শুক্রবার,১৯ Jul ২০১৯
হোম / অন্দর-বাগান / বারান্দায় টমেটো চাষ
১২/০৪/২০১৮

বারান্দায় টমেটো চাষ

-

হিম হিম বাতাসের ছোঁয়া জানিয়ে দিচ্ছে যে, শীতকাল চলে এসেছে। আর শীতকাল মানেই কিন্তু নানারকম মুখরোচক সবজির বাহারি আগমন। তবে সব সবজির মাঝে টমেটোর আবেদনটা কিন্তু ভিন্নই। এখন প্রায় বারোমাসই বাজারে টমেটো পাওয়া গেলেও শীতের টমেটোর মজাটাই কিন্তু আলাদা। আর টমেটো হলো এমন একটি সবজি যা আপনি খুব সহজে নিজের বাসা-বাড়ি এমনকি বারান্দায়ও ফলাতে পারেন।

বারান্দায় টমেটোর ছোট্ট বাগান
আজকাল আরবান গার্ডেনিং খুবই জনপ্রিয় একটি ব্যাপার। রুম আর ছাদ নয়, এখন বারান্দায়ও একসাথে ফুল, ফল আর সবজির চাষ করছেন অনেকেই। আর বারান্দায় শখ বলুন আর প্রয়োজন, সীমিত পরিসরে বাগান করাটা যেন নেশার মতো। মৌসুমি বিভিন্ন সবজি খুব সহজেই বারান্দায় পট, টব বা কন্টেইনারে ফলাতে পারেন। এজন্য যেমন খুব একটা পরিশ্রম করতে হয় না, তেমনি তাজা সবজিও খাওয়া যায়।

টমেটোর জাত বাছাই সবচেয়ে জরুরি
বারান্দায় তো টমেটো ফলাবেন সিদ্ধান্ত নিলেন; কিন্তু কোন জাতের টমেটো ভালো হবে? মজার ব্যাপার হলো সব জাতের টমেটোই পট বা কন্টেইনারে ফলানো যায়। তবে বাছাইয়ের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে দুটি দিকে।

১। এমন টমেটোর জাত বেছে নিতে হবে, যার গাছ খুব দ্রুত বেড়ে উঠে না আর আকারে খুব বড় হয় না

২। স্থানীয় পরিবেশ আর আবহাওয়াতে ভালো জন্মে এমন জাত বেছে নেওয়া ভাল


এই দুটি দিকের পাশাপাশি বাছাইয়ের সময় আরো একটি দিক খেয়াল রাখা উচিত, সহনশীল জাত বাছাই করা, যাতে বারান্দার প্রতিকূল পরিবেশে মানিয়ে নিতে পারে।

স্থান আর পাত্র নির্বাচন
বারান্দা যদি বড় হয় তবে পর্যাপ্ত জায়গা নিয়ে গাছ রাখতে পারবেন, কিন্তু ফ্ল্যাটবাড়িতে বেশিরভাগ বারান্দাই ছোট হয় বিধায় প্রাপ্ত জায়গার সঠিক ব্যবহার প্রয়োজন। এজন্য চাইলে বারান্দার গ্রিলের কার্নিশে আর মেঝেতে রাখতে পারেন। টমেটো গাছের পর্যাপ্ত সূর্যের আলোর প্রয়োজন পড়ে, তাই এমন জায়গায় রাখুন যেখানে আলোর কমতি নেই। পট বা কন্টেইনার বাছাইয়ের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে সেগুলো যেন একটু ভারি আর সহজে পানি নিষ্কাশনযোগ্য হয়। পট অন্তত ১২ ইঞ্চি গভীর হতে হবে। ভারি পট বা কন্টেইনার গাছের ভারে বা বাতাসে পড়ে যাবার ভয় থাকে না।

মাটি তৈরি করা
মাটি বাছাইয়ের ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, টমেটো সাধারণত হালকা মাটিতে ভালো হয়, যা বাতাস চলাচলের উপযোগী। ঝরঝরে মাটি বেছে নিন, সাধারণত পটে চাষের জন্য বেলে দোআঁশ মাটি ভালো হবে। মাটি প্রস্তুতের সময় সার প্রয়োগ করতে ভুলবেন না, বাসায় তৈরি কম্পোস্ট সার ভালো একটি অপশন।

রোপণের সঠিক নিয়ম
টমেটোর বীজ বপনের ক্ষেত্রে মাথায় রাখবেন, যাতে অতিরিক্ত ঠান্ডায় বপন না করা হয়, এতে করে বীজ জমে যাওয়ার ভয় থাকে।

বপনের ৫-১০ দিনের মধ্যেই চারা গজিয়ে থাকে। এরপর সাবধানে সেই চারা মূল পাত্রে লাগাবেন। কান্ডের দুই-তৃতীয়াংশ মাটির নিচে লাগাতে হবে, এতে চারা ভালোভাবে বেড়ে উঠে। রাতে শীত বেশি হলে চারাকে হালকা খড়কুটো দিয়ে ঢেকে দিবেন।

যতœ-আত্তি
টমেটো গাছের পরিচর্যা যেমন অনেকটাই সহজ, তেমনি এটাও ঠিক যে, একটু অসাবধানতায় গাছ মারাও যেতে পারে। সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ হলো সার আর পানি দেওয়ার নিয়মাবলি। টমেটো গাছে একটু বেশি সারের প্রয়োজন হয়। সপ্তাহে অন্তত একবার সার দেওয়া ভালো। কখন বুঝবেন সার প্রয়োজন গাছের? গাছের আকার অনুসারে যদি ফুল বা ফলের আগমন না হয় বা দেরি হয় তবেই সার প্রয়োগ করাটা জরুরি হয়ে পড়ে। পটের মাটি মাঝেমাঝে হালকা কুপিয়ে দিবেন যাতে ঝরঝরে থাকে আর বাতাস চলাচল হয়, তবে শিকড় যাতে কাটা না পড়ে। পটাশিয়াম আর ফসফরাস যুক্ত সার প্রয়োগ করুন বেশি। বাসায় বানানো কম্পোস্ট সার ব্যবহার করুন নিয়মিত। বারান্দায় সাধারণত বাতাস বেশি থাকে। তাই নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি দিন, দরকার হলে দিনে দুইবার দিন। পানি দেয়ার সময় যেন পাতা ভিজে না যায়, এতে গাছের রোগবালাইয়ের ঝূঁকি বাড়ে। গাছে ফল আসলে সাপোর্টের ব্যবস্থা করুন, ছোট বাঁশের কঞ্চি বা ডাল দিয়ে বেঁধে দিন। বারান্দায় সাধারণত কাক ও অন্যান্য পাখি আসে, তাই এদের থেকে গাছ আর ফুল-ফল বাঁচিয়ে রাখতে হবে।

তানভীর