শনিবার,২৫ মে ২০১৯
হোম / রূপসৌন্দর্য / টাক মাথাতেও দেখাক স্মার্ট
১২/১৩/২০১৮

টাক মাথাতেও দেখাক স্মার্ট

-

বয়স ত্রিশ পেরনোর আগেই যাদের মাথায় টাক উঁকি দিচ্ছে তাদের বলি, পৃথিবীজুড়ে ত্রিশ পেরনোর আগেই টাক প্রবণতা দেখা দেয় অন্তত ত্রিশ শতাংশ মানুষের। আর ত্রিশ বছর বয়সের পর এ হার পঞ্চাশ শতাংশ। মাথায় টাকপড়া একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, কোনো রোগ নয়।

চুল কেন পড়ে?
পুরুষদের এই টাক পড়ে যাওয়াকে ইংরেজিতে বলা হয় ‘গধষব চধঃঃবৎহ ইধষফহবংং’, বৈজ্ঞানিকভাবে যা অ্যানড্রোজেনেটিক অ্যালোপেসিয়া। প্যাটার্ন টাক বা বা নির্দিষ্ট নকশাকারে চুল পড়ার ধরনটি অনেকটাই বংশগতির সঙ্গে সম্পর্কিত। গবেষণায় দেখা গেছে, বাবার টাক থাকলে সন্তানেরও টাক হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

চুল প্রতি মাসে আধা ইঞ্চি করে বড় হয়। স্বাভাবিকভাবে একটি চুল দুই থেকে চার বছর পর্যন্ত বড় হতে থাকে। এরপর বৃদ্ধি কমে যায় এবং কয়েক দিনের মধ্যে আপনা-আপনি পড়ে যায়। অ্যান্ড্রোজেনিক হরমোন পুরুষের টাকের সবচেয়ে বড় কারণ। যাদের শরীরে এই হরমোনের প্রভাব বেশি, তাদেরই বেশি করে চুল পড়ে।

চুল পড়ার ধরন
কারো টাক পড়ে মাথার উপরে পেছনভাগে, আবার কারো বা দুই চোখের পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকেই হয় সূত্রপাত। কিছুক্ষেত্রে ইংরেজি ‘এম’ হরফের ন্যায় অঞ্চল তৈরি হয় মাথায় আবার কারো পুরো মাথায় চুল পড়ে পাতলা হয়ে যায়। মূলত মাথার ত্বকের তিনটি অঞ্চলে চুল কমে যাওয়াটা বেশি লক্ষণীয়।


- মাথার উপরিভাগে কপালের অংশ থেকে চুলপড়া শুরু করা এবং ক্রমে পেছনের দিকে পড়তে থাকা।
- মাথার তালুর অংশে চুলপড়া এবং ক্রমশ আশপাশে টাক ছড়িয়ে পড়া।
- পুরো মাথাজুড়ে চুল পড়া বা চুল পাতলা হয়ে যাওয়া।

দিনে গড়ে প্রায় ১০০টির মতো চুল পড়া স্বাভাবিক এবং এটা প্রাকৃতিক ও সাধারণ নিয়মবশতই ঘটে। তবে এর বেশি চুল পড়তে থাকাটা টাক প্রবণতার লক্ষণ।

সমাধান
টাক পরাকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে মেনে নিয়ে জীবন যাপন করা হলো সবচেয়ে স্মার্ট আর সহজ সমাধান। তবে যারা এটা মেনে নিতে পারবেন না তাদের জন্য রয়েছে নানা ধরনের ট্রিটমেন্ট। মেল প্যাটার্ন বল্ডনেস মোকাবেলার প্রাথমিক উপায় হচ্ছে মেডিকেশন। এক্ষেত্রে দুই ধরনের মেডিসিন কাজে আসতে পারে।

ফিনাস্টেরাইড : দিনে একবার এই ট্যাবলেট সেবনের ফলে পুরুষ দেহে টাক পড়ার জন্য দায়ী হরমনোর আধিক্য কমে যায়। এই মেডিসিনের সুফল বুঝতে হলে অন্তত তিন থেকে ছয় মাস অপেক্ষা করতে হবে।

মিনোক্সাইডিল : এটি একটি বিশেষ ধরনের লোশন। এই লোশনের ক্ষেত্রে মাথায় মালিশ করে সুফল পাওয়ার জন্য কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হবে।

তবে এই মেডিসিনগুলো ব্যবহারের আগে অবশ্যই ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে নিবেন। প্রতিটি মেডিসিনেরই সাইড-এফেক্ট রয়েছে এবং শুধুমাত্র বিশেষজ্ঞ ডাক্তারই বলতে পারবেন তা সেবন বা ব্যবহার আপনার জন্য ঠিক হবে কিনা।

হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট
টাক মাথার জন্য একটি কার্যকর চিকিৎসা হচ্ছে হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট। এই পদ্ধতিতে মাথার একটি অংশ থেকে চুল নিয়ে অন্য অংশে প্রতিস্থাপন করা হয়। এটি একটি সার্জারি প্রক্রিয়া, যাতে শরীরের কোনো অংশ (ডোনার সাইট) হতে হেয়ার ফলিকল তুলে অন্য কোনো চুলবিহীন অংশে প্রতিস্থাপন করা হয়। এই পদ্ধতি বিশ্বব্যপী বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে এবং দেশেও বর্তমানে হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা হচ্ছে। তবে এটি বেশ সময় এবং ব্যয়সাপেক্ষ ব্যাপার।

আর্টিফিসিয়াল হেয়ার
হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্টের জন্য আপনার মাথার কোনো না কোনো অংশে বা ডোনার এরিয়ায় বেশ ভালো চুল থাকতে হবে, যা অনেকেরই থাকে না। এরও রয়েছে সমাধান আর তা হলো আর্টিফিসিয়াল হেয়ার ইমপ্ল্যান্ট করা। এই পদ্ধতিতে মাথার তালুতে চুলের মতো দেখতে সিনথেটিক ফাইবার ইমপ্ল্যান্ট করা হয়। তবে এক্ষেত্রে সিনথেটিক ফাইবার পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

পরচুলা
যারা সার্জারির ঝুঁকি নিতে চান না তাদের জন্য পরচুলা তো রয়েছেই। হেয়ার স্টাইল স্পেশালিস্ট-এর পরামর্শ মতো এমন পরচুলা পড়ে নিতে পারেন, যা আপনার চুলের সঙ্গে মানিয়ে যাবে, মনেই হবে না এটা আসল চুল নয়।

টাক মাথায় স্টাইল
চুল স্টাইলের অনুষঙ্গ হলেও টাক মাথায় আপনাকে স্টাইলিশ দেখাবে না এমন ধারণাও ঠিক নয়। একটু খেয়াল করলেই বুঝতে পারবেন যে এখন ফ্যাশন সচেতন অনেকেরই মাথা ন্যাড়া। চুলবিহীন মাথায় নিয়েও ফ্যাশানেবল ও আত্মবিশ্বাসী চাহনি আনা যায়। লুক এবং ব্যক্তিত্বে নতুনত্ব আনতে এরচেয়ে সহজ আর কিছু হয়? যদি বিশ্বাস না হয় তবে জেসন স্টেথাম, ভিন ডিজেল, ডন জনসন দ্য রক, ব্রুস উইলিস, আন্দ্রে আগাসির মতো সেলিব্রেটিদের দিকে তাকিয়েই দেখুন না। তাছাড়া কর্পোরেট ফ্যাশনে বল্ড হেড স্টাইলের বেশ প্রচলন আছে। একেবারে ন্যাড়া মাথা এবং তার সাথে মানানসই স্টাইলের পোশাক-আশাক এখনকার স্বাভাবিক চিত্র এবং একই সাথে ফ্যাশন হিসেবেও গ্রহণযোগ্য। এক্ষেত্রে নিম্নোক্ত টিপসগুলো কাজে আসতে পারে।

- যাদের মাথার কিছু অংশে চুল আছে তারা তা একেবারে ছোট করে ফেলুন যাতে টাকের অংশের সাথে তেমন পার্থক্য না থাকে, একই সাথে মাথাজুড়ে চুলের উপস্থিতি কিছুটা হলেও বোঝা যায়।
- অথবা মাথা একেবারে শেভ করে ফেলুন। শেভের পর মাথার ত্বকে যাতে রুক্ষ ভাব না আসে সে জন্য গরম জলের স্টিম ব্যবহার করতে পারেন।
- ইলেকট্রিক ক্লিপারের মাধ্যমে অবাঞ্ছিত চুল তুলে ফেলুন।
- টাক মাথায় নিজেকে ফ্যাশনেবল দেখাতে ত্বকের সাথে মানিয়ে পোশাক বাছাই করুন।
- পোশাকের পাশাপাশি সানগ্লাস, হ্যাট বা ঘড়ির মতো অনুষঙ্গ যোগ করুন।
- ফ্যান্সি চাহনি চাইলে কানে রিং কিংবা ট্যাটু আঁকিয়ে নিতে পারেন।
- মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখুন।

হেয়ার লস বা চুলপড়া স্বাভাবিক একটি ব্যাপার। এ নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করা একেবারেই ঠিক নয়। আত্মপ্রত্যয়ী হোন, নিজেকে সুন্দর ভাবুন, জীবন উপভোগ করুন।

- শারিদ

ছবিঃ শুহরাত শাকিল চৌধুরী, নীল ভৌমিক