশ লাখ শহিদ ও দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম।

যা অজ্ঞাত, অজানা, যার তল খুঁজে পাওয়া যায় না, সেই বিষয় জানার ব্যাপারে মানুষের আগ্রহ সীমাহীন। এ কারণে রাশিফলের প্রতি মানুষের এত আর্কষণ। মহাশূন্যের নক্ষত্রগুলোর মাঝে কিছু নকশা আছে যেগুলো কিছু ছবির আদল তৈরি করে যেমন সিংহ, মেষ, বৃষ, কাকড়া, মাছ ইত্যাদি। আকাশের সেই সিংহ, মাছ, বৃষরা আসলে পরস্পর থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত তারকাম-লী। তার ভেতর থেকেই আমরা সিঞ্চন করছি ভবিষ্যতের রূপরেখা! আমরা জানি, এগুলোর সঙ্গে বাস্তবের সম্পর্ক খুব বেশি নেই। কিন্তু তাতে কী? রাশিফলকে বিনোদন হিসেবে ভেবে নেওয়াটা দোষণীয় নয় মোটেই। বরং রাশিফল থেকে আমরা এই আশ্বাস পেতে চাই যে, আমাদের আগামীদিনগুলি আরো সুন্দর সাফল্যম-িত হবে। সেই সাফল্য অর্জন করতে হলে আমাদের প্রত্যেকের নিজ নিজ কাজের প্রতি একনিষ্ঠ থাকতে হবে। তবেই না সাফল্যের মণিহার ঝুলবে আমাদের গলায়!
সবাইকে বিজয়ের শুভেচ্ছা।

তাসমিমা হোসেন