বুধবার,২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮
হোম / জীবনযাপন / কোরবানির টুকিটাকি ও পরিচ্ছনতা
০৮/১৯/২০১৮

কোরবানির টুকিটাকি ও পরিচ্ছনতা

-

এবারের কোরবানি ঈদ রোদ-বৃষ্টির মৌসুমে হতে চলেছে। পশুর পরিচর্যা থেকে শুরু করে বাসা বাড়ির পরিষ্কার পরিচ্ছনতা নিশ্চিত করতে বছরের এই সময় খেয়াল রাখতে হয় অনেক কিছু। ঈদের আনন্দের পাশাপাশি টুকিটাকি কাজ যা করা দরকার, বলে দিচ্ছি আজ।

গবাদি পশু কিনার আগে যা খেয়াল করবেন
খোঁড়া রোগ কিংবা টিউমরে আক্রান্ত গরু কিনা থেকে বিরত থাকুন। গরুর দেহে বিশেষ করে এবং পশ্চাৎদেশে কোনো মাংসের কুণ্ডলী কিংবা টিউমর সদৃশ ‘লাম্প’ থাকলে তা কিনবেন না। যেসব গরুর দেহের আঁকার ছোট তবে পেশির পরিমাণ অতিরিক্ত, সেই সব গরুর গায়ে সাধারণত স্টেরয়েড ইঞ্জেক্ট করা হয়ে থাকে। স্বাস্থ্যের ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে এসব গরু না কিনা উত্তম।

পশুর পরিচর্যা
গৃহপালিত পশু অনেক সময় পানি কিংবা ঘাস খেতে চায় না। সে ক্ষেত্রে গরম ভাতের মাড়ের সাথে লবণ এবং ভুসি মিশিয়ে দিলে কাজ হবে। গরুর খাওয়ার অভ্যাস মালিক থেকে জেনে নিলে আরও ভালো। বাড়ির গ্যারেজে বা বাইরে গরু বেঁধে রাখতে হলে স্যাঁতসেঁতে জায়গায় রাখবেন না। এমন স্থানে রাখতে হলে পশুর নিচে পর্যাপ্ত খড় রাখবেন। দুই দিনের বেশি সময় পশুর পরিচর্যা করতে হলে অবশ্যই পরিষ্কার-পরিচ্ছনতা নিশ্চিত করতে হবে, নাহলে পশু অসুস্থ হয়ে যেতে পারে। গোবর সরিয়ে নিতে কোদাল ব্যবহার করতে পারেন।

কোরবানির প্রস্তুতি
ইসলামি নির্দেশনা মতে পশুর কোরবানি করতে হয় ধারালো ছুরি দিয়ে যেন পশুর বেশিক্ষণ কষ্ট সহ্য করতে না হয়। কোরবানির আগেই ছুরি এবং অন্যান্য যন্ত্র ঝালিয়ে নিবেন। তাছাড়া, মাংস কুপানোর জন্য শুকনো গাছের তক্তা সংগ্রহ করে রাখুন। বাজারে মাংস রাখার চাঁটাই পাওয়া যায় ঠিকই, তবে তার মধ্যে পাথর এবং বালুর কণা থাকে প্রচুর। চাঁটাই কিনে সেটি ভালো মতো ধুয়ে শুকিয়ে নিবেন।

কোরবানির পরিচ্ছনতা
পশু জবাই করার সময় পাইপ দিয়ে পানি সরবরাহ করার ব্যবস্থা করুন। রক্ত জমে যাওয়ার আগে পানি দিয়ে সরিয়ে ফেললে তা থেকে দুর্গন্ধ হবে না। নাড়িভুঁড়ি পরিষ্কার করার জন্যও পানি দিয়ে তা ড্রেইনের দিকে সরিয়ে দিন। ঢাকা শহরে সিটি করপরেশানের পক্ষ থেকে ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ করা হয়ে থাকে। পশু কোরবানির পর নিজ দায়িত্বে ব্লিচিং পাউডার ও স্যাভলন ছিটিয়ে দিন, তাহলে রোগ জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে না। বর্জ্য যেখানে সেখানে ফেলা ঠিক নয়, এতে করে ড্রেইন বন্ধ হয়ে যায় এবং বৃষ্টির সময় তা ভয়াবহরূপ ধারণ করবে। নির্দিষ্ট স্থানে কিংবা পলিথিনে করে ময়লা আবর্জনা অপসারণের ব্যবস্থা করুন।

মাংস সংরক্ষণ
কোরবানির সময় হুট করে অনেক মাংস এসে পড়ে বাসায়। তা সংরক্ষণের জন্য আগে থেকেই ফ্রিজে জায়গা করে রাখতে হবে। নিজের সুবিধার জন্য মাংস বড় পলিথিনের প্যাকেটে আলাদা করে সংরক্ষণ করতে পারেন, এতে করে পরবর্তীতে ফ্রিজ থেকে অল্প পরিমাণে বের করে নিতে পারবেন। ফ্রিজে মাংস রাখার ১২ ঘণ্টা পর প্যাকেটগুলো উল্টিয়ে স্থান পরিবর্তন করে নিবেন, এরফলে আপনার সব মাংস সমানভাবে জমবে এবং ফ্রিজে উটকো গন্ধ হবে না। বাসা বাড়িতে মাংস কাটাকুটি করার ফলে অনেক সময় দুর্গন্ধ তৈরি হয়। সেটি থেকে রেহাই পেতে পর্যাপ্ত পরিমাণে স্যাভলন ছিটিয়ে মেঝে পরিষ্কার করে নিবেন।

কোরবানির সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছনতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব শুধু সিটি করপরেশানের নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকের উচিত নিজ নিজ জায়গা থেকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এতে করে নিজেও ভালো থাকবেন এবং প্রতিবেশীদেরও শান্তির নিশ্বাস ফেলার সুযোগ দিবেন।

- কাজী নাসিফ