মঙ্গলবার,১৬ অক্টোবর ২০১৮
হোম / জীবনযাপন / দ্বিতীয় বিবাহে সুখের দাম্পত্য
০৯/১৯/২০১৮

দ্বিতীয় বিবাহে সুখের দাম্পত্য

-

ডিভোর্স মানেই সব কিছু শেষ না। হয়ত সবকিছু নতুন করে শুরুর বার্তা। যেকোনো পুরুষ বা নারী উভয়ই আগের ভুল-ভ্রান্তিগুলো এড়িয়ে একটা টেকসই সম্পর্ক গড়তে আরেকবার সুযোগ পেতেই পারে। আজকাল যেহেতু ডিভোর্সের সংখ্যা অনেক বেড়েছে, তাই স্বভাবতই ডিভোর্সের পর দ্বিতীয় বিয়ের ব্যাপারটা চলে আসে। প্রথম স্বামী বা স্ত্রীর মৃত্যুর পর যে দ্বিতীয় বিয়ে, সেটার ব্যাপার সম্পূর্ণ আলাদা। কিন্তু বিবাহ বিচ্ছেদের পর নতুন করে আবার বিয়ে করার বিষয়টি কিন্তু একেবারেই অন্যরকম। আমাদের চারপাশে তাকালেই দেখতে পারি, নানা কারণেই পরিচিতজনদের বিবাহ বিচ্ছেদ হচ্ছে। বিচ্ছেদের পর নতুন করে কীভাবে শুরু করা যেতে পারে তা নিয়ে এবারের আয়োজন।

নতুন করে শুরু করা
হয়ত আপনার প্রথম দাম্পত্যে অনেক তিক্ত অভিজ্ঞতা আছে। তবে সেটাকে আবেগের পুঁজি না করে জীবনের শিক্ষা হিসেবেই গ্রহণ করুন। যা কিছু পুরনো তা মুছে ফেলা সহজ কাজ না। তবে দ্বিতীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে সুবিচার করতে সবকিছু শুরু করুন নতুন পাতায়।

নিজেকেও সারিয়ে তুলুন
ডিভোর্সের অন্যতম কারণ হয়ে থাকে সঙ্গীর নিপীড়ন-নির্যাতন। ফলে অনেকেই বিচ্ছেদের পরও সেই ট্রমা থেকে বের হতে পারেন না। তাই দ্বিতীয় সম্পর্কে জড়িয়ে পড়লেও দেখা যায় পুরনো বিভীষিকা তাড়া করে ফেরে। এথেকে বের হয়ে আসতে আপনাকে বোঝে এমন কোনো অভিজ্ঞ বন্ধুর সাহায্য নিতে পারেন বা কাউন্সেলিং করাতে পারেন।

মন খুলে বলুন
দ্বিতীয় বিয়ের সূত্রপাত হয় অনেক সময় পারিবারিক ও সামাজিক চাপে। ফলে আপনি মানসিককভাবে প্রস্তুত না থাকলেও রাজি হতে হয়। পরিবার হয়ত আপনাকে সুখী দেখতেই তা করতে চায়। কিন্তু আপনার ভেতরে হয়ত একটা ভয় কাজ করে- দ্বিতীয়টার পরিণতিও যদি প্রথমটার মতো হয়? তাই শুরুতেই দুজনার মধ্যে আবেগ-অনুভূতির সম্পর্ক শুরু করা দরকার। মানসিক অন্তরঙ্গতা তৈরি হলে আপনি ভরসা ফিরে পাবেন, মন খুলে বলতে পারেবেন নিজেদের অগ্রাধিকারগুলো। অভিজ্ঞরা বলেন, একে অন্যের প্রতি মানসিক দুর্বলতা আস্থা ও নৈকট্য বাড়ায়।

সকলকে খুশি করা সম্ভব না
এই এক জীবনে সকলকে খুশি করতে পারবেন না। সেটা নিজের বাবার বাড়ি হোক, আত্মীয়মহল হোক, কিংবা নতুন শ্বশুরবাড়ি- একেবারে সবাই যে আপনাকে নিয়ে ১০০ ভাগ খুশি হবে বিষয়টা মোটেও তেমন নয়। আর তাই সেই চেষ্টাও করবেন না কিংবা বিষয়টি নিয়ে মন খারাপ করবেন না।

সমান অংশীদারিত্ব
দ্বিতীয় বিয়ের দায়ভার শুধু আপনাকেই বহন করতে হবে এমনটা না ভেবে বরং দুজন মিলেই তা বহন করুন। মনে রাখা দরকার- সম্পর্কের ক্ষেত্রে বোঝাপড়াটা খুব জরুরি। তবে প্রতিশ্রুতি ধরে রাখতে গিয়ে সঙ্গীর সব ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষাই আপনাকে পূরণ করতে হবে এমনটা যেন না হয়। তাতে করে দাম্পত্য জীবন ভারসাম্য হারাবে।

ভবিষ্যৎ দেখুন
নতুন সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন লক্ষ্য ঠিক করাও জরুরি। বিবাহিত জীবন নিয়ে সবারই মধুর স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা থাকে। তবে নানা কারণেই প্রথম সম্পর্কটা হয়ত এলোমেলো হয়ে যায়। তাই দ্বিতীয় সম্পর্কের শুরুতেই আপনার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য কি তা ঠিক করে নিন। নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন কেন আপনি নতুন করে শুরু করতে চান। সুখী দাম্পত্যের জন্য দুজনে মিলে নিজেদের ভবিষ্যৎ আঁকুন একসাথে।

- রিয়াদুন্নবী শেখ

ছবিঃ শুহরাত শাকিল চৌধুরী