রবিবার,১৮ নভেম্বর ২০১৮
হোম / সম্পাদকীয় / স্লিমে বুদ্ধিনাশ!
১০/১৫/২০১৮

স্লিমে বুদ্ধিনাশ!

-

পাঁচ বছর পর দুই বান্ধবীর হঠাৎ দেখা। প্রথমজন দ্বিতীয়জনকে দেখে অবাক হয়ে বললেন, আরে, তুই তো পুরাই হাতির বাচ্চা হয়ে গেছিস! এত মোটা হলি কীভাবে? দ্বিতীয়জন বললেন, আমাদের বাসায় ফ্রিজ নেই, তাই...। প্রথম বান্ধবী আরো অবাক হয়ে বললেন, ফ্রিজের সঙ্গে তোর কুমড়ো-পটাশ হওয়ার সম্পর্ক কী? দ্বিতীয় বান্ধবী মুচকি হেসে বললেন, পচে যাবে বলে রাতে কোনো খাবারই রাখেন না মা। ঘুমানোর আগে সব আমাকেই খেতে হয়।

এটা স্রেফ কৌতুক। কৌতুক হলেও মোটা নারীদের ব্যাপারে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির একটি ছাপ এখানে আছে। কোনো নারী একটু মোটা হলেই তাকে আমরা অসুন্দরের তকমা দাগিয়ে দেই। একজন অত্যন্ত ভালো স্বাস্থ্যের অধিকারী মেয়ে স্কুলে যাবার সময় ছেলেদের কাছে টিপ্পনি শুনত-কোন দোকানের চাল খায় রে! সুন্দরী প্রতিযোগিতা থেকে শুরু করে সিনেমা-নাটকে অতি স্লিম মেয়েদের জয়জয়কার। জিরো ফিগারের চাহিদা এতটাই যে, স্লিম থাকতে গিয়ে এসব মেয়ে রীতিমতো অপুষ্টিতে ভোগেন। কিন্তু পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা থেকে তৈরি বাজার চাহিদার কাছে এরা অসহায়।

মোটা হওয়ার পেছনে যেমন ধীরগতির মেটাবলিজম দায়ী, তেমনি রুগ্ন স্বাস্থ্যের পেছনে দায়ী উচ্চ মেটাবলিজম হার। প্রতিবেলা খাবারের পর যারা কমপক্ষে ১ ঘণ্টা বিশ্রাম নেন, তাদের মেটাবলিজম হার কম। কিছুদিন আগে হেলথ সাইকোলজিতে প্রকাশিত সমীক্ষায় জানা গিয়েছে যে, বিয়ের পর যেসব নারীরা তাদের বিবাহিত জীবন নিয়ে নিরাপদ বোধ করেন, তাদের মধ্যে মুটিয়ে যাবার প্রবণতাও বেশি। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তায় যেমন স্বাস্থ্যহানি হয়, তেমনি অতিরিক্ত ভালোবাসা আর যত্নেও মোটা হয়ে যান নারীরা।

মোটা নারীদের জন্য আরো একটি সুখবর দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। সাম্প্রতিক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন, শরীরে কিছুটা মেদ বা চর্বি জমলে তা স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালোই। কারণ ওই চর্বি প্যাথোজেন নামে একটি সংক্রামক ব্যাক্টেরিয়াকে পরাস্ত করতে পারে। আরো বিস্ময়কর তথ্য দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা, মোটা নারীদের স্মৃতিশক্তি রুগ্ন নারীদের তুলনায় অনেকটাই ভালো। কারণ, মানুষের স্মৃতিকোষের আধার হলো চর্বির টিস্যু।

দেখা যাচ্ছে, যারা স্লিম হতে মরিয়া থাকেন, তারা বুদ্ধি হারানোর পথও পরিষ্কার করেন। স্লিম হওয়াটা যদি ফ্যাশনের ট্রেন্ড হয়, তবে সেই ট্রেন্ডে এখন পরিবর্তন এসেছে। এখন আর পশ্চিমা ফ্যাশনে হাড্ডিসার নারীরা সুন্দরী বলে বিবেচিত নন। বরং একটু বাড়তি ওজনের ‘কার্ভি’ শরীরের নারীরাই আস্তে আস্তে হয়ে উঠছেন সুন্দরী। এবং অনেক পশ্চিমা নারীই এখন নিজেকে অত্যাচার করে স্লিম করে তোলার চাইতে সুস্থ ও সবল থাকার দিকেই বেশি নজর দিচ্ছেন।

এটা ঠিক, মাত্রাতিরিক্ত স্থূলতা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। আবার অনেকে রোগা শরীর মোটা করতে গিয়ে বিভিন্ন ওষুধের আশ্রয় নেন। এটাও শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। যথার্থ সুষম খাদ্যের মাধ্যমে নিজেকে সুস্থ রাখাটাই আসল কথা।

সুতরাং জয় হোক সুস্থ শরীরের। অপুষ্টি বিদায় নিক শরীর থেকে, মন থেকে।

- তাসমিমা হোসেন