মঙ্গলবার,১৬ অক্টোবর ২০১৮
হোম / ভ্রমণ / রাজকীয় মরুর দেশ দুবাই-এ
১০/০৪/২০১৮

রাজকীয় মরুর দেশ দুবাই-এ

-

আরব আমিরাতের নামকরণ কোথা থেকে হয়েছে জানেন? মধ্যপ্রাচ্যের রাজকীয় সব আমিরের স্থান বলেই এর নাম আরব আমিরাত। আমিরদের মতো রাজার হালে থাকা সম্ভব না হলেও, আরব আমিরাতে আপনি টুরিস্ট হয়ে ঘুরে বেড়ালে নিজেকে আমিরের থেকে কোনো অংশেই কম মনে হবে না।

দুবাই যেন অন্য সব শহর থেকে ভিন্ন। রাস্তার একপাশে আরব সাগর, অন্যপাশে বিশ্বের নামিদামি সব ব্র্যান্ডের দোকান। শহরের প্রত্যেকটি রাস্তাই যেন এক একটি কসমোপলিটান ফুড হেভেন। দুবাইয়ে আছে বিশ্বের সবচেয়ে উচু দালান আর কৃত্রিম দ্বীপ। একটি বিশ্বখ্যাত টুরিস্ট ডেস্টিনেশানে যা যা থাকা দরকার, তার সবই আছে দুবাইতে। বাংলাদেশীদের জন্য টুরিস্ট ভিসা পাওয়াও সহজ। মরুর দেশের এই জাদুর শহরে কি করবেন না করবেন জানিয়ে দেই।

মরুভূমি সাফারি
মধ্যপ্রাচ্যের মতো অপার্থিব সুন্দর মরুভূমি অন্য কোথাও পাবেন না। দুবাইয়ের একটি অন্যতম টুরিস্ট আকর্ষণ হচ্ছে রোমাঞ্চকর মরু সাফারি। সেখানে সোনালী বালির উঁচু-নিচু পাহাড় বেয়ে চড়তে পারবেন ফোর-হুইল অফরোড গাড়িতে করে। সেখানকার বিশেষজ্ঞ চালকরা আপনাকে রোলারকোস্টার থেকেও বেশি রোমাঞ্চকর এক অভিজ্ঞতা দিতে পারবে। পাঁচ ঘণ্টার সাফারির মাঝে আছে উটের পিঠে চড়ার অভিজ্ঞতাও। বেদুঈন মহিলাদের কাছ থেকে হাতে মেহেদির নানারকম নকশাও করে নিতে পারবেন। মরুর মাঝে দিনশেষে রাত গড়ালে উপভোগ করবেন কীভাবে মুহূর্তে হিমশীতল হয়ে যায় এক আগুনের কুুণ্ডলী। প্রকৃতির এক অনন্য স্বাদ পেতে দুবাইয়ের মরুভূমির বিকল্প নেই।

বুর্জ খলীফা
দুবাই শহর থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূর থেকে আপনি দেখতে পাবেন আকাশচুম্বী বুর্জ খলীফার চুড়া। বিশ্বের সর্বোচ্চ দালানের দানবীয় স্থাপনা আপনাকে মুগ্ধ করবে নিঃসন্দেহে। আধুনিক প্রকৌশলীর এই অনন্য নিদর্শন নির্মাণ শেষ হয় ২০০৯ সালে। এই স্থাপনার উচ্চতা এতটাই যে স্থল থেকে প্রায় ২,৭০০ ফুট উপরে অবস্থিত ১৩০ তলায় সময়ের পার্থক্য প্রায় ২ মিনিট। রোজার সময় নিচতলায় ইফতার হয় এক সময়, আর উপর তলায় আরেক সময়! বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল কিছু হোটেল আছে এই স্কাইস্ক্র্যাপারে। এই অবিশ্বাস্য দালানে থাকার সৌভাগ্য না হলেও, আপনি টিকিট বুক করে ঘুরে আসতে পারবেন ১২৬ তলার লবিতে। বুলেটের গতিতে লিফটে চড়ে প্রায় ২৫০০ ফুট উঠে যাবেন এক মিনিটের মধ্যে। এই অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতার জন্য অবশ্যই সময় করে এই অনন্য নিদর্শন ঘুরে আসবেন।

হট এয়ার বেলুন ট্যুর
দুবাইয়ের আরেকটি অন্যতম আকর্ষণ হট এয়ার বেলুনে ভ্রমণ। বিশাল বেলুনের নিচে আপনজনদের সাথে উড়ে চলে যেতে পারবেন মরুভূমির উপরে। দুবাইয়ের হোটেলগুলো থেকে মিনিবাসে করে মারঘাম মরুভূমি কনজারভেশনে যেতে পারবেন এক ঘণ্টার মধ্যে। হট এয়ার বেলুন বেশ কিছু হলিউড মুভিতে দেখা গেলেও, বাস্তবে এই রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা সব জায়গায় পাওয়া যায় না। কেননা হট এয়ার বেলুনের জন্য উষ্ণ এবং মৃদু বাতাসের আবহাওয়া প্রয়োজন। শান্ত নীরব এবং দিগন্তহীন মরুভূমির উপর দিয়ে ভেসে যাওয়ার অভিজ্ঞতা বলে বোঝানো যাবে না, উপভোগ করতে হবে। সেটার জন্য আপনার অবশ্যই দুবাই যেতে হবে।

সি প্লেন
সাধারণত উড়োজাহাজ উড্ডয়ন করে এয়ারপোর্ট থেকে। তবে দুবাইয়ের বিশ্বখ্যাত স্কাইলাইন দেখতে আপনার প্লেনে চড়তে হবে সমুদ্র থেকে। কৃত্রিম দ্বীপ পাম জুমেইরাহ, দ্যা ওয়ার্ল্ড এবং বুর্জ খালিফার মতো অনন্য নিদর্শন একঝলকে দেখে নিতে চাইলে সি প্লেনের বিকল্প নেই। লোহিত সাগরের পাড় ধরে ৪০ মিনিট উড়ে বেড়াতে পারবেন ছয় থেকে নয় জনকে একসাথে নিয়ে। প্রাইভেট প্লেনে চড়ে বিশ্বের অন্যতম ধনী শহর ঘুরে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা অদ্বিতীয় বটে।

যা যা করবেন
দুবাইয়ের সব সৈকত টুরিস্টদের জন্য আকর্ষণীয়। বিভিন্ন হোটেলের আছে প্রাইভেট বিচ এবং প্রায় সব জায়গায় দেখতে পাবেন মধ্যপ্রাচ্যের ঐতিহ্যের নিদর্শন। মরুভূমির মাঝে তাবু গেড়ে মান্দি, রোজ ভুকারি, খেবসা, মাদবি, কাবাব এবং আরও অনেক রকমের সুস্বাদু মধ্যপ্রাচ্যের খাবার খেতে পারবেন। পূর্ণিমার সময় গেলে শুনবেন জীবন্ত সাগরের গর্জন। শপিং করতে চলে যাবেন বিশ্বখ্যাত দুবাই মলে এবং শত শত শপিং কমপ্লেক্সে। লোহিত সাগরকে উপভোগ করতে চাইলে বোটে করে ছুটে যাবেন সাগরের মাঝে রাতের আঁধারে। স্কুবা ডাইভিং, প্যারাগ্লাইডিং, স্কিং, স্যান্ড সার্ফিং, ফিশিং, কি নেই দুবাইতে!

বিশেষ নিয়ম-কানুন
* প্রথমত, টুরিস্ট হয়ে সবখানে ছবি তুলতে চাইলে বিপদে পড়তে পারেন। সেখানকার স্থানীয়রা অনুমতি ছাড়া ছবি তোলা মোটেই পছন্দ করে না এবং এতে আপনার দন্ডও হতে পারে।

* শহরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য দুবাইয়ের রাস্তাঘাটে খাওয়াদাওয়া এবং ধূমপান নিষিদ্ধ।

* স্পিকারে অতিরিক্ত আওয়াজ করে গানবাজনা বাজালে আপনার অর্থদন্ড হতে পারে।

* মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে দম্পতি বা যুগলদের পাবলিক প্লেসে মার্জিত আচরণ করা জরুরি, নাহলে স্থানীয়রা বিরক্ত হতে পারে এবং পুলিশি ঝামেলাতেও জড়িয়ে যেতে পারেন।

* নিরাপত্তার স্বার্থে টুরিস্টদের সর্বদা পাসপোর্ট সাথে রাখা প্রয়োজন।

* মোবাইল এবং ল্যাপটপে ভিপিএন ব্যবহার করবেন না। কেননা দুবাইয়ের আইন অনুযায়ী নকল আইপি অ্যাড্রেস ব্যবহার করা দন্ডনীয় অপরাধ।

টিপস
> ডিসেম্বর থেকে মার্চ মাস দুবাই ভ্রমণের জন্য অন্যতম সময়। এই সময় আবহাওয়া বেশ ভালো থাকে এবং টুরিস্ট প্যাকেজও পাওয়া যায়।

> দুবাইয়ের ট্যাক্সি এবং উবার সার্ভিস বেশ ভালো এবং মেট্রোও আছে।

> ভ্রমণকালে খাওয়ার জন্য ওয়েস্টার্ন রেস্তোরাঁ থেকে বরং স্থানীয় রেস্তোরাঁ বেছে নেওয়া ভালো। কম খরচে খাওয়ার জন্য রাস্তায় শর্মা, ফাহিতা এবং তামেয়া স্ট্যান্ড পাবেন।

> টুরিস্ট ডেস্টিনেশান বাদে বেদুইনদের ঘর এবং মসজিদ পরিদর্শন করতে চাইলে তাদের সংস্কৃতির প্রতি সম্মান দেখাবেন।

> হোটেল থেকে শুরু করে সব ট্যুর প্ল্যান আগে থেকে করে নেওয়া ভালো। বেশ কিছু ট্র্যাভেল এজেন্সি বাংলাদেশ থেকে দুবাই ভ্রমণের ফুল প্যাকেজ দিয়ে থাকে।

- কাজী মাহদী