রবিবার,১৮ নভেম্বর ২০১৮
হোম / সাহিত্য-সংস্কৃতি / মা বলতেন
১০/১৫/২০১৮

মা বলতেন

- ভাস্কর চৌধুরী

মা বলতেন, জল নয় বাবা, এ জীবন
কেবলই আগুন, কেবলই তাপ
চাপের মধ্যে, তাপের মধ্যে, জল হাতে চলা।
রাঁধতে আগুন, সানকিভরা জল নিয়ে বসি
বসে থাকা এক ধরনের নিয়ন্ত্রণ বাবা
সামলাতে গেলে অপেক্ষা লাগে।

তোর বাবা ভুল হলে আগুন হয়ে ওঠে
আমি নীরবে বসে চোখের জল ফেললেই তিনি শান্ত হন
লজ্জিত হন, ক্ষমার জন্যে রাত্রি পর্যন্ত অপেক্ষা করেন
আমি আগুন জ্বালিয়ে চুলোতে বসে থাকি
আগুন বেড়ে গেলে, সানকির জল দেয়
জল হচ্ছে নিয়ন্ত্রণ, অপেক্ষা হচ্ছে কাল ও সময়
আগুন ও হওয়া পুরোটা জীবন
চাপ দিয়ে ধুলোও পথে বসে, শরীর সোজা হাঁটে
চাপ হলো সোজা দাঁড়ানো, পথ হাঁটা
হওয়া হওয়া, জল কেবলই অপেক্ষা, সময়ের নিয়ন্ত্রণ।
মা বলতেন, এ জীবন বাবা, সময়ের অপেক্ষা, কেবলই আগুন।

মা বলতেন, যদি জলের আভাস পাস
সানকিতে ভাত খাস।


পাখিরা
রাফেয়া আবেদীন

আমাদের শহরে পাখিরা কি জানে শীতের গল্প,
অথবা যতটুকু তন্দ্রা জমে থাকে কুয়াশায়, তার চেয়ে
ঢের বেশি চোখের ভেতর জমবে ধুলো। এইসব ধুলো জানে আমাদের
পাখিদের ইতিহাস,

তুমি আলোর কঙ্কাল হাতে নিয়ে চলে যাচ্ছ
সান্ধ্যবকুলের ছায়ায়, তবু জানা হয়েছিল আলো আর শীতের দূরত্ব
কতদূর। কত দূর ছায়াবিবৃতি পরিযায়ী। কতদূর জলের গোপন ঘ্রাণ
অভিমানে ঝরে যাচ্ছে হে রূপপ্রমিতি,

যারা তোমার ছায়া ও ছবি শিকারি
তাদের ধুলোচোখে লেগে আছে শীতের ধূসর আরশোলা
তাদের কালো চশমা কুয়াশার মিহি অন্ধকারে আঁকা
তাদের শিকারি ছবি চলে গেছে নীল ল্যান্ডক্রুজারের বাড়ি,

নক্ষত্রের জ্যোৎনায় লেক আর নদীজলের ঘ্রাণে
পড়ে আছে যতটুকু তন্দ্রার ছবি, সান্ধ্যবকুলের তলায়
পাখিদের শীত গড়াগড়ি খায় ধুলোর তন্দ্রায়।


উইপোকা
সাইফুল ভূঁইয়া

চক্রচর উইপোকারা থিতু হবে বলে
দখলে নিলো আমার সবকিছু।

পুরনো চিঠি সাদা-কালো ছবি
সযত্নে রাখা মস্তিষ্কখানি।

হাতে আঙুলে কলমের নিবে
কবিতাগুলো পোকায় খেয়েছে।

সারা রাত কোরাসে গায়
জিপসি কিংয়ের গান
সুরা ভেবে পান করে
বুকে জমা বিষ।

সংসারী হতে এসে
উইপোকারা হয়ে গেলো কবি।


আবিষ্কার
আউয়াল আনোয়ার

ঠিক আবিষ্কারের জন্য তাও নয়
তোমাকে পাঠ করে করেই পৌঁছে যাব
নৃতত্ত্বের আদিম চূড়োয়
তোমার নিশ্বাসেই ঘুচে যাবে অনন্ত আধার আমার

বিষয়টিকে কেউ আবিষ্কার বললেও
বলতে পারো নিঃসংকোচে

আমি শুধু তোমার কথাকেই রাধা নাম জপবো।


বিষণ্ণ নয়ন
রাবেয়া খাতুন হিরু

আকাশটা সাদা হয়ে আসছে
চোখে পড়ছে শিউলিতল
সাদাফুলে চেয়ে গেছে
তোমার মুখ বিষণ্ণতায় ভরা
চোখদুটো অপলোক নয়নে তাকিয়ে আছে
যেন কিছু বলবে বলে
পায়ে পায়ে এগিয়ে গেলাম
ইচ্ছে হচ্ছে তোমার হাতদুটো ধরতে
অথবা মুখে হাত বুলিয়ে আদর করতে
কিন্তু সাহস হলো না
তোমার বিষণ্ণতাকে ছুঁতে
শুধু অপলোকে তোমার দিকে তাকিয়ে রইলাম


ট্রেনে জানালায় ছবি
সৌম্য সালেক

সেই মোহ, চেনা সুর, ছবি এত, বাতাসে বাতাসে ঘুম- জড়াজড়ি ওত পেতে আছে ট্রেনের জানালায়; কখন যে ভুলেছি সেসব, কোথায় যে হারিয়েছি- এখানে ওখানে দীন-পরবাসী...

সেই ঘনমেঘ হরিৎ-সকালের স্নেহ, পানাফুল দীঘি, দৌড়- দাপাদাপি কাদা-জল মন্থনে হা-ডু-ডু বিকেল, মধুমাস আম-আঁটি খেল্, মেঠো নদী, আলুথালু চুল উড়াউড়ি, কাশবন, বাঁকাপথ হাটুরের সারি, মাঠের বিজন টীলা, আমাদের ভবচারী মন...

হে অনুমেয় আকাশের আভা, যা তুমি ধরে আছো এত নীল ছিল না সেখানে, নীল-রক্ত এতটা বিষাদ ছোঁয়া! কেবল স্বপ্নের নীলমণি, নীলফুল, নীলকণ্ঠ পাখি হয়ে উড়েছে জীবন, হৃদয়ের অধিরথে ক্ষুরধ্বনি...