রবিবার,১৯ অগাস্ট ২০১৮
হোম / সাহিত্য-সংস্কৃতি / একলা চাতক
০৭/৩১/২০১৮

একলা চাতক

- অপরাহ্ণ সুসমিতো

আমার স্ত্রীর ৩য় স্বামী আমি। প্রথমে ও বিয়ে করেছিল একজন নামি রাজনৈতিক নেতাকে। ক্ষমতার পট-পরিবর্তনের পর ঐ নেতা মন্ত্রী হতে পারেননি দেখে স্ত্রীর সাথে নেতার বিচ্ছেদ হয়ে যায়।
পরে স্ত্রী বিয়ে করেছিল এক আমলাকে। সেই আমলার নাকি বাসার কাজের বুয়াদের প্রতি তীব্র আসক্তি। তো এক রাতে আমলা সাহেব কাজের বুয়ার ঘরে ঢুকে মশারি সরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করবেন তখনই স্ত্রী আবিষ্কার করে আমলাকে সেখানে।
আমলা তখন স্ত্রীর পা ধরে বললেন, তুমি তো নারী না। তুমি তো মহীয়সী। অলৌকিক ক্ষমতা তোমার। আল্লাহ বোধহয় তোমাকে পাঠিয়েছেন আমাকে উদ্ধার করতে। ছি ছি ছি কী পাপ করতে যাচ্ছিলাম। তুমি এসে আমাকে বাঁচালে! কালই বাসায় মিলাদ পড়াব। কয়েকজন ফকিরকে ডেকে খাওয়াব। তোমাকে আমি খুশি হয়ে ৫০ লাখ টাকা দিব। সব খোদাতালার রহমত...
স্ত্রী টাকাটা নিল; এবং আমলাকে টুপ করে তালাক দিলো।
আমি তখন একটা লাইফ ইন্সিওরেন্স কোম্পানির এজেন্ট। জায়গায় জায়গায় ঘুরে ঘুরে লোকজনের প্রায় হাতে পায়ে ধরি জীবন বীমা পলিসি কেনার জন্য। এক বড়লোক আত্মীয়ের রেফারেন্সে এই ভদ্রমহিলার অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাই।
আমি এতটাই সাধারণ যে ভিড়ের মধ্যে মিশে থাকি। লোকজন আমাকে মনে রাখতে পারে না। গুছিয়ে ঠিকমতো কথা বলতে পারি না। নার্ভাস হলে তোতলাতে শুরু করি। এসি রুমেও ঘেমেটেমে একাকার। ফেসবুকে আমার বন্ধুসংখ্যা খুবই কম। কিছুই স্ট্যাটাস দিতে পারি না। দু’একটা ছবি দিলেও লাইক তেমন পড়ে না। সব বিখ্যাত লোকদের ফলোয়ার আমি। তাদের সব কিছু পড়ি আর মুগ্ধ হই।
সারাদিন শহর চষে বেড়াই। সন্ধ্যায় কাঁঠালবাগান দারোগার মেসে এসে ধুলোপড়া জুতাজোড়া খুলে পুরানো ন্যাকড়া আর থুতু দিয়ে জুতা পালিশ করি। মেসের সামনে কলতলায় একটা গামছা পেঁচিয়ে গোসল করি। লাক্স সাবান কিনে অর্ধেকটা কেটে রেখে দিয়ে বাকি অর্ধেকটা দিয়ে ঝুপঝুপ গোসল। দারোগা সাহেব যিনি আমাদের মেসের মালিক, তার বিল্ডিংয়ের ৩য় ও ৪র্থ তলা একটা গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিকে ভাড়া দিয়েছেন। সন্ধ্যায় দারোয়ান কলাপসিবল গেট খুলে দিলে গার্মেন্টসের মেয়েরা খালি টিফিন ক্যারিয়ার দোলাতে দোলাতে কলকল করে নামে। যেন খোঁয়ার থেকে মুক্তি পেল সারাদিনমান পর।
আমি গোসলে তখন। লজ্জায় কুঁকড়ে থাকি। যদিও গেঞ্জি পরে তখন তবুও পানিতে চুপসে থাকি বলে নিজের ভগ্নস্বাস্থ্য নিয়ে এক পৃথিবী সমান আড়ষ্ট। এই মেয়েগুলো আমার দিকে ফিরেও তাকায় না। পৃথিবীর কাউকেই আমি আকর্ষণ করতে পারি না।
এই গার্মেন্টসের মালিক একজন মহিলা।
তো অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে দেখা করতে যাই এক বিকালে এই মালিকের সাথে। তখনই আমার জীবনের এক আশ্চর্যতম ঘটনা ঘটে। আমার মলিন জুতা, মলিন পোশাক, মলিন মুখ সবকিছু ছাপিয়ে তিনি কেন যেন দু’দুটো জীবন বীমা পলিসি কিনলেন। ঐ কোম্পানির আরো কয়েকজনকে পলিসি করিয়ে দেবেন বলে প্রতিশ্রæতি দিলেন। তিনি আমাকে তার শীতল রুমে লাচ্ছি খেতে দিলেন। এত ঠান্ডায় আমার কাশি হয়ে গেল।
আমার মেসের রুমে ফিরে এসে আনন্দে কান্না এসে গেল। যে বুয়াটা আমাদের রান্না করে দেয়, তার হলুদ হাত আমার ভালো লাগতে শুরু করে। সেদিন মেসের মেনু ছিল ডিম ভুনা। সুতা দিয়ে ডিমের অর্ধেকটা কেটে পেট ভরে ভাত খেলাম। বুয়ার প্রচÐ হলুদ মরিচ ভাসা রান্না খেয়ে রাতে মেসের বাইরে এসে দারোয়ানের টুলটায় বসে থাকি।
মোড়ের দোকানটা থেকে এক খিলি মিষ্টি পান কিনে খেলাম। পানের সাথে একটা গোল্ডলিফ সিগারেটও। পান ও সিগারেট একসাথে অমৃত। চোখ মুদে সুখ নিচ্ছিলাম। গ্রিন রোড, কাঁঠালবাগান, মানুষের মুখ, মেসের সামনের বিল্ডিংয়ের দোতলার ব্যালকনিতে শুকাতে দেয়া শাড়ি, শাড়ির আড়ালে ঝুলানো ব্রা সব সুন্দর।
মালিক মহিলা আমাকে ঘন ঘন ডেকে পাঠান। নিরুদ্রব প্রাণীর মতো ওনার টেবিলের সামনের চেয়ারে বসে থাকি। পিয়ন ডেকে উনি খাবারের অর্ডার করেন। আমাকে খেতে দেন। মনের আনন্দে খাই। পেটভরা থাকলে সব কিছু ভালো লাগে। আমি তার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে পারি না। কথা জড়িয়ে যায়। মহিলার হাতে বেশ লোম। আমার এই লোম-হাত বেশ ভালো লাগে।
উনি আমাকে বসিয়ে রেখে অফিসের কাজকর্ম সারেন। বিদেশে ফোন করেন। ইংরেজিতে কথা বলেন। মুগ্ধতা বাড়তে থাকে আমার। মাঝে মাঝে লুকিয়ে তাকাই, উনি মাথা নিচু করে কি যেন লিখছেন, আমি অভাবী মানুষের তৃষ্ণা নিয়ে ওনার কাঁধে আলতো বেরিয়ে থাকা ব্রা’র স্ট্র্যাপের দিকে একঝলক তাকাই। কী যে সুন্দর লাগে!
বেশিক্ষণ তাকাতে পারি না। চোখ সরিয়ে নিই।
মেসের একভাই আছেন, মাঝে মধ্যে গাঁজা খান রাত বেড়ে গেলে। আমার ঘুম কমে আসে। ঘুম হয় না রাতে। এই ভাই কাউকে বিরক্ত করে না। বাইরের বারান্দায় বসে চুপচাপ গাঁজা ধরায়। তীব্র ঝাঁঝাল গন্ধে বিছানা ছেড়ে উঠে ভাইটার পাশে গিয়ে বসি। কুণ্ঠিত বসে থাকি। আমাকে তার হাতের জ্বালানো সিগারেট বাড়িয়ে দেন। আমি এক টান দিতেই কেশে উঠি...
একসময় বুঝতে পারি চাঁদভর্তি আকাশ। সমস্ত আকাশে চাঁদ আর চাঁদ। সমস্ত শহরে পূর্ণিমা নেমেছে। নেশার এক দিঘি বায়োস্কোপ আছে। টের পাই পূর্ণিমা সরে গিয়ে আকাশে খুব মেঘ করেছে। পূর্ণিমার রাতে কি মেঘ জমে? বৃষ্টি হবে নাকি?
শহরের বৃষ্টি পেরিয়ে আমি মায়ের কাছে উড়তে থাকি। মা রান্না ঘরের গরমে ঘামছে। বাবা বকছে মাকে। আমি একটা ছোট্ট পিঁড়ি পেতে মায়ের গা ঘেঁষে বসে থাকি। মাকে বিরক্ত করি না। রান্নার ঘ্রাণে মাকে সুন্দর লাগছে। আমার মায়ের কোলে শুয়ে থাকতে ইচ্ছা করছে। মাকে গান শোনাতে ইচ্ছা করে।
মায়ের এক কুণ্ঠিত লজ্জায় আমার বেসুরো গান লা লা লা লা করে উড়তে থাকে। আমার মৃত মায়ের সাথে ভেসে যেতে থাকি। ফুঁপিয়ে কান্না আসে আমার।
বেশ বেলা করে ঘুম ভাঙলে সমস্ত শরীরে অবসাদ টের পাই। এই প্রথম অফিস কামাই করি। ইচ্ছা করছে না চাকরি। মনে পড়ে কাল রাতে নেশা করার কথা।
মৃত মায়ের কথা মনে পড়ল। একজন ফকিরকে ডেকে কিছু দান খয়রাত করতে হবে ভাবি। মৃত মানুষকে স্বপ্নে দেখলে দান খয়রাত করতে হয়। বিছানায় শুয়ে শুয়ে ম্যাডামের লাবণ্য মুখ, হেঁটে যাবার দোলায়িত শরীর, রান্না করতে করতে বুয়ার বøাউজ পিঠ সব কেমন যেন ভাসতে থাকে ঈগল পাখির মেলে দেওয়া ডানার মতো। বালিশের পাশে শুয়ে থাকা মোবাইল ফোনটা হাতে নিলাম। সেভ করা একটা ৩ মিনিটের পর্নো দেখলাম।
শরীরজুড়ে একটা কাঁকড়া বিছা কুরকুর করে খেতে থাকল আমাকে। একটা জ্বর জ্বর ভাব ঢাকা শহরের গরমকে পাল্লা দিয়ে আমার গা বেয়ে নিচে নামতে থাকে। মেসের কলতলায় এসময়টা ভিড় কম থাকে। রোদ এসে বারান্দায় জানান দেয় নভেম্বরের শীত আসছে। গোসল করবার সময় অকারণে অসভ্য করে লাক্সের ফেনায় আমি পিচ্ছিল হতে থাকি।
চোখ বন্ধ করে ম্যাডামের এলায়িত দুলুনি, লাক্সের ঘ্রাণ, মোবাইলের গোপন ভিডিওর চাবুক মেয়েটি আমার সাথে খিলখিল করতে থাকে গোসলের ঝুপুর ঝুপুর পানিতে। আমি আরো ভেসে যাই আরো।
গোসল শেষে বুয়ার সাথে হেসে হেসে কথা বলি। কাল রাতের রেখে দেওয়া অর্ধেক ডিম, লাউশাক আর ডাল দিয়ে একগামলা ভাত খেয়ে ফেলি। একখিলি পান আর গোল্ডলিফ হলে মন্দ হতো না। চোখ দুপুরে ভুস করে ঘুম নামে ঢলানি।
আবার ঘুম। মাথার উপরে ফ্যানের ঘ্যান ঘ্যান পাখা, নভেম্বরের ভাত দুপুরের আমেজ চোখজুড়ে নৌকা মার্কা ধানের শীষ হয়ে ভাসতে থাকল। দারোয়ানের ডাকে যখন হকচকিয়ে ঘুম ভাঙে প্রথমে বুঝতে পারিনি এখন সকাল কি বিকাল। দারোয়ানের মতলব মার্কা হাসি ও সিরাজগঞ্জের উচ্চারণে যা বলল, তার মানে হলো ম্যাডাম আমাকে সালাম পাঠিয়েছেন ও আমার কপাল খুলে যাচ্ছে।
দারোয়ান আমার হাতে একটা বিশাল বক্স ধরিয়ে দিলো। বক্স খুলতেই ঝকঝকে কাপড় চোপড়। ম্যাডাম আমাকে উপহার দিয়েছেন। এক জোড়া জুতাও আছে। উনি মাপ জানলেন কি করে?
বিকাল বেলা কোথাও যেতে ইচ্ছা করল না। রুমের ভিতর শুয়ে থাকি। মোবাইল ফোনে ইউটিউব থেকে গান শুনি। লালনের গান আমার সব সময় প্রিয়।
কি সন্ধানে যাই সেখানে/মনের মানুষ যেখানে/আঁধার ঘরে জ্বলছে বাতি/ দিবা রাতি নাই সেখানে।
যেতে পথে কাম নদীতে/ পাড়ি দিতে ত্রিভুবনে।
কত ধনীর ভারা যাচ্ছে মারা/পরে নদীর তোড় তুফানে।

১৬ ডিসেম্বর যখন সবাই বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত, ঢাকা শহরের লোকজন শীত সকালের চা খেতে খেতে টিভির সামনে বসে তিন বাহিনীর কুচকাওয়াজ দেখছে তখন খুব নিরিবিলি ম্যাডাম আর আমার বিয়ে হয়ে গেল।
স্ত্রীর ডিওএইচএসের বাসায় আমি খালি পায়ে হাঁটি। কী যে ঠান্ডা মেঝে! শীত শীত লাগে! কাঁঠালবাগানের মেস থেকে এই বাসায় উঠে আসি। নিজের চারপাশ কেমন যেন ভিনদেশ লাগে। ইন্সুরেন্সের চাকরিটা ছেড়ে দিতে বলে বউ। বাসার কাজের লোক, বুয়া, দারোয়ান সবাই আমার দিকে কেমন করে যেন তাকায়। বুয়া আমাকে দেখলে কেমন করে যেন ফিক করে হাসে।
বউ আমাকে এখনো কোথাও চাকরি করার অনুমতি দিচ্ছে না। এ-প্রসঙ্গে কথা তুললেই বলে আরেকটু সবুর করতে। সকাল বেলা বউ ঝড়ের গতিতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় আসে মোটামুটি দেরি করে। সারাদিন বাসায় আমি একা। টিভি দেখি, ফেসবুক করি। লালনের গান শুনি। আমাদের শোবার বিছানা এক। লুঙ্গি পরে বাসায় থাকার বা রাতে শোবার অনুমতি নাই। আমার দমবন্ধ লাগে। সময় কাটাবার জন্য আমি রান্না শুরু করি। বুয়া অবাক হয় আর ফিকফিক করে হাসতে থাকে।
খুব মন দিয়ে রান্না করি আমি। আজকাল রান্নার রেসিপি পাওয়া অনেক সহজ। খাবার টেবিলে ও আমার রান্না খেয়ে আটখানা হয়ে যায়। অবাক হয়। কোথা থেকে শিখেছি জানতে চায় না। বাইরে যাবার সময় আমি গাড়ি পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে আসি। বড় ব্যাগটা পৌঁছে দিই। রাতে শোবার সময় ওকে খুব নিবিড় করে দেখি। শরীর হালুম করে ওঠে কিন্তু মুহূর্তেই কুঁকড়ে যাই। পারি না কিছুই। ওর তীব্র ব্যক্তিত্বের কাছে পরাজিত হতে থাকি রাতের পর রাত।
অক্ষম একটা যন্ত্রণা শরীরজুড়ে আবাবিল পাখির মতো আমার দিকে ঢিল মারতে থাকে।
এক ধরনের কষ্ট সারাদিন ঘড়ির কাঁটার মতো ঘুরতে থাকে। বুঝতে পারি আমি যন্ত্রের মতো হচ্ছি। সঙ্গম জিনিসটা কি বুঝতে পারি না। বাথরুমে গোসল করবার সময় যখন সব খুলে ভিজতে থাকি, অবাক হয়ে নিজের শরীরের দিকে তাকিয়ে থাকি।
তীব্র সুগন্ধি ফেনায় আমার শরীর পিচ্ছিল ভেসে যায়। অদ্ভুত শিহরনে আমি কাঁঠালবাগানের কলতলা ভাবতে থাকি, হলুদমাখা সেই বুয়া আমার সামনে ঢঙ করে, খুলে দেয় কামফুল। আমি মাস্টারবেট করি।
গোসল শেষ করে মাথা মুছতে মুছতে বের হতেই বউয়ের ফোন। হ্যালো বলতেই বউয়ের উচ্ছ¡সিত গলা। বলল টিভি অন করো।
টিভি অন করতেই দেখি আমার স্ত্রী শপথ করছে রাষ্ট্রপতির সামনে। প্রতিমন্ত্রী হয়েছে টেকনোক্র্যাট কোটায়। কী সুন্দর ঝকমকে লাগছে ওকে! অল্পদামি সাদামাটা একটা শাড়ি পরেছে। কী প্রখর ব্যক্তিত্ব!
বাসার ফোন, আমার মোবাইল ফোন ক্রমাগত বাজতে শুরু করে।
রান্না ঘরে ঢুকে সিংকের কল ছেড়ে দিই... কলকল করে পানি পড়তে শুরু করে। হাতের দিকে তাকিয়ে দেখি কাঁঠালবাগানের বুয়ার মতো আমার হাতে রান্নার হলুদ দাগ...বেকিং সোডা হাতে মেখে পাগলের মতো ঘষতে থাকি। হলুদ দাগ ঘষতে থাকি।
রান্না ঘরের পানি পড়ার শব্দে আমার কান্না ডুকরে ওঠে নিঃশব্দ ফুলের পাপড়িতে।

*
মাননীয়া প্রতিমন্ত্রী মহোদয়া,
আমাকে প্রায় সন্ন্যাসী হয়ে উঠতে সাহায্য করায় আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা। আসলেই। আমি মানসিকভাবে বেশ শক্তিশালী হয়েছি এই কয়েক মাসে। এটা দরকার ছিল। অন্তত মানসিক নির্ভরশীলতায় আক্রান্ত হবো না আর আশা করছি।
রবি ঠাকুরের হৈমন্তী গল্পের বাবার মতো সব ছেড়ে দিতে পারছি, একদম অন্তর থেকে। এই ছোট্ট জীবনের প্রত্যুত্তরেই এই লেখা। ভালোবাসার পিঠে ভালোবাসা, গুরুত্ব দেওয়ার সাথে সাথে গুরুত্ব পাওয়ার আকাক্সক্ষা, আপনাকে ছাড়া কিচ্ছু ভালো লাগছে না এই অকারণ আহ্লাদী অনুভূতির সাথে সাথে এমনি কিছু আশা করা, এইসব আমি সচেতনে আর করব না।
রিয়েলিজমে বাস করছি। ফ্যান্টাসিতে পুলক আছে কিন্তু ফ্যান্টাসি ডিল করতে জানি না বলে তা বাস্তবে দুঃখকষ্টের কারণও হয়। এখন ফ্যান্টাসিকে বাতিল করে দিয়েছি।
চরম সুখের অবচেতন মন বলেছে সে রিয়েলিজম বিরোধী। আমি ফ্যান্টাসিতে বাঁচতে চেয়েছি কিন্তু সেই যোগ্যতা আমার নাই।
ভালো থাকবেন মাননীয়া। আপনার উপর আমার কোনো রাগ নাই। তবে যেই বিপুল পরিমাণ প্রেম ছিল তা মনে পড়লে নিজের জন্যে মায়া হয়।
এখন হাল্কা লাগছে। আমি আপনাকে ভুলে যাচ্ছি। ভুলে যাচ্ছি বললে বোঝাও যায় না, পকেট আটকে পড়া থেকে মুক্ত হয়ে যাচ্ছি। গোপনে অপেক্ষা আছে মনে হয়। তবে কোনো আকাক্সক্ষা আর নেই। ইগোর কাছে আকাক্সক্ষা হার মেনেছে। অপেক্ষাটাও হার মানছে।
ভালো লাগছে এই ভেবে যে আমি বড় হচ্ছি এবং কোনো কিছুর জন্য অপেক্ষাটাও আর আমার নেই।
আপনার মঙ্গল কামনা করছি।