মঙ্গলবার,১৮ ডিসেম্বর ২০১৮
হোম / ফিচার / বলিউডে 'মি টু':মুখোশ উন্মোচনের সময় এখন
১১/২৬/২০১৮

বলিউডে 'মি টু':মুখোশ উন্মোচনের সময় এখন

-

নারীর প্রতি যৌননির্যাতনের প্রতিবাদে শুরু হওয়া ‘মি টু’ আন্দোলনের দাবানল এবার ছড়িয়ে পড়েছে ভারতীয় শোবিজ ও মিডিয়া জগতে। অভিযোগের আঙুল উঠেছে সংশ্লিষ্ট অঙ্গনের তথাকথিত অনেক রাঘব-বোয়ালের দিকে। বিশ্বের নানাপ্রান্তে নানাভাবে যৌন হেনস্তার শিকার হয়ে চলেছেন নারী, এ নতুন কিছুই নয়। তবে নীরবতা ভেঙে নারী জাগরণের নতুন ধারা শুরু হয়েছে, এসব মুখোশধারী পশুদের সত্যিকারের পরিচয়ও পরিষ্কার হচ্ছে।

‘মি টু’ নিয়ে কিছুকথা
২০০৬ সালে সমাজকর্মী টারানা বার্ক নারীর উপর যৌন হেনস্তার প্রতিবাদে ‘মি টু’ অর্থাৎ ‘আমিও’ একই ধরনের নির্যাতনের শিকার এমন ধারণা নিয়ে আন্দোলন গড়ে তুলুন। তবে তা নিয়ে এখনকার মতো এতটা সাড়া পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে এ নিয়ে খুব একটা আগ্রহ তৈরি হতে দেখা যায়নি। তবে মি টু আন্দোলনের পুনর্জাগরণ ঘটে গত অক্টোবরে অভিনেত্রী আলিসা মিলানোর হাত ধরে। হলিউডের বিখ্যাত সিনেমা প্রযোজক ও মিডিয়া মোঘল হিসেবে খ্যাত হারভে উইনস্টেইনের বিরুদ্ধে যৌননিপীড়নের অভিযোগ এনে ‘মি টু’ শব্দ দুটিকে সোশ্যাল হ্যাশট্যাগ হিসেবে ব্যবহার করেন এই নারী। এরপর থেকে হলিউডের নানা রথী-মহারথীর কুকীর্তির কথা ফাঁস হতে থাকে। এবার হলিউড পেরিয়ে বলিউডসহ ভারতের মিডিয়া, রাজনীতি, শিল্প-সংস্কৃতি জগতে উল্কার বেগে ছড়িয়ে পড়েছে ‘মি ট’ু, রচিত হচ্ছে নারী জাগরণের এক এক নতুন আখ্যান।

অভিযোগনামা
বলিউড পাড়ার এক সময়ের পরিচিত মুখ তনুশ্রী দত্তের হাত ধরেই ‘মি ট’ু আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতে। বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকরের নামে যৌন হেনস্তার অভিযোগ আনেন প্রায় দশ বছর ধরে বলিউড থেকে বিতাড়িত হয়ে পড়া এই অভিনেত্রী। এরপর একের পর এক অভিযোগের স্রোত উপচে পড়ে, উঠে আসে একের পর এক বুকচাপা কষ্টের গল্প।

নানা পাটেকর
প্রায় দশ বছর আগে ‘হর্ণ ওকে প্লিজ’ ছবির সেটে বলিউডের বলিষ্ঠ নানা পাটেকরের দ্বারা যৌন হেনস্তার শিকার হয়েছিলেন বলে অভিযোগ করে উপমহাদেশের এই অংশটায় ‘মি টু’ বিস্ফোরণ শুরু করেন তনুশ্রী দত্ত। এই সিনেমার একটি গানের শুটিং-এর সময় নানা বারবার তাকে অযাচিতভাবে স্পর্শ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন এই অভিনেত্রী। কোরিওগ্রাফার গনেশ আচার্যকে বলার পরে তিনি তো ব্যবস্থা নেননি বরং শুটিং চালিয়ে যেতে নির্দেশ দিয়ে এই অশ্লীল ব্যবহারে সমর্থন জুগিয়েছেন এমনটা বলেছেন তনুশ্রী। ছবি থেকে বের হয়ে চলে আসার সিদ্ধান্ত নিলে উলটো নানা পাটেকর সমর্থিত ভারতীয় রাজনৈতিক দল এমএনএস কর্মীদের রোষানলে পড়েন তনুশ্রী, তার গাড়ি আটকে রেখে বর্বর আক্রমণের ভিডিও এখনো ইন্টারনেটে অহরহ পাওয়া যাচ্ছে। এ নিয়ে সব ধরনের অভিযোগ, দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন তনুশ্রী। কিন্তু তার কথা তখন কেউ আমলে নেয়নি, বরং হতাশা ও নিরাপত্তাহীনতায় বলিউড থেকে এক রকম বিতাড়িত হয়ে যান এই নারী।

এম জে আকবর
এই ‘মি ট’ু জোয়ারে ভেসে আসা রাঘব বোয়ালদের মধ্যে অন্যতম বড় নাম ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোবাশার জাবেদ আকবর। কর্মজীবনে সাংবাদিক-সম্পাদক হিসেবে পরিচিতি পাওয়া এও বর্ষীয়ান রাজনীতিকের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ আনেন একদা তারই সহকর্মী হিসেবে কাজ করা সাংবাদিক প্রিয়া রামানি। এরপর অন্তত ১০-১২ জন নারী এম জে আকবরের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আনেন যার প্রেক্ষিতে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন তিনি।

অলক নাথ
টিভি পর্দায় অতি ভদ্র ও দেশিয় সংস্কৃতির পূজারী হিসেবে একের পর এক চরিত্র বাস্তবায়ন করে ‘সংস্কারী বাবুজি’র উপাধি পেয়েছেন অলক নাথ। অথচ তার বিরুদ্ধে ধর্ষণসহ যৌন নির্যাতনের একের পর এক ভয়ংকর অভিযোগ এসেছে। অভিযোগ করেছেন লেখক, পরিচালক ও প্রযোজক বিনতা নিন্দা, অলক নাথের দীর্ঘদিনের সহকর্মী নবনীত নিশান, দীপিকা আমিন, হিমানি শিবপুরী ও রেণুকা সাহানে। পেটে মদ পড়লে অলক নাথ হিং¯্র বাঘের মতো মেয়েদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েনÑ এই জিনিসটাকে অনেকটা ‘ডক্টর জেকিল’ ও ‘মিস্টার হাইডের’ মতো দ্বৈত ও সাংঘার্ষিক চরিত্র বলে মন্তব্য করেছেন হিমানি।

বিকাশ বাল
‘কুইন’ খ্যাত পরিচালক বিকাশ বালের বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি ২০১৫ সালে ফ্যান্টম ফিল্মসের একটি কাজে গোয়া ভ্রমণে থাকাকালে সহকর্মী একজন নারীর সঙ্গে নোংরা আচরণ করেছেন, যৌন হেনস্তা করেছেন। ঘটনাটি স্বীকার করেছেন বালেরই দুই পার্টনার অনুরাগ কাশ্যপ এবং বিক্রমাদিত্য মোতওয়ানে। এর জের ধরে ইতিমধ্যে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা প্রযোজনা সংস্থা ফ্যান্টম ফিল্মস একেবারে বন্ধ করারই সিদ্ধান্ত নেন কাশ্যপ ও বাকি অংশীদারেরা, একই সাথে ঘটনা জেনেও কিছু না করার দায় মাথায় নেন তারা।

সাজিদ খান
কাজ দেওয়ার নাম করে বাসায় ডেকে যৌন হেনস্তা, নগ্ন হয়ে নাচার নির্দেশ, অযাচিতভাবে স্পর্শ করাÑ পরিচালক সাজিদ খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ শুরু করলে তা শেষ করতে বেশ সময় কেটে যাবে। দিনের পর দিন ধরে নোংরা মানসিকতা ও চরিত্র নিয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে রাজত্ব করেছেন এই পরিচালক; সাংবাদিক কারিশমা উপাধ্যায়, অভিনেত্রী শালোনি চোপড়া এবং মডেল রেচেল হোয়াইট-এর জবানবন্দি শুনলে শিউরে উঠবেন নিশ্চিত।

অন্যান্য
অভিযোগী ব্যক্তিদের লিস্ট এতটাই লম্বা যে ব্যক্তি ধরে এগোলে রীতিমতো ছোটখাট একটা উপন্যাস লেখা হয়ে যাবে। লিস্টের ‘অন্যান্য’ তালিকায়ও আছে বড় বড় সব নাম। বলিউডের স্বনামধন্য পরিচালক সুভাষ ঘাইয়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগ এনেছেন এক নারী। সংগীত পরিচালক আনু মালিকের বিরুদ্ধে এসেছে ভয়াবহ অভিযোগ যার প্রেক্ষিতে ইন্ডিয়ান আইডলের মঞ্চ থেকে তাকে বাদ দেয়া হয়েছে। তালিকায় নাম আছে জনপ্রিয়তার স্বর্ণশেখর স্পর্শ করা সংগীতশিল্পী কৈলাস খের এবং লেখক চেতন ভগতের। ভারতের জনপ্রিয় কমেডি গ্রুপ ‘এআইবি’র প্রাক্তন সদস্যের নামে একই রকম অভিযোগ আসার প্রেক্ষিতে এআইবি ছেড়ে দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা তন্ময় ভাট। তুমুল জনপ্রিয় নেটফ্লিক্স সিরিজ ‘সেক্রেড গেমস’-এর রাইটার এবং ও কমেডিয়ান বরুণ গ্রোভার এবং অভিনেতা ও নির্দেশক রজত কাপুরের বিরুদ্ধেও উঠেছে অভিযোগের তীর। দিনে দিনে এই লিস্ট শুধু লম্বাই হচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত যে আরো অনেক মহারথী (!) এতে ধরা পড়বেন না তার নিশ্চয়তা নেই।

বলিউডে মি টু ঝড় ও প্রতিক্রিয়া
বছরের পর বছর ধরে নানাঅন্যায়-অবিচার ও যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়া নারীরা এবার মুখ খুলেছেন। তবে এর আগেও তো একজন-দুজন মুখ খুলেছিলেন, কিন্তু লাভের কোঠায় শূন্য ছাড়া কিছু মেলেনি। তাই প্রশ্ন ছিল অনেকের কাছে ‘হলিউড’-এর ‘মি টু’ দক্ষিণ এশিয়ার এই অঞ্চলে কার্যকর হবে কিনা, আদৌ মানুষজন নারীর মুখ থেকে এই কথাগুলো শুনতে প্রস্তুত কিনা। তবে এত হতাশা ও যন্ত্রণার মাঝে আশার কথা হলো পাশাপাশি ন্যায়বিচারের দাবিতে এগিয়ে এসেছেন অনেক সেলিব্রেটি। যার ফলে ‘মি টু’র সঙ্গে সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। অভিযোগ খতিয়ে দেখার আগ পর্যন্ত কাজ করবেন না এমন বলে ‘হাউজফুল ফোর’-এর শুটিং থেকে সরে এসেছেন অক্ষয় কুমার যা পরিচালনা করার কথা ছিল ‘মি টু’র অন্যতম অভিযুক্ত সাজিদ খানের। এক টুইটে সাজিদের কাজিন অভিনেতা ফারহান আক্তার বলেছেন, “সাজিদের এমন আচরণে আমি কী পরিমাণ হতাশ তা বলে বোঝাতে পারবো না। আমি জানি না কীভাবে, কিন্তু তাকে এর একটা বিহিত করতেই হবে।” অন্যদিকে ভিক্টিমের প্রতি পূর্ণ সহমর্মিতা জানিয়ে তার পাশে থাকার ইচ্ছা পোষণ করেছেন খোদ সাজিদেরই বোন ফারাহ খান।

মি টু’র আঁচ ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই তার প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন অজয় দেবগণ। প্রাথমিক দিকে মন্তব্য না করে সমালোচনার মুখে পড়া দুই কিংবদন্তি অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন ও আমির খান পরবর্তীসময় পৃথক বিবৃতিতে ‘মি টু’র পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির সিনেমা আমির ছেড়ে দিয়েছেন এমন খবরও মিলেছে। শোবিজে নারীর অধিকারের প্রশ্নে বরাবরই সোচ্চার হয়ে আসা অভিনেত্রী রাধিকা আপ্তে অভিযোগকারী নারীদের সাধুবাদ জানিয়েছেন; একই সাথে এটাও বলেছেন যে এখন পর্যন্ত যা প্রকাশ পেয়েছে তা মাত্র শুরু, এমন আরো হাজারো অভিযোগ আছে যা এখনো আলোর মুখ পায়নি। কিরণ রাও, কঙ্কনা সেন শর্মা, নন্দিতা দাস, মেঘনা গুলজার, জোয়া আক্তারসহ বলিউডের অন্তত ১১জন নারী পরিচালক ‘মি টু’ সাপোর্টে একজোট হয়েছেন। পিছিয়ে নেই সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ও মানবাধিকার কর্মীসহ অন্যান্য মিডিয়া জগতের নারী, পুরুষেরা। বলিউডের প্রথম সারির নায়িকাদের মধ্যে দীপিকা পাড়ুকোন, সোনম কাপুর, ক্যাটরিনা কাইফ, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, পারিণীতি চোপড়াসহ অনেকেই ‘মি টু’র পক্ষে শক্ত অবস্থান প্রকাশ করেছেন, অনেকেই আবার নিজেদের তিক্ত অভিজ্ঞতা শেয়ারও করেছেন।


শুধুমাত্র নারীরাই নন, বলিউডের নতুন প্রজন্মের নায়কদের মধ্য থেকেও এসেছে ইতিবাচক সাড়া। ‘মি টু’র সাপোর্টে ইতোমধ্যে নিজেদের অবস্থান প্রকাশ করে দোষীদের উপর যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত এমনটা মত বরুণ ধাওয়ান, রনবীর কাপুর, অর্জন কাপুর, রনবীর সিংসহ অনেকেই। এরফলে এটা প্রমাণিত হয়েছে যে ‘মি টু’ শুধুমাত্র নারীকেন্দ্রিক কোনো আন্দোলন নয়, বরং এটা হচ্ছে নারীর প্রতি সব ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া এক যুদ্ধ যাতে সব শ্রেণির মানুষের অংশগ্রহণ আছে। তাই বিষয়টিকে সামাজিক আন্দোলন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন অভিনেত্রী চিত্রাঙ্গদা সিং যিনি নিজেও কিছুদিন আগে ‘বাবুমশাই বন্দুকবাজ’ সিনেমার সেটে নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। তার মতে, ‘মি টু’ হচ্ছে সমাজকে নিরাপদ করার কার্যক্রম। এটা কোনোভাবেই পুরুষ জাতিকে নিশ্চিহ্ন করার প্রয়াস নয়, বরং এটি নারীর পাশাপাশি পুরুষদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।’

বলে রাখা ভালো, বলিউডে এ আন্দোলনে যেমন অসংখ্য নারী একের পর এক অভিযোগ এনেছেন, ঠিক একইভাবে সততা ও ন্যায়পরায়ণ আচরণের জন্য পুরুষ সহকর্মীদের প্রশংসা ও ধন্যবাদও জানিয়েছেন। এই যেমনÑ চকলেট-এর পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রীর নামে অভিযোগ করার পাশাপাশি তখন সহকর্মী ইরফান খান এবং সুনীল শেঠী যে তনুশ্রীর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন সেই কথা বলতে ভুলেননি তনুশ্রী। মোদ্দাকথা, এই আন্দোলন অন্যায়কারীদের মুখোশ উন্মোচনের জন্য চলা এক সংগ্রাম, একে তাই ফেমিনিজমের ট্যাগ লাগিয়ে একপাশে ফেলে রাখার অবকাশ নেই।

দশ বছর আগে যৌন হেনস্তার অভিযোগ এনে সুফল পাননি তনুশ্রী, বরং নিরাপত্তার ভয়ে এক সময় ইন্ড্রাস্ট্রি ছেড়ে তাকে নীরব বিদায় নিতে হয়েছিল। ভারত কিংবা বাংলাদেশসহ বিশ্বের নানাপ্রান্তে প্রতিদিন এভাবে যৌন নিগ্রহের শিকার হচ্ছেন হাজার হাজার নারী। তাদের মধ্যে একাংশের কথা এখন উঠে আসছে, আট-দশ কান করে করে তা এখন ‘মি ট’ু নাম নিয়ে গণআন্দোলনের রূপ নিচ্ছে। এই গণআন্দোলন একই সাথে গণজাগরণের জন্ম দিক। অন্যায়কারীদের এমন সাজা হোক, যার ফলে বিশ্ববাসীর কাছে বার্তা যাকÑ একজন নারী যখন ‘না’ বলেন তখন তার মানে না-ই; এই না’কে সম্মান জানাতে সবাই বাধ্য। অন্যথা, কঠিন শাস্তি অনিবার্য।

-নাইব রিদোয়ান