সোমবার,২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯
হোম / বিবিধ / হিন্দু আইন ও বিবাহ বিচ্ছেদ
১১/১০/২০১৮

হিন্দু আইন ও বিবাহ বিচ্ছেদ

-

প্রশ্নঃ
আমি একজন হিন্দু নারী। প্রায় ৯ বছর আগে একটি হিন্দু ছেলের সাথে আমার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই সে আমাকে শারীরিক নির্যাতন করত। প্রায় প্রতিদিন সে মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফেরে। কোনো প্রতিবাদ করতে চাইলে সে আমাকে মারধর করে। বিবাহিত জীবনে আমাদের দুটি সন্তান আছে। আমার স্বামীর নির্যাতনে আমি অতিষ্ঠ কিন্তু আমাদের ধর্মমতে বিবাহ-বিচ্ছেদের কোনো বিধান নেই। আমি কিন্তু আর কোনভাবেই তার সাথে বসবাস করতে পারছি না। এই বিয়য়ে আমি কি ধরনের আইনি পদক্ষেপ নিতে পারি?
বর্ণালি
জিগাতলা, ঢাকা।

উত্তরঃ
আমাদের দেশে বিবাহ ও বিচ্ছেদ যার যার নিজ ধর্মীয় আইন দ্বারা পরিচালিত হয়। ধর্ম, রীতি-নীতি ও আচার-অনুষ্ঠান অনুযায়ী হিন্দু বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর, সাধারণত উক্ত বিয়ের দালিলিক প্রমাণ সুরক্ষার উদ্দেশ্যে, নির্ধারিত পদ্ধতিতে, আবেদনের প্রেক্ষিতে হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক, বিবাহ নিবন্ধন করে থাকেন।

আমাদের দেশে হিন্দু বিবাহ অবিচ্ছেদ্য হিসাবে গণ্য করা হয়। বাংলাদেশের প্রচলিত হিন্দু আইনে বিবাহ-বিচ্ছেদ করা সম্ভব না। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত এ আইনে পরিবর্তন এনে হিন্দু বিবাহ-বিচ্ছেদকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে, বাংলাদেশে এখনও এ বিষয়ে কোনো আইন হয়নি।

কোনো কারণে দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করা সম্ভব না হলেও বিচ্ছেদের কোনো ব্যবস্থা প্রচলিত হিন্দু আইনে নেই। তবে আপনি ১৯৪৬ সালের ‘বিবাহিতা নারীর পৃথক বাসস্থান ও ভরণপোষণ আইনের’ অধীনে আদালতে ‘দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের’ জন্য মামলা দায়ের করতে পারেন।

যেহেতু আপনি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন সেক্ষেত্রে আপনি, এ আইনের অধীনে স্বামীর কাছ থেকে আলাদা হয়েও ভরণপোষণ পেতে পারেন এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণসাপেক্ষে আদালত আপনার প্রার্থনা মঞ্জুর করতে পারেন। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই বিবাহ-বিচ্ছেদ পাবেন না।

জাতিসংঘ কর্তৃক ঘোষিত নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ, ১৯৭৯ ও শিশু অধিকার সনদ, ১৯৮৯-এর স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্র হিসাবে এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে বর্ণিত নারী ও শিশুর সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার নিমিত্ত পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ, পারিবারিক সহিংসতা হতে নারী ও শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০ প্রণীত হয়েছে।

পারিবারিক সহিংসতা বলতে পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে এমন কোনো ব্যক্তি কর্তৃক পরিবারের অপর কোনো নারী বা শিশু সদস্যের উপর শারীরিক নির্যাতন, মানসিক নির্যাতন, যৌন নির্যাতন অথবা আর্থিক ক্ষতিকে বুঝাবে। আপনি অভিযোগ করছেন যে, আপনার স্বামী আপনাকে মারধর করছে কাজেই এ বিষয়টি পারিবারিক সহিংসতার সংজ্ঞায় পড়বে।
এই আইনের অধীনে আপনি নিম্নলিখিত প্রতিকারগুলো চাইতে পারবেনঃ
ক) এই আইন অনুসারে প্রতিকার পাবার অধিকার;
(খ) চিকিৎসা সেবা প্রাপ্তির সুযোগ;
(গ) প্রয়োগকারী কর্মকর্তার নিকট হতে সেবা প্রাপ্তির সুযোগ;
(ঘ) প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ অনুসারে বিনাখরচে আইনগত পরামর্শ ও সহায়তা প্রাপ্তি।

ব্যারিস্টার মিতি সানজানা একজন কর্পোরেট ল’ইয়ার। তিনি লিগ্যাল কাউন্সেল নামক একটি কর্পোরেট ল চেম্বার-এর পার্টনার। লিগ্যাল কাউন্সেল বাংলাদেশের একটি স্বনামধন্য কর্পোরেট চেম্বারস। এই ল ফার্মটি কোম্পানি আইন, ব্যাংক আইন, সিভিল আইন, জমিজমা, আরবিট্রেশন, বিদেশি বিনিয়োগ, আইটি, শ্রম আইন, চাকরি সংক্রান্ত আইন, পারিবারিক আইনসংক্রান্ত সব ধরনের সেবা দিয়ে থাকে। বাংলাদেশে প্রায় ৫০০-র উপর বিভিন্ন দেশি, বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে আইনি সেবা দিয়ে আসছে লিগ্যাল কাউন্সেল। কর্পোরেট ল’ইয়ার-এর পাশাপাশি মিতি সানজানা একজন মানবাধিকারকর্মী। তিনি বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় নিয়মিত কলাম লেখেন। মানবাধিকার নিয়ে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সোচ্চার ভূমিকা রাখছেন সানজানা।