বৃহস্পতিবার,২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮
হোম / স্বাস্থ্য-ফিটনেস / ঈদে পরিমিত ভোজন করুন এবং সুস্থ থাকুন
০৮/১৯/২০১৮

ঈদে পরিমিত ভোজন করুন এবং সুস্থ থাকুন

-

সারাবছর যেমনই হোক, ঈদে চলবে ভারি খাবার এমনটাই কাজ করে সবার মনে। আর কোরবানি ঈদে খাওয়াদাওয়া যেন অন্য মাত্রায় চলে যায়, হরেকরকমের মাংসের আইটেমের পাশাপাশি মুখরোচক সবকিছুই থাকতে হবে প্রতিটি বাসার মেন্যুতে। কিন্তু এতসব খাবারের ফাঁকে স্বাস্থ্যকর খাবার কি হয়ে উঠে?

তেল, মশলাযুক্ত নানারকমের ফ্যাটি খাবার আর মিষ্টান্নে গেলার পর পেটের অবস্থাও অসহনীয় হয়ে পড়ে অনেকেরই। ঈদে তাই লাগামহীন না খেয়ে সচেতনভাবে খাওয়া উচিত।

দিনের শুরুটা করুন স্বাস্থ্যকর নাশতা দিয়ে
দিনের শুরুটা ভালো হলে পুরো দিনটি ভালো যাবে- পুরনো এই প্রবাদটি কিন্তু ঈদের ডায়েটিংয়ের ক্ষেত্রেও খাটে। সকালের নাশতটা স্বাস্থ্যসম্মত হওয়া চাই, তাতে করে সারাদিনের আহারের সমতা বজায় থাকবে। সকালের শুরুটা করুন ২-৩ গ্লাস কুসুম গরম পানি খেয়ে। নাশতার মেন্যুতে প্রচুর পরিমাণে মৌসুমি ফল রাখবেন, সাথে ডিম রাখুন। সবুজ সালাদও খেতে পারেন। একগ্লাস মিশ্রিত ফলের জুসও বেশ পুষ্টিদায়ক।

খেয়াল রাখুন ঈদের মিষ্টান্নতে
সেমাই, ফিন্নি, পায়েস আর ক্ষীর- সবই লোভনীয় সব মিষ্টি জাতীয় খাবার। এর সাথে নানারকম মিষ্টি আর ডেজার্টও চলে সমানতালে। সকালে উঠে মিষ্টিমুখ করে নামাজে যাওয়া, পরিবার, বন্ধুবান্ধব মিলে খাবারের পরে নানারকম ডেজার্ট খাওয়া যেন ঈদের একটা ঐতিহ্য। তবে এতে শরীরের উপরে ধকলটাও কিন্তু এড়ানো যায় না। হাইসুগার আর ফ্যাটের এসব খাবার বেশ গুরুপাচ্য। তাই এসব খাবার হজমের ঝামেলাসহ অন্যান্য ঝামেলাও ডেকে আনে। তাই খেতে হবে পরিমিত আর বুঝেশুনে।

রান্নাকরা মাংস নাকি গ্রিলড?
অবশ্যই গ্রিলড করা মাংস খাবেন। আমাদের দেশে কোরবানির ঈদে নানারকম মাংসের আইটেম রান্না করা হয়, যেগুলোতে পুষ্টি আর ক্যালরির কথা চিন্তা না করে স্বাদের দিকেই বেশি মনযোগ দেয়া হয়। তাই অতিরিক্ত তেল, মসলায় ভালোভাবে কষিয়ে রান্না করা হয় যার ফলে বেশিরভাগ পুষ্টিগুণ কমে যায়। কিন্তু হালকা তেল আর মশলায় মাংস গ্রিল করে নিলে আপনি প্রায় পুরোটা ক্যালরি-ই পাচ্ছেন আর তা পাকস্থলীর জন্যও ভালো।

সাথে রাখুন হেলদি সালাদ বোল
প্রতিবেলা খাবারের সাথে প্রচুর পরিমাণে সালাদ খান, এতে প্রয়োজনীয় পুষ্টিও পাবেন আর হজম প্রক্রিয়াও ভালো হবে। ফ্রেশ এক বোল সালাদ আপনাকে ঈদের সময়গুলোতে হেলদি রাখবে। খাবারের সময় ছাড়াও সালাদ খেতে পারেন বসে বসে। সালাদ বানাতে ফ্রেশ শসা, টমেটো, গাজর, লেটুস পাতা ব্যবহার করুন।

খাবার তালিকায় চাই শাকসবজি
ঈদের সময়ে প্রতিবেলার খাবারেই থাকে মাংস, বিরিয়ানির মতো ভারি খাবার। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা শিখুন, ভারি খাবার কমিয়ে খান। এর বদলে বেশি করে শাকসবজি খান। কম মশলা আর আঁচে রান্না করা সবজি খাবেন। মাংস জাতীয় খাবার বেশি খাওয়া হলেও শাকসবজি খেয়ে নিবেন পাশাপাশি।

অতিরিক্ত পানির পানের বিকল্প নেই
সুস্থ শরীরের জন্য পানির বিকল্প নেই। আর ঈদের সময় এই বাক্যটিকে আরো একটু বেশি গুরুত্ব দিন। সাধারণ দিনের চেয়ে একটু বেশিই পানি পান করুন। শুধু পানি নয় বরং নানারকম ফলের জুসও পান করতে পারেন সাথে।

সচেতনতার আরও কিছু দিক
কুরবানির ঈদের সাথে যেন ভালো আর ভারি খাবারের সম্পর্কটা গভীর। এই সময়ের উৎসবের আবহটাকে কেউই মিস করতে চান না। তাই খাবারদাবারের লোভটাও সংবরণে নিয়ন্ত্রণ রাখি না আমরা। কিন্তু খেয়াল রাখা জরুরি যাতে এই আনন্দের ফাঁকে স্বাস্থ্যের ক্ষতি না হয়ে যায়। তাই মেনে চলুন আরও কিছু বিষয়-

* যতটা পারবেন ফ্রেশ সবজি আর ফলমূল খাবেন। ফলের জুস পান করুন।
* ডিহাইড্রেশনের ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন। অতিরিক্ত ফ্যাট আর তেলযুক্ত খাবার যেন পানিশূন্যতা তৈরি করতে না পারে। গ্লুকোজ আর স্যালাইন গুলিয়ে খেতে পারেন।
* একেবারে পেট পুরে বেশি না খেয়ে বরং অল্প অল্প করে বার বার খান।
* প্যাকেটজাতীয় খাবার যেমন চিপস, চানাচুর, বিস্কুট, ওয়েফার, আইসক্রিম ইত্যাদি এসময় এড়িয়ে চলাই ভালো।
* যতটা পারবেন হজমে সহায়ক খাবার খাবেন।

- তানভীর জাহান