রবিবার,১৮ নভেম্বর ২০১৮
হোম / জীবনযাপন / সন্তান হয়ে উঠুক পরিবেশ সচেতন
১০/২৮/২০১৮

সন্তান হয়ে উঠুক পরিবেশ সচেতন

-

“সজনে গাছে রাতজাগা পাখির অদ্ভুত রব”, “বাঁশবনের ছায়া”, “জ্যোৎস্না-ঝরা নারিকেলে শাখার মৃদু কম্পন দেখিতে দেখিতে সুখে বুড়ির ঘুমের আমেজ”- শব্দগুচ্ছগুলো মনে করিয়ে দেয় বিভূতিভূষণের পথের পাঁচালীর অপু-দুর্গার কথা। প্রকৃতির কোলে এক নিবিড় ভালোবাসায় বেড়ে উঠেছে তাদের জীবন। আজকের নগর সভ্যতায়, কংক্রিটময় শহুরে যান্ত্রিকতায় আমাদের সন্তানদের প্রকৃতি ও পরিবেশের সাথে পরিচয় করে দেওয়ার সুযোগ তেমন হয়ে ওঠে না। অথচ একসময় প্রকৃতিই ছিল আমাদের বিরাট বিদ্যানিকেতন। বর্তমান সময়েও সন্তানকে প্রকৃতির কাছাকাছি আনা ও পরিবেশ সচেতনতা তৈরি করা একান্ত জরুরি।

সন্তানকে প্রকৃতির সান্নিধ্যে আনুন
সন্তানকে নিয়ে বিকালে সবুজে ঘেরা পার্কে কিছুটা বেরিয়ে আসতে পারেন। দুজনে বুকভরে নিশ্বাস নিন, সন্তানকে কোনটি কী গাছ এবং তার গুণাগুণ কি বলুন। এতে করে ও প্রকৃতিকে আপন করে নিতে পারবে। চাইলে মাসে একবার শহরের বাইরে প্রকৃতিঘেরা কোথাও দু-এক দিন কাটিয়ে আসতে পারেন, করতে পারেন ক্যাম্পিং। নিয়ম করে তাকে মাঠে খেলতে নিয়ে যাওয়াও কিন্তু আপনার দায়িত্ব।

পরিবেশ নিয়ে শিক্ষা দিন
বাবা-মা হিসেবে আপনি পরিবেশের প্রতি কতটা সংবেদনশীল তার উপর আপনার সন্তান কি শিখবে তা অনেকখানি নির্ভর করে। তাকে শেখান বাগান করতে, গাছের পরিচর্চা করতে, বলুন বাইসাইকেল কেন অন্য যানের থেকে বেশি পরিবেশবান্ধব- এভাবেই সে শিখবে। একটা ছোট্ট ফুলগাছও কীভাবে বায়ুকে বিশুদ্ধ করছে সেই গল্পটা তাকে অবশ্যই মুগ্ধ করবে।

সন্তান লাইটটা নিভাক, টেপটা বন্ধ করুক
সন্তানকে বলুন দাঁতব্রাশ করার সময় বা গোসলে পানির অপচয় রোধ করতে। সে জানুক পানির প্রতিটি ফোঁটা যা সে অপচয় থেকে রক্ষা করছে তা কীভাবে আমাদের ধরিত্রীকে টিকিয়ে রাখছে। সে জানুক এনার্জি বা শক্তির অপচয় রোধ করা পরিবেশ রক্ষার অন্যতম দাবি কেন। তাই অপ্রয়োজনে লাইট-ফ্যান অফ করার অভ্যাস তাকে দিয়ে গড়ে তুলুন।

পরিবারের সবাই মিলে বাগান করুন, গাছ লাগান
হতে পারে বাড়ির ছাদে, উঠানে বা অন্তত একচিলতে বারান্দায়- সন্তানদের নিয়ে শখের বাগান করা। নিজেরাই পরিচর্চা করুন। রান্নাঘরের আবর্জনা দিয়ে যেমন তরি-তরকারির উচ্ছিষ্ট, ডিমের খোসা বা কাগজ ইত্যাদি দিয়ে কম্পোস্ট সার তৈরি করুন। এটা শুধু রিসাইকেল করার ভালো উপায়ই না, বরং এটা আপনার সন্তানকে শেখাবে কীভাবে খাবারের অংশ থেকেই সার তৈরি হয়।

প্লাস্টিক বর্জন
প্লাস্টিক আমাদের পরিবেশের জন্য কেন ক্ষতিকর তা সন্তানকে জানানো খুব জরুরি। ঘরের প্লাস্টিক ব্যবহার্যগুলো বদলে কাঠ বা কাচের দ্রব্য ব্যবহার করুন। বাচ্চার খেলনার ক্ষেত্রে প্লাস্টিক এড়িয়ে কাঠ বা মাটির কিছুকে পছন্দ করুন। বাজার করতে যাওয়ার সময় বাড়ি থেকে ব্যাগ নিয়ে যান।

বাড়ির বাহিরটাও ‘আমাদের’
শুধু নিজের ঘরটা ঠিকঠাক রাখাই সন্তানের দায়িত্বের একমাত্র দিক না। বাড়ির বাহির অর্থাৎ এই শহরটাও তারই- এই শিক্ষাটাও দরকার। কোথাও গেলে ময়লা-আবর্জনা না ফেলা, পরিবেশের ক্ষতি না করা বিশেষ করে কোনো পর্যটন স্থানের ইত্যাদি বাচ্চাদের ছোট থেকেই শেখানো উচিত।

রিসাইকেল করা, পুনর্ব্যবহার করা
বিকল্প থাকা সত্ত্বেও একবার ব্যবহার করে ফেলে দিতে হয় এমন জিনিস আমরা অহরহ ব্যবহার করতে পারি। কোনো কিছু ময়লার ঝুড়িতে ফেলার আগে আরেকবার ভাবুন সেটা অন্য আর কীভাবে কাজে লাগানো যেতে পারে। যেমন টিস্যুর খালি রোলটা হতে পারে বাচ্চার ‘আর্ট প্রোজেক্ট’য়ের অংশ।

শ্রেণিকক্ষের বাইরে প্রকৃতির ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্যে পাঠ দিলে শিশুদের সৃষ্টিশীলতা বাড়ে। স্বভাবতই তখন স্কুলে তাদের পাঠদক্ষতা বেশ বাড়ে।

- রিয়াদুন্নবী শেখ
ছবিঃ নীল ভৌমিক