মঙ্গলবার,১৬ অক্টোবর ২০১৮
হোম / বিবিধ / ব্ল্যাকমেইলের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ
০৯/১৯/২০১৮

ব্ল্যাকমেইলের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ

-

প্রশ্নঃ আমার সাথে একটি ছেলের দীর্ঘদিন সম্পর্ক ছিল। সে বিদেশে বসবাস করত। বেশিরভাগ সময় আমাদের ইন্টারনেট-এর মাধ্যমে একে অন্যের সাথে যোগাযোগ হতো। আমি তাঁকে অত্যন্ত ভালোবাসতাম এবং বিশ্বাস করতাম। আমি আমার বিভিন্ন ব্যক্তিগত ছবি বিভিন্ন সময় তাঁর সাথে শেয়ার করি। পরবর্তীসময় সে যখন দেশে আসে তখন তাঁর সাথে সরাসরি দেখা করি। কিন্তু আমাদের সম্পর্কে নানা জটিলতা দেখা দেয়। আমি তাঁর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করি এবং আমার পরিবারের পছন্দের একটি ছেলেকে বিয়ে করি। এখন আমার প্রাক্তন প্রেমিক আমাকে নানাভাবে ভয় দেখাচ্ছে। আমার ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেবার হুমকি দিচ্ছে। সে বিভিন্ন ফেক আইডি থেকে আমাকে নানারকম ভীতিকর মেসেজ পাঠাচ্ছে। ইতিমধ্যে সে আমার বেশ কিছু ছবি তাঁর বন্ধুদের সাথে শেয়ার করেছে। আমি এখন তাঁর বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নিতে পারি?

উত্তরঃ আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬-এর ৫৭ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইটে বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক মাধ্যমে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেউ পড়লে, দেখলে বা শুনলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হতে উদ্বুদ্ধ হতে পারেন অথবা যার কারণে মানহানি ঘটে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করতে পারে বা এ ধরনের তথ্য দিয়ে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উসকানি দেওয়া হয়, তাহলে এই কাজ হবে একটি অপরাধ। কোনো ব্যক্তি এ ধরনের অপরাধ করলে সর্বোচ্চ ১৪ বছর এবং সর্বনিম্ন ৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা অর্থদন্ডে দণ্ডিত হবেন।

২০০৬ সালে হওয়া এ আইনটি ২০০৯ ও ২০১৩ সালে দুই দফা সংশোধন করা হয়। ২০১৩ সালে সংশোধনী এর মাধ্যমে অপরাধগুলোকে আমলযোগ্য ও অজামিনযোগ্য করা হয়েছে। শাস্তির পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। ২০১৩ সালের অক্টোবর মাসে ঢাকায় চালু হয় একমাত্র বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তিনি আপনার ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেবার হুমকি দিচ্ছে এবং তাঁর মাধ্যমে আপনার মানহানি করার চেষ্টা চালাচ্ছে। আপনার অনুমতি ছাড়া সে বেশ কিছু ছবি শেয়ার করেছে। এক্ষেত্রে আপনি আপনার এলাকার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করতে পারেন। আপনি চাইলে তাঁর বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬-এর ৫৭ ধারায় মামলা দায়ের করতে পারেন।

রাজধানী ঢাকাকেন্দ্রিক সাইবার অপরাধ নিয়ে একটি টিম কাজ করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) বিভাগে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিশেষায়িত সাইবার ইউনিট সাইবারসংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগ গ্রহণ করেন। রাজধানী ঢাকার ৪৯টি থানায় সাইবার অপরাধসংক্রান্ত মামলা নেওয়া হচ্ছে।

যেহেতু তিনি আপনাকে নিয়ে লোকজনের কাছে আজেবাজে মন্তব্য করছে বা কুৎসা রটাচ্ছে। এতে আপনি মানহানির শিকার হচ্ছেন। সেক্ষেত্রে আপনি মানহানির অভিযোগ দন্ডবিধির ৪৯৯ ধারায় মানহানির মামলা করতে পারেন। ফৌজদারি আদালতে মানহানির মামলা করার ক্ষেত্রে অভিযোগ দায়ের করতে হয়। সে অভিযোগ শুনে আদালত অভিযোগ থাকা ব্যক্তির বিরুদ্ধে সমন জারি করতে পারেন। তবে মানহানির মামলায় সরাসরি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় না। সমন দেওয়ার পর যদি কোনো ব্যক্তি আদালতে হাজির না হন, সে ক্ষেত্রে বিচারক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করতে পারেন।

দন্ডবিধির ৫০০ ধারায় মানহানির শাস্তি বর্ণনায় বলা হয়েছে, এই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে দুই বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অর্থদন্ড বা উভয়বিধ দন্ড হতে পারে।

- সুপ্রিম কোর্ট-এর আইনজীবী ব্যারিস্টার মিতি সানজানা লন্ডন-এর লিংকন্স ইন থেকে আইন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি একজন করপোরেট ল’ইয়ার। তিনি লিগ্যাল কাউন্সেল নামক একটি করপোরেট ল চেম্বার-এর পার্টনার। তিনি একজন মানবাধিকারকর্মী। তিনি বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় নিয়মিত কলাম লেখেন। মানবাধিকার নিয়ে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সোচ্চার ভূমিকা রাখছেন সানজানা।