রবিবার,১৮ নভেম্বর ২০১৮
হোম / বিজ্ঞান-প্রযুক্তি / স্মার্টফোনে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা
১০/২৮/২০১৮

স্মার্টফোনে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা

-

প্রযুক্তির ক্রমবিকাশে বর্তমানে স্মার্টফোনের ব্যবহার ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিগত এক দশকে নেহাতই ফোনের কার্যকারিতা ছাড়িয়ে পার্সোনাল কম্পিউটারের মতো সব ধরনের ফাংশনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠেছে এই ডিভাইস। তবে স্মার্টফোনে ইন্টারনেটের ব্যাপক ব্যবহারের কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকিও বেড়ে চলেছে। ব্যক্তিগত তথ্য চুরি থেকে শুরু করে সাইবার আক্রমণের শিকার হচ্ছেন অনেকেই। তবে কিছু সাধারণ সতর্কতা অবলম্বনের মাধ্যমে আপনি সহজেই এসব আক্রমণ থেকে নিরাপদ থাকতে পারবেন।

সিকিউরিটি ফিচারস সম্পর্কে জানুন
নতুন ফোন কেনার সময় আমরা সাধারণত ক্যামেরা, স্টোরেজ ফিচার বা স্ক্রিন রেজ্যুলেশন সংক্রান্ত বিষয়ে খোঁজখবর নিই। তবে সময় এসেছে ডিভাইসের সিকিউরিটি ফিচারের ওপর জোর দেওয়ার। তাই নতুন ফোন কেনার আগে এনক্রিপশন ফিচার সম্পর্কে জেনে নিন। কিভাবে ক্ষতিকারক অ্যাপ্লিকেশন শনাক্ত করবেন বা মুছে দিবেন তা সম্পর্কেও বিক্রেতাকে প্রশ্ন করুন অথবা নিজেই অল্প-বিস্তর পড়াশোনা করে নিন। প্রতিটি স্মার্টফোনেই নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কিছু অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার ইনস্টল করা থাকে। এগুলো ব্যবহার করে কীভাবে ফোনকে নিয়মিত ক্লিন করে ভাইরাসমুক্ত করতে হয় অথবা যেকনো রিস্ক অ্যালার্ট পেতে হয় তা সম্পর্কে জেনে নিন। প্রয়োজনে অভিজ্ঞ কারো সাহায্য নিন। এছাড়া ফোন চুরি হয়ে গেলে তার অবস্থান কীভাবে জানা যাবে এবং গোপনীয় তথ্য মুছে দেওয়ার ব্যবস্থা আছে কিনা তা সম্পর্কেও জানা জরুরি।

ডাউনলোড বা ইনস্টলে সতর্কতা
অ্যাপ্লিকেশনগুলো ইনস্টল করলে কীভাবে বুঝবেন যে তা আপনার জন্য নিরাপদ? চিন্তার কিছু নেই, ব্যাপারটা একেবারে সাধারণ। অ্যান্ড্রয়েড ফোনের যে-কোনো অ্যাপ্লিকেশন ইনস্টল করতে হলে আপনাকে গুগল প্লে স্টোরে যেতে হবে, অ্যাপলের ক্ষেত্রে আইটিউনস থেকে নামাতে হবে। উভয় ক্ষেত্রে অ্যাপ্লিকেশন ইনস্টল করার পূর্বে ইউজার রিভিউ এবং রেটিং দেখে নিন, জেনে নিন ভেরিফাইড অ্যাপ্লিকেশনটি কোনটি। এটা আপনার জন্য কঠিন হলে টেক স্যাভি যেকোনো ব্যক্তির সাহায্য নিন কেননা একই কথা যে-কোনো কিছু ডাউনলোডের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। পপ-আপ অ্যাড এবং একের পর এক রিডাইরেকশনে ভরপুর ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করা বন্ধ করুন। যদি ডাউনলোড করতেই হয় তবে ভাইরাস অ্যালার্টের দিকে খেয়াল রাখুন। আপনার স্মার্টফোনেই সেফ ডাউনলোডের যাবতীয় ব্যবস্থা রয়েছে, আপনাকে কেবল নোটিফিকেশনগুলো বুঝতে হবে।

ফ্রি অ্যাপের মোহ থেকে দূরে থাকুন
অ্যাপস্টোরে লগইন করলে প্রায়ই আপাত দৃষ্টিতে আকর্ষণীয় এবং অভিনব অ্যাপ্লিকেশনের সন্ধ্যান মেলে। অনেক সময় গ্রাহক অ্যাপস্টোরে কোন ফ্রি অ্যাপ পেলে কোন কিছু না ভেবে ডাউনলোড করে ফেলেন। এই অ্যাপস এর মাধ্যমে অনেক গ্রাহক সাইবার আক্রমণের শিকার হন। পরবর্তীসময় এই অ্যাপগুলো আনইন্সটল করলেও ক্ষতির শঙ্কা থেকেই যায়। তাই স্মার্টফোনে কোনো অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোডের আগে ইউজার রিভিউ, কমেন্ট ইত্যাদি ভালো করে পড়ে নিতে হবে। এছাড়া ‘টার্মস এন্ড কন্ডিশন’ ভালো করে পড়ে ফোনের নিরাপত্তার ব্যাপারে একবারে নিশ্চিত হয়ে তারপর অ্যাপ ডাইনলোড করুন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাপ ফাঁদ থেকে দূরে থাকুন
'Which kind of fruit are you' অথবা 'Which celebrity do you look like' ফেসবুকে এই ধরনের কুইজে কখনো অংশগ্রহণ করেননি এমন মানুষ মেলা ভার। এই ধরনের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপস ব্যবহার করতে গ্রাহককে নিজের প্রোফাইল এবং ব্যক্তিগত তথ্য সম্পর্কে অনুসন্ধ্যান করার অনুমতি দিতে হয়। ফলে এই গোপন তথ্যসমূহ ফাঁস হওয়ার কিংবা হ্যাকারদের হাতে পড়ার ঝুঁকি থেকে যায়। তাই এখন থেকে ফেইসবুকে এই ধরনের কুইজ বা সার্ভে সংবলিত অ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক হোন।

ফ্রি ওয়াই-ফাই ব্যবহারে সতর্ক হোন
এখনকার সময়ে কোনো কফিশপ বা রেস্টুরেন্টে গেলেই আমরা ফ্রি ওয়াই-ফাই সংযোগ আছে কিনা তা জানতে চাই। আপাত দৃষ্টিতে এতে কোনো সমস্যা না থাকলেও বিপদের সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সবসময় মাথায় রাখতে হবে যেকোনো জায়গায়ই আপনি হ্যাকারের আক্রমণের শিকার হতে পারেন।

ব্রাউজ করুন সতর্কতার সঙ্গে
স্মার্টফোনে ব্রাউজিংয়ের সময় এমন অনেক লিংকে ক্লিক করা হয় যেখানে ব্যবহারকারী আগে কখনো ভিজিট করেননি। এক্ষেত্রে ক্লিক করার আগে লিংকের ইউআরএল ভালোভাবে পড়ুন এবং তা সন্দেহজনক হলে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকুন।

পাসওয়ার্ড, আর্থিক লেনদেন ও অন্যান্য প্রসঙ্গে
> স্মার্টফোন হোক কিংবা অন্য যে-কোনো ডিভাইস; যে-কোনো অ্যাপ-অ্যাকাউন্টে পাসওয়ার্ড ব্যবহার করার আগে সতর্ক হোন। পাসওয়ার্ড একেবারে ফ্ল্যাট ও ইজি না দিয়ে তাতে আপার কেস-লোয়ার কেস, নাম্বার এবং স্পেশাল ক্যারেক্টারের সংমিশ্রণ করুন।

> পাসওয়ার্ড ভুলে যেতেই পারেন। তাই যে-কোনো অ্যাকাউন্ট খোলার সাথে সাথে রিকভারি ইমেইলও অ্যাড করুন যাতে পাসওয়ার্ড রিস্টোর করতে পারেন।

> আর্থিক লেনদনের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখুন যে, অ্যাপ বা সাইটটি ব্রাউজ করছেন তা আসলেই অফিসিয়াল অ্যাপ বা সাইট কিনা। থার্ড পার্টি অ্যাপ ব্যবহার করে ট্রান্সেকশন না করাই ভালো।

> স্মার্টফোনে অ্যাপগুলো নিয়মিত আপডেট করুন। সাধারণত আপডেটের মাধ্যমে অ্যাপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন সিকিউরিটি ফিচার অ্যাড করে থাকে।

- নাইব মুহাম্মদ রিদোয়ান