মঙ্গলবার,১৮ ডিসেম্বর ২০১৮
হোম / ফ্যাশন / পারফেক্ট অফিস গেটআপ
১২/০৭/২০১৮

পারফেক্ট অফিস গেটআপ

-

অফিসে কেতাদুরস্ত হয়ে যেতে হবে, পরতে হবে গৎবাঁধা পোশাক আর হতে হবে ফুলবাবু এমন অনেক চিন্তাই কাজ করে চাকরিজীবী পুরুষটির মনে। আর ক্যাজুয়ালি স্টাইলিশ হলেও কিভাবে সবকিছু মেইন্টেইন করবেন তা ভেবেই অনেকে দিশেহারা হয়ে যান। তবে সময় অনেকটাই বদলে গেছে আজকাল। হালসময়ে স্মার্ট বলতে কমপ্লিট ফর্মাল লুকের ধোপদুরস্ত চাকুরে নয় বরং ট্রেন্ডি, ফ্যাশনেবল ব্যক্তিত্বকে বোঝায় যিনি কিনা প্রয়োজন অনুসারেই ড্রেস চুজ করেন আর পাশাপাশি কমফোর্টটাও মাথায় রাখেন। অফিস ক্লথিং এযুগে লিমিটেড নয় বরং বৈচিত্র্যময় আর উপভোগ্য।

চয়েজ আর সিলেকশন হতে হবে স্মার্ট
কমপ্লিট স্যুট বা শার্ট-টাইয়ের আলাদা আবেদন আছেই, তবে তা বাধ্যতামূলক নয়, আর সবসময় তা সঠিক চয়েজও নয়। মিটিং বা প্রেজেন্টেশনে কমপ্লিট ফর্মাল লুক যেমন আপনাকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিবে তেমনি একটি এভারেজ অফিস ডে-তে আবহাওয়ার সাথে মানিয়ে ক্যাজুয়াল-ফর্মাল লুক সবার চোখে আপনাকে আলাদাভাবে প্রকাশ করবে। তাই অফিসের পোশাকের শপিং করার সময় খুঁটিনাটি দিক আর উপলক্ষ মাথায় রাখুন।

সিম্পল আর ক্লাসি লুক
অফিসে এখন সিম্পল আর ট্রেন্ডি থাকাটাই চল। তবে ক্লাসি লুক চাই। জিন্সের সাথে টি-শার্ট আর হালকা ব্লেজার পরাটাও এখন বেশ জনপ্রিয়। আর সাথে চাই একজোড়া ক্লাসি ক্যাজুয়াল শু। কমপ্লিট স্যুট পরার চেয়ে এখন অনেকেই সিংগেল ব্রেস্টেড স্যুট পরছেন যা বেশ জনপ্রিয়। এছড়াও অনেকে ভেস্ট আর টাই পরছেন, যা একইসাথে ফর্মাল আর ক্যাজুয়ালের এক দুর্দান্ত কম্বিনেশন। মোদ্দাকথা হলো, সিম্পল লুকেই স্মার্ট থাকাটা এখনকার ট্রেন্ড।

লিস্টে যা থাকা বাধ্যতামূলক
এটি নির্ভর করবে আপনার অফিস আর কাজের ধরনের উপরে। এই দুটি বিষয় মাথায় রেখেই আপনার ওয়ারড্রোব সাজান। তবে আপনার অফিস যেমনই হোক না কেন, কিছু জিনিস লিস্টে থাকা বাধ্যতামূলক-

-স্যুট : চাকরি করলে এই জিনিসটি আপনার জন্য আবশ্যক। আপনি যেমন চাকরিতেই থাকেন না কেন, অন্তত একটি কমপ্লিট স্যুট সংগ্রহে রাখুন। অফিসে স্যুট পরা বাধ্যতামূলক না হলেও বিভিন্ন ফাংশন বা মিটিংয়ে স্যুটের প্রয়োজন পড়বেই।

-শার্ট : কালেকশনে নানারকম শার্ট রাখুন। ফর্মাল, সেমি ফর্মাল আর ক্যাজুয়াল- সবধরনের। চাইলে ক্যাটাগরি ধরে আলাদাভাবে সংগ্রহ করুন।

-প্যান্ট : ফর্মাল প্যান্টের পাশাপাশি জিন্স আর গ্যাবার্ডিন রাখতে পারেন।

-জুতা : অফিসের ধরন বুঝে সবরকমের জুতাই রাখতে পারেন, তবে ফর্মাল আর ক্যাজুয়াল শু অবশ্যই রাখবেন।

এক্সেসরিজে স্মার্ট
শুধু পোশাকে নয়, পরিহিত বিভিন্ন আনুষঙ্গিক জিনিসপত্রেও সবার অ্যাটেনশন পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে প্রথমেই বলতে হয় হাতঘড়ির কথা। পোশাকের সাথে মানিয়ে হাতঘড়ি পরবেন। এছাড়াও টাই, কাফলিংক ফর্মাল ড্রেসের সাথে পড়ুন। কোন দৃষ্টিকটু অনুষঙ্গ পরিধান করবেন না, বিশেষত অফিস এটিকেটের সাথে যা মানানসই নয়।

ডিওডোরেন্ট অবশ্যই ব্যবহার করবেন। যত ধোপদুরস্ত পোশাকই আপনি পরুন না কেন, গায়ের দুর্গন্ধ থাকলে সবকিছুই মাটি। আশেপাশের সবাই দশহাত দূরে তো সরে যাবেই, আপনার রেপুটেশনের হবে একেবারে দফারফা।

অফিস ড্রেস কোড
অফিসে কেমন ড্রেস আপ নিবেন, কী ফলো করবেন আর কী এড়িয়ে চলবেন তা সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখুন। কিছু বিষয় মেনে না চললেই নয়Ñ
-যাই পরুন না কেন, তা যেন আপনার ব্যক্তিত্বের সাথে মানানসই হয়।

-প্যান্ট স্লিম ফিটের পরুন, কোনো অসামঞ্জস্য প্যাটার্ন বা প্রিন্ট যেন না থাকে।

-টি-শার্ট ব্যবহার করলে তা যেন পারফেক্টলি ফিট হয় সেদিকে নজর রাখবেন।

-শীতকালে ব্যবহৃত সোয়েটার ঢিলেঢালা না পরে বরং স্লিম ফিট পরুন, সাথে হালকা চেকের মাফলার ব্যবহার করে বাড়তি টুইস্ট আনতে পারেন লুকে।

-অফিস ব্যাগ বা ব্রিফকেস স্লিম আর স্মার্ট কিনুন। সম্ভব হলে লেদারের কর্পোরেট ব্যাগ ব্যবহার করুন।


তানভীর
ছবিঃ নীল ভৌমিক