রবিবার,২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮
হোম / স্বাস্থ্য-ফিটনেস / মেটাস্ট্যাটিক ক্যান্সার - এক বিভীষিকার নাম
০৮/২৬/২০১৮

মেটাস্ট্যাটিক ক্যান্সার - এক বিভীষিকার নাম

-

বলিউডের এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সোনালি বেন্দ্রে ক্যান্সারে আক্রান্ত এই খবর এখন কমবেশি সবার জানা। নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে দুরারোগ্য মেটাস্ট্যাটিক ক্যান্সারে ভুগছেন এই অভিনেত্রী। মানব শরীরের জন্য ক্যান্সার বরারবরই এক বিভীষিকার নাম। আর ক্যান্সার যদি হয় মেটাস্ট্যাটিক তবে তো কথাই নেয়, অধিকাংশ সময়েই এই জটিল রোগ থেকে মুক্তির উপায় নেই।

মেটাস্ট্যাটিক ক্যান্সার বৃত্তান্ত
মেটাস্ট্যাটিক ক্যান্সারকে সহজ ভাষায় অ্যাডভান্সড লেভেলের ক্যান্সার বলা যায়। তাই এই ক্যান্সারের নাম শুনলেই বুঝতে হবে শরীরে বাসা বাঁধা রোগটা ইতিমধ্যে প্রাথমিক পর্যায় শেষ করে সর্বোচ্চ তীব্রতা ধারণ করেছে। মেডিকেল টার্ম অনুযায়ী এই ক্যান্সার অধিকাংশ সময়ে শরীরের একস্থান থেকে অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণত শরীরের রক্ত এবং লসিকার মাধ্যমেই তা ঘটে। এই যেমন- কারো লাংস ক্যান্সার যদি স্তনে ছড়ায় তবে বুঝতে হবে ক্যান্সার ইতিমধ্যে মেটাস্ট্যাটিক স্তরে চলে এসেছে। চিকিৎসক এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা তাই মেটাস্ট্যাটিক ক্যান্সারকে স্টেজ-৪ লেভেলের হিসেবে আখ্যায়িত করেন। টাইপ যেমনই হোক না কেন, যে-কোনো ক্যান্সারই চতুর্থ পর্যায়ে এসে মেটাস্ট্যাটিক আকারে পরিণত হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই ধরনের ক্যান্সার নিরাময় সম্ভব নয়। তাছাড়া এই ধরনের ক্যান্সার উৎপত্তিস্থল থেকে শরীরের অন্যত্র ছড়ায় বলে ক্যান্সারের প্রাথমিক সূত্র খুঁজে পেতে ডাক্তারদের বেশ বেগ পেতে হয়। তবে একমাত্র আশার কথা হলো যে যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে এই ক্যান্সার ছড়ানোর গতি মন্থর করে দেওয়া যায় এবং এই ক্যান্সার নিয়েই রোগীর লম্বা সময় বেঁচে থাকার সম্ভাবনা থাকে।

মেটাস্ট্যাটিক ক্যান্সারের লক্ষণ
মেটাস্ট্যাটিক ক্যান্সারে সব সময় স্পষ্ট লক্ষণ প্রকাশ পাবে এমন ভাবাটা ভুল। তবে মোটাদাগে বলতে গেলে নিম্নোক্ত উপসর্গগুলো দেখা দিতে পারে।

* মাথাব্যথা ও মাথাঘোরা বা চক্কর দেয়া;
* নানারকমের প্রদাহ;
* দৃষ্টি সমস্যা;
* বহুদিনের ব্যথা বা ফ্র্যাকচার;
* জন্ডিস অথবা তলপেটে প্রদাহ;
* শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা;
* চলাফেরায় সমস্যা;
* মানসিকভাবে দ্বিধায় থাকা।

উপরে বর্ণিত লক্ষণগুলো অন্য কোনো রোগের লক্ষণ হিসেবেও দেখা দিতে পারে। তাই শরীরে মেটাস্ট্যাটিক ক্যান্সারের পূর্বাভাস জানার জন্য আরও কিছু উপসর্গের উপস্থিতি নির্ধারণ করতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে উপরোক্ত লক্ষণগুলো ছাড়াও এই ধরনের ক্যান্সার নির্দেশক সাতটি চিহ্ন রয়েছে। এই চিহ্ন বা উপসর্গগুলো হলোঃ

> হুট করে ওজন কমে যাওয়া;
> দীর্ঘদিন ধরে কফজনিত সমস্যা;
> স্বাভাবিক মলত্যাগে যেকোনো ধরনের পরিবর্তন;
> মুখ, মূত্র কিংবা পায়ুপথ দিয়ে রক্তঝরা;
> খাদ্য গলাধঃকরণে সমস্যা;
> জখম উপশম না হওয়া বা অনেক সময় লাগা;
> কোনো ধরনের প্রদাহ এবং তা নিয়মিত বেড়ে চলা।

প্রতিকার
এই ভয়াবহ রোগ থেকে প্রতিকারের পথ বেশ দুর্গম। আগেই বলা হয়েছে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ ধরনের ক্যান্সার একেবারে নিরাময় সম্ভব নয়। তবে ক্যান্সার ছড়ানোর গতি একেবারে মন্থর করে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দীর্ঘদিন বাঁচিয়ে রাখার জন্য নিয়মমাফিক উপায়ে মেটাস্ট্যাটিক ক্যান্সারের চিকিৎসা করানো হয়। আর এই প্রক্রিয়া কতটুকু সফল হবে তা প্রাইমারি ক্যান্সারের উৎপত্তি স্থল, ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা এবং আক্রান্ত ব্যক্তির বয়সের উপর নির্ভর করে। প্রাথমিকভাবে বেশ কিছুদিন মেডিকেশনের পর আক্রান্ত ব্যক্তির সুস্থতার জন্য স্বাভাবিকভাবেই কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি, হরমোন থেরাপি এমনকি সার্জারির ব্যবস্থা করতে হয়।

সত্যিকার অর্থেই মেটাস্ট্যাটিক ক্যান্সার এক বিভীষিকা ছাড়া কিছু নয়। অভিনেত্রী সোনালি বেন্দ্রেসহ আক্রান্ত সকলেই এই জটিল ও ভয়াবহ রোগ থেকে মুক্তি পাক, এটাই কাম্য।

- রাফসান