মঙ্গলবার,১৮ ডিসেম্বর ২০১৮
হোম / স্বাস্থ্য-ফিটনেস / ফ্যাট থাকলেও ফিট থাকা যায়
১১/১০/২০১৮

ফ্যাট থাকলেও ফিট থাকা যায়

-

এই সময়ে স্বাস্থ্যসচেতন সবাই। অনেকেই খানিকটা ওজন বাড়লেই বা শরীরের কোথাও মেদ জমলেই চিন্তায় পড়ে যান বা হীনম্মন্যতায় ভোগেন। কিন্তু জানা ভালো কাজে উৎসাহ ও তৎপরতার জন্য ফ্যাট অপরিহার্য। শরীরের উত্তাপ উৎপাদন এবং চর্বি প্রস্তুতকরণ এই জাতীয় খাদ্যের প্রধান কাজ। দেহের কমনীয়তা রক্ষা ও দেহ লাবণ্যের জন্য চর্বির প্রয়োজন খুব বেশি। তাই দেহে চর্বি মানেই খারাপ না। মেদ নিয়েও কীভাবে ফিট থাকবেন তা নিয়েই এই আয়োজন।

বিএমআই (BMI) সব বলে না
বিএমআই হচ্ছে উচ্চতা ও ওজনের সমন্বয়। অর্থাৎ কত উচ্চতায় কত ওজন থাকা উচিত তার হিসাব। অনেকেই বিএমআই ঠিক রাখতে গিয়ে হিমশিম খান। বিএমআই অনুযায়ী, পাঁচ ফুট ১০ ইঞ্চি উচ্চতার কোনো মানুষের ওজন ২২০ পাউন্ড এবং দেহে ১২ শতাংশ মেদ থাকলে তাকে স্থূল বলা হবে। কিন্তু ১২ শতাংশ মেদ নিয়ে কেউ স্থূলকায় হয় না। এমন মানুষ বডি বিল্ডার হতে পারে। তার পাতলা দেহের বাড়তি মেদ ভারি ব্যায়ামের মাধ্যমে পেশিতে পরিণত হতে পারে। তখনো বিএমআই পদ্ধতি তাকে স্থূল বলে গণ্য করতে পারে। দেহে মেদের পরিমাণ জানাটা গুরুত্বপূর্ণ। স্থূলকায়দের বিএমআই পদ্ধতিতে কোনো সুফল মিলবে না।

বাড়তি ওজন নিয়েও স্বাস্থ্যকর থাকা
আপনি ওভারওয়েট হয়েও স্বাস্থ্যবান ও স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন কাটাতে পারেন। উচ্চরক্তচাপ, রক্তে উচ্চশর্করা-চিনি ও উচ্চমাত্রায় কোলেস্টরেল- এই তিনটি বিষয় থেকে যদি আপনার শরীর মুক্ত থাকে তবে দুশ্চিন্তা করার তেমন প্রয়োজন নেই। আপনি ঠিক আছেন ও ফিট আছেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে ওজন বাড়ার প্রবণতা যেন চলমান না থাকে এবং ধূমপান ও অনিয়মিত জীবনযাপন থেকে আপনি দূরে আছেন কিনা।

ফিটনেসে মনোযোগ রাখা
যদি আপনি স্থূলকায় না হন তাহলে অযথা ওজন নিয়ে ভাবনায় পড়ার দরকার নাই। বরং আপনার ফিটনেস ঠিক আছে কিনা সেটা দেখুন। ফ্যাট কিন্তু ফিট এরকম উদাহরণ আপনার চারপাশেই আছে। আর তাছাড়া ব্যায়াম করার অর্থ শুধু ক্যালরি ঝরানো না বরং ব্যায়ামের মাধ্যমে আপনার হার্ট সুস্থ থাকবে, টাইপ ২ ডায়াবেটিস থেকে মুক্ত থাকবেন, হতাশা দূর হবে, অনেক ধরনের ক্যান্সার ও অস্টিওপরোসিস থেকে মুক্ত থাকবেন। আর নিয়মিত শরীরচর্চার মানে হচ্ছে আপনার ফিটনেস ঠিক থাকছে, পেশির ঘনত্বও বাড়ছে। অর্থাৎ মেদ ঝরছে।

ওজন বাড়া মানেই ঝুঁকি?
একদমই না। শরীরে চর্বি থাকা বা কিছুটা মোটা হওয়া আর স্থূলকায় হওয়া দুইটা পুরোপুরি ভিন্ন বিষয়। স্থূলকায় স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। বহু সংখ্যক মানুষ শুধু স্থূলকায় হওয়ার কারণে নানা রোগে ভুগে থাকেন। কিন্তু স্বাস্থ্যবান বা কিছুটা মেদবহুল হওয়ায় তেমন ক্ষতি আছে তা চিকিৎসাবিদ্যা বলে না। কয়েক পাউন্ড বাড়তি ওজন নিয়েও সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন যাপন করা যায়।

পুষ্টিকর খাবারের বিকল্প নেই
বিভিন্ন ধরনের সবজি ও ফল সব মানুষের জন্যই উপকারী। তবে কম গ্লুকোজসমৃদ্ধ খাবার খেতে বলেন বিশেষজ্ঞরা। কীটনাশকমুক্ত টাটকা সবজি ও ফল খাওয়াটা জরুরি। আবার শস্যদানা থেকে যে খাবার পাওয়া যায় তা দেহকে ফিট রাখে।

প্রতিটি মানুষ তার নিজের মতো
প্রতিটি মানুষ তার নিজের মতো করে অনন্য। একে অন্যের থেকে আলাদা। ফলে সবার ক্ষেত্রে ওজন বাড়ার প্রবণতা যেমন এক না, তেমনি একই ডায়েটে ওজন কমার মাত্রায় মানুষভেদে তারতম্য দেখা দেয়। এর অনেক রকম কারণ আছে। জিনগত কারণ ও মেটাবোলিজমের কারণে কম খেয়েও চর্বি জমার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ ও নিয়মিত ব্যায়াম করলে আপনি সুস্থ থাকবেনই, চাই ওজন কমুক বা না কমুক। তাই স্কেলের মাপজোক আর সংখ্যায় আকৃষ্ট না হয়ে নিজের খাবার ও শরীরচর্চায় মনোযোগ দিন।

- রিয়াদুন্নবী শেখ
মডেলঃ পূর্ণশ্রী চৌধুরী, ছবিঃ শুহরাত শাকিল চৌধুরী