মঙ্গলবার,১৮ ডিসেম্বর ২০১৮
হোম / সম্পাদকীয় / ফিরে আসুক স্নিগ্ধ শরৎ
০৯/৩০/২০১৮

ফিরে আসুক স্নিগ্ধ শরৎ

-

ক্যালেন্ডারে শরৎ এসেছে। কিন্তু প্রকৃতিতে শরতের ছাপ নেই। আশ্বিনের অর্ধেক পার হয়ে গেলেও শরতের আবহমানরূপ যেন ঘষা কাচের মতো ফ্যাকাশে আকাশের আড়ালে আটকে আছে। বাংলাদেশের জলবায়ুর হাবভাব যে আগের মতো নেই, সেটা স্পষ্ট হচ্ছে ক্রমশ। মাত্রই কয়েকদিন আগে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) সতর্ক করেছে বাংলাদেশকে। তারা বলেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ব্যাহত হতে পারে বাংলাদেশের কৃষির অভাবিত সাফল্য। তিনদশকের মধ্যে কমে যেতে পারে বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ কৃষি উৎপাদন।

বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তন নতুন কোনো ঘটনা নয়। এটা প্রকৃতিরই একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। পৃথিবীতে অনেকবার বরফ যুগ এসেছে; আবার স্বাভাবিকও হয়ে উঠেছে এ-পৃথিবী। তবে সে-সব পরিবর্তন ছিল সম্পূর্ণই প্রাকৃতিক। কিন্তু এবারের পরিবর্তনের পেছনে আছে মানুষের বিশেষ ভূমিকা। বলা যায়, সারা বিশ্বের সকল মানুষের আধুনিক জীবনযাপনের বাইপ্রডাক্ট হিসেবেই দেখা দিয়েছে এখনকার জলবায়ুর পরিবর্তন। আমরা তো আর আধুনিক জীবন থেকে পালাতে পারব না; বলতেও পারব না-দাও ফিরে সে অরণ্য, লও এ নগর। কিন্তু আমরা যদি বেশি বেশি গাছ লাগাই, আমাদের চারদিকটাকে যদি আরো বেশি আরণ্যিক করে তুলতে পারি, তাহলে আমরা অল্প অল্প করে আটকাতে পারব বিশ্বের উষ্ণায়নকে। এ পৃথিবী সবার, একে সুন্দর রাখার দায়িত্বও সবার।

শরতের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাঙালি হিন্দুসম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। শারদীয় দুর্গাপূজার দুটো বিশেষ মাহাত্ম্য ভেবে দেখবার মতো। অশুভ শক্তি তথা অসুরকে বধ করতে সকল ঐশীশক্তি পুঞ্জিভূত হয়েছিল একনারীর মধ্যে। এটা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা যে, অশুভ শক্তির রোষানল থেকে এ জগৎ উদ্ধার পায় একজন নারী মাধ্যমেই। দ্বিতীয় মাহাত্ম্যটিও বেশ চমকপ্রদ। এখানেও রয়েছেন একজন নারী। অপহৃত, বিপন্ন একনারী। সেই নারীকে উদ্ধারের জন্য তার স্বামী অকালে (শরৎকালে) জাগিয়ে তোলেন দেবী দুর্গাকে। রাবণ দ্বারা অপহৃত সীতাকে উদ্ধারের জন্যই রাম এই শরৎকালে দেবী দুর্গার অকালবোধনের আয়োজন করেন। এভাবে পৌরাণিক বিভিন্ন ঘটনার ভেতর দিয়ে নারীশক্তিকেই জগতের ত্রাতা হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে।

সকল ধর্মই শান্তির কথা বলে, অশুভশক্তি বিনাশের কথা বলে। সবচেয়ে আধুনিক ধর্ম ইসলামকে অভিহিত করা হয় শান্তির অপর নাম হিসেবেই। সীমা লঙ্ঘন করা ও ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করার ব্যাপারেও স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা আছে ইসলাম ধর্মে। ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায়ের বৈচিত্র্য ও সম্প্রীতি একটি দেশের অগ্রযাত্রার সবচেয়ে বড় সম্পদ। সেই বৈচিত্র্য ও সম্প্রীতিকে গভীরভাবে সম্মান করে পাক্ষিক অনন্যা। সেই সম্মানের অর্ঘ্য হিসেবেই আমরা প্রকাশ করে আসছি শারদীয় সংখ্যা।

জয় হোক শুভ শক্তির, জয় হোক নারীত্বের। জলবায়ুকে জয় করে ফিরে আসুক স্নিগ্ধ শরৎ।

সবাইকে জানাই শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা।

- তাসমিমা হোসেন