মঙ্গলবার,১৬ অক্টোবর ২০১৮
হোম / রূপসৌন্দর্য / ভ্যাপসা আবহাওয়ায় ত্বকের যত্ন
০৯/১৯/২০১৮

ভ্যাপসা আবহাওয়ায় ত্বকের যত্ন

-

সকাল বেলা চিটচিটে রোদ, আবার দিন না গড়াতেই আকাশজুড়ে কালোমেঘ আর হঠাৎ ঝুম বৃষ্টি। বর্ষার এই মৌসুমের এই এক সমস্যা, আবহাওয়ার কোনো ঠিকঠিকানা নেই। আর তাই আবহাওয়ার সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে ত্বকেরও নানান সমস্যা দেখা দেয়।

বর্ষায় বৃষ্টির সঙ্গে থাকে ভ্যাপসা গরম আর ভেজা বাতাস। আর এই থেকে হয় অতিরিক্ত ঘাম আর সেখান থেকে ব্রণসহ ত্বকের নানান সমস্যা। তাই এই মৌসুমে নিজের জন্য বাড়তি যত্ন নেওয়া জরুরি।

তীব্র গরমের পর বৃষ্টি কিছুটা স্বস্তি দিলেও বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ার কারণে নানান ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।

- বাতাসের আর্দ্রতার কারণে চুল খুব দ্রুত নিষ্প্রাণ হয়ে যায়। মাথার তালু তেলতেলে ও চিপচিপে হয়ে যায় আর এতে চুলের রুক্ষতাও বাড়ে।

- আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে ঘামও বেশি হয়। সাধারণ গরমে ঘাম হলেও তা বাতাসে সহজেই শুকিয়ে যায়। কিন্তু এই সময় বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা বেশি থাকায় ঘাম ত্বকে এঁটে থাকে ফলে নানান ধরনের ত্বকের সমস্যা দেখা দেয়।

- অন্যদিকে ঘাম গরমে শরীরকে ঠান্ডা রাখতেও সাহায্য করে কিন্তু এই মৌসুমে আবহাওয়ার কারণে ঘাম শরীরে লেগে থাকে এবং এতে করে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। তাই অস্বস্তিও বেশি লাগে।

- আর্দ্রতার কারণে একেকজনের ত্বকে একেক ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। তাই ত্বকের সমস্যা বুঝে যত্ন নিতে হয়।

- এই আবহাওয়ায় বাতাসের আর্দ্রতার কারণে ত্বকের লোমকূপ প্রসারিত হয়ে যায়। আর এতে করে ত্বকে তেলও বেশি নিঃসৃত হয়। আর বাতাসের কারণে ত্বক আরও বেশি চিপচিপে হয়ে যায়। এ কারণে ব্রণ, হোয়াইটহেডস এবং ব্ল্যাক হেডসের সমস্যা বেশি দেখা দেয়।

উপরের এই সমস্যাগুলোতে ভুগতে হয় কমবেশি সবারই। তাই ত্বকের বাড়তি যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। অন্যান্য সময়ের তুলনায় ত্বকের যত্নের ক্ষেত্রে বেশি যত্নশীল হতে হয়। কিছু সাধারণ ধাপ অনুসরণ করলে ত্বকের সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব।

১। মুখ ধোয়াঃ
ত্বকের যত্নের প্রথম ধাপ, মুখ ভালোভাবে ধোয়া। ব্রণ বা লোমকূপ বন্ধ হওয়ার সমস্যা থেকে রেহাই পেতে ভালোভাবে মুখ পরিষ্কার করা জরুরি। দিনে তিনবার মুখ ধোয়া উচিত। মুখ ধোয়ার জন্য অবশ্যই অ্যালকোহল ফ্রি প্রোডাক্ট ব্যবহার করা উচিত। ত্বকোপযোগী ফেইসওয়াশ দিয়ে মুখ ভালোভাবে ম্যাসাজ করে হালকা কুসুম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলা উচিত। এমন উপাদান সমৃদ্ধ ফেইসওয়াশ বেছে নিন, যা ত্বকে জমে থাকা জীবাণু দূর করবে। ফেইসওয়াশ বেছে নেওয়ার সময় খেয়াল রাখুন যেন এতে হাইড্রোক্সিল অ্যাসিড, সিলিসাইলিক অ্যাসিড এবং বেনজয়েল পারঅক্সাইড উপাদানগুলো থাকে। তবে মুখ ধোয়ার ক্ষেত্রেও খেয়াল রাখা জরুরি তা যেন ত্বককে শুষ্ক করে না ফেলে।

২। এক্সফলিয়েশনঃ
ত্বকের মৃতকোষ এবং জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করতে এক্সফলিয়েশন অত্যন্ত জরুরি। দুই কি তিন দিন পরপর স্ক্রাবার ব্যবহার করে ত্বক পরিষ্কার করা জরুরি। বিশেষভাবে ত্বকের টি-জোন এক্সফলিয়েট করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে স্ক্রাবার বেছে নেওয়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে তা যেন ত্বকের জন্য কোমল হয়।

৩। ফেইসমাস্কঃ
এই মৌসুমে ত্বক পরিষ্কার রাখতে এবং পুষ্টি জুগিয়ে সুস্থ করে তুলতে মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। এই সময়ের জন্য ক্লে মাস্ক বেশি মানানসই। মুলতানি মাটি, চন্দন ইত্যাদি সমৃদ্ধ উপটান বেশ কার্যকর।

৪। টোনারঃ
ফেইস মাস্ক ধুয়ে ফেলার পর টোনার ব্যবহার করতে হবে। টোনার ত্বকে জমে থাকা ময়লা এবং মাস্কের অবশিষ্ট কণা পর্যন্ত পরিষ্কার করে ফেলে। এতে ত্বক গভীর থেকে পরিষ্কার হয়।

৫। ময়েশ্চারাইজারঃ
ত্বক কয়েক ধাপে পরিষ্কার করার ফলে ময়েশ্চার কমে আসে এবং ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। আর তাই ত্বকের কোমলতা ধরে রাখতে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা জরুরি। তবে এই আবহাওয়ায় ভারি ময়েশ্চারাইজার বাদ দিয়ে হালকা বা জেল ফর্মূলার ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত।

আর কিছু টিপসঃ
* যাদের ত্বক সংবেদনশীল তাদের উচিত বাজারজাত ওয়েট টিস্যু এড়িয়ে চলা। বেশিরভাগ ওয়েট ওয়াইপসে অ্যালকোহল ও কেমিকল উপাদান থাকে যা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর।

* সময় ও সুযোগ হলেই ত্বকে ঠান্ডা ও পরিষ্কার পানির ঝাপটা দিন। এতে ত্বকে ঘাম জমে সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি কমে আসবে।

* ঘাম ও তেলতেলেভাব থেকে বাঁচতে পাউডার ব্যবহার করা যেতে পারে।

* দিনের সব থেকে উষ্ণ সময়টুকু ঘর থেকে বের হওয়া এড়িয়ে চলুন।

- ইরা