বৃহস্পতিবার,১৫ নভেম্বর ২০১৮
হোম / জীবনযাপন / বিবাহ বিচ্ছেদের পর
০৯/০৬/২০১৮

বিবাহ বিচ্ছেদের পর

-

একটা সময় ছিল যখন নারীরা একটা অচল সম্পর্ককেও বয়ে বেড়াত। কারণ সমাজের প্রথাটাই এরকম ছিল যে যত দুঃখ কষ্টই হোক সংসার করে যেতে হবে। কিন্তু এখন চিত্র অনেকটাই পাল্টেছে। দাম্পত্য সম্পর্কের টানাপড়েনে বারবার বোঝাপড়ার চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে গেলে শেষ উপায় হিসেবে ডিভোর্স বা বিচ্ছেদেই সম্পর্কের ইতি টানে।

অনেক ক্ষেত্রে ডিভোর্স হয়তো নারীকে মুক্তি দিচ্ছে, আবার অনেক ক্ষেত্রে সমস্যায়ও ফেলছে। যে দিক থেকে ভাবুন না কেন ডিভোর্সের অভিজ্ঞতা তিক্ত, জীবনভর বয়ে বেড়ানো এক অপ্রীতিকর ঘটনা। বিচ্ছেদের পর তাই নতুন করে জীবন শুরু করতে নারীকে নিতে হবে সাবধানী পদক্ষেপ।

বিষাদ সামলান প্রথমে
বিচ্ছেদ কেউই চায় না। তাই মানুষটা একেবারে খারাপ হলেও সম্পর্ক ভাঙার ফলে উদ্ভূত অবস্থা মনকে ভারাক্রান্ত করবে এটাই স্বাভাবিক। আর ভগ্নহৃদয় স্বাস্থ্যের জন্যও সমান ক্ষতিকর। দিনশেষে নিজেকে নিয়েই বাঁচতে হয়- তাই খেয়াল রাখুন নিজের প্রতি।

স্বামীর পক্ষ থেকে ডিভোর্সে স্ত্রী বিহ্বল হয়ে পড়েন, আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন। ভাবেন তার হয়ত কোথাও সীমাবদ্ধতা ছিল, তিনি হয়ত তার স্বামীর কাছে প্রত্যাশিত কেউ হয়ে উঠতে পারেননি। যার ফলে সে অন্য কোনো নারীর আশ্রয় নিচ্ছে।

এরকম ক্ষেত্রে নারীর জানা উচিত সে কোনোভাবেই অপ্রত্যাশিত কেউ না বরং তার সঙ্গী তার সাথে বিবাহ মুহূর্তের ওয়াদা ভঙ্গ করেছে। তাই বিচ্ছেদ অনিবার্য হলে পরবর্তীতে তাদের নতুন জীবনে নজর না রাখাই ভালো।

তবে স্ত্রী নিজে যদি দীর্ঘদিনের অসন্তুষ্টিতে ডিভোর্সের অনুঘটক হন তাহলে বরং ডিভোর্স তার জন্য নতুন করে স্বাধীনতা ও স্বস্তির জায়গা তৈরি করে। সেক্ষেত্রে হতাশা ততটা কাজ করে না।

বিচ্ছেদ সামাল দেয়ার ভালো উপায় হচ্ছে এটাকে জীবনের একটা স্বভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে মেনে নেয়া। ট্রমা কাটাতে না পারলে কাউন্সিলিংয়ে যেতে পারেন বা ধর্মীয় চর্চা, মেডিটেশন করে দেখতে পারেন। বন্ধু ও পরিবারের সাহায্য নেওয়াটা এসময় খুব দরকার।

এক্স হাজব্যান্ডকে সামলানো
যদি আপনার সাবেক সঙ্গী বিচ্ছেদ প্রক্রিয়াটি পরিপক্কতার সাথে নিয়ে নতুন পরিস্থিতিতে খাপ খাইয়ে এগিয়ে যায় তো ঠিক আছে। তবে প্রায় ক্ষেত্রেই তা হয় না। স্ত্রী রোজগার করলে বা স্বামীর চেয়ে বেশি ইনকাম করলে স্বামী হয়ত মেনে নিতে পারে না। বা স্বামী তার আর্থিক লোভ চরিতার্থে স্ত্রীর টাকাপয়সার প্রতি নজর দিচ্ছে কিংবা নির্যাতন করছে এমন ঘটনা আমরা প্রায় শুনি।

এমন ঘটনায় স্বামী ডিভোর্সে সন্তুষ্ট হোন না। সাবেক স্ত্রীকে নানাভাবে যন্ত্রণা দেন, বিরক্ত করেন বা পুনরায় বিয়ে করতে চাপ দেন। ফোনে, অফিসে বা পরিচিতদের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করেন। সেক্ষেত্রে পুলিশের আশ্রয় নিতে পারেন। এছাড়াও নারী অধিকারবিষয়ক এনজিও কর্মী বা আইনজীবীর সাহায্য নিন।

আইনজীবী সাথে পরামর্শ করুন
সন্তান বা সম্পত্তির বিষয়গুলো জড়িত থাকলে জটিলতা অনেক সময় আইন-আদালত পর্যন্ত গড়ায়। ডিভোর্সের আইনি ব্যাপারগুলোতে সাহায্যের জন্য অনেক সময় আইনজীবীর সহায়তা দরকার পড়ে। তাই বৈবাহিক ঝামেলার বিষয়গুলোতে অভিজ্ঞ এমন এডভোকেটের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। নারীঅধিকার নিয়ে কাজ করে এমন এনজিওগুলো এক্ষেত্রে আপনাকে সহজে ও কম খরচে আইনজীবী পেতে সাহায্য করবে।

কটূক্তি মোকাবেলা করুন দৃঢ়তার সাথে
আমাদের দেশে ব্যক্তিগত এবং সামাজিক বিষয় দুটোর সীমারেখা অস্পষ্ট। না বুঝেই বা বুঝেও অনেকে অন্যের একান্ত ব্যাপারে মতামত দিতে পছন্দ করে, হস্তক্ষেপ করতে চায়। এসব সামলানোর জন্য আগে নিজেকে শক্ত হতে হবে। কারণ আপনি জানেন কোন পরিস্থিতিতে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। পুরুষ ছাড়া যে নারী ক্ষমতাহীন না তা কিন্তু আপনাকেই প্রমাণ করতে হবে।

নিজের একটা জগৎ গড়ে তুলুন
বৈবাহিক জীবন আর বিচ্ছেদ পরবর্তী জীবন সম্পূর্ণ আলাদা। বিচ্ছেদ হয়ে গেলে স্বাধীন সময়টাকে নিজের মতো করে কাজে লাগান। নিজের ইচ্ছা, চাহিদা ও রুচি অনুযায়ী একান্ত নিজের একটা জগৎ গড়ে তুলুন যেখানে আপনি নিজেকে সময় দিতে পারবেন। তা হতে পারে দমিয়ে রাখা পড়াশুনা বা ক্যারিয়ার গড়ার ইচ্ছাটা আবার জাগ্রত করা।

সন্তান প্রতিপালন
বৈবাহিক জীবনেও অনেক নারী সন্তান প্রতিপালনে বাবা ও মা উভয়ের ভূমিকা পালন করে থাকেন। তবে বিবাহ বিচ্ছেদে সন্তানের একক অভিভাবক হয়ে ওঠা কিছুটা কঠিনই বটে। যদি বাবা সন্তানের ভরণপোষণ দেয় (আইনত দেয়া কর্তব্য) তাহলে ব্যাপারটা সহজ হয়ে যায়। অনেক সময় নারীর পরিবারও সন্তানের খরচ বহন করতে পারে না। তাই বিচ্ছেদের সময় দুই পক্ষেরই বিষয়গুলো পরিষ্কার করে নিতে হবে, যেন পরে জটিলতা তৈরি না হয়।

শারিদ
ছবিঃ ওয়াহিদ মাহমুদ