বুধবার,২১ নভেম্বর ২০১৮
হোম / জীবনযাপন / ক্রিয়েটিভ শখ সন্তানকে করে তুলবে স্মার্ট
০৭/৩১/২০১৮

ক্রিয়েটিভ শখ সন্তানকে করে তুলবে স্মার্ট

-

রিফাত, ঢাকার একটি নামকরা স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। দিনের বেশিরভাগ সময় মোবাইল, কম্পিউটারে বিভিন্ন গেম খেলার পেছনেই ব্যয় করে সে। এতে করে একদিকে তার একাডেমিক পড়াশুনায় যেমন ব্যাঘাত ঘটে তেমনি ক্রমেই দৈনন্দিন কাজে অলসতা ও মন্থরতা পেয়ে বসে। আর এই বিষয়গুলো নিয়ে তার অভিভাবকদের দুশ্চিন্তার অন্ত নেই।

শিশুদের সৃজনশীলতা, দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধির জন্যে তাদের সামগ্রিক মনস্তাত্ত্বিক উন্নয়ন প্রয়োজন। তাই শৈশব থেকেই শিশুর মাঝে ভালো অভ্যাস ছড়িয়ে দিতে হবে, যাতে করে শিশুর মানসিক ও শারীরিক বিকাশ যথাযথভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। পড়াশুনা ও খেলাধুলার পাশাপাশি শিশুকে এমন সব বিষয়ে আগ্রহী করে তুলতে হবে, যা তার সর্বাঙ্গীণ বিকাশের সাথে সাথে তাকে করে তুলবে আরও স্মার্ট। আর তাই শিশুর সঠিক কাঠামোগত মানসিক বিকাশ নিশ্চিতে ছোটবেলাতেই তার মধ্যে নিম্নোক্ত শখগুলোর সাথে পরিচয় করিয়ে দিন।

শিশুকে শিক্ষামূলক গেম খেলতে উৎসাহিত করুন
শিশুর মানসিক ব্যায়াম নিশ্চিত করার জন্যে শৈশব থেকেই তাকে বিভিন্ন শিক্ষামূলক খেলায় যুক্ত হতে সাহায্য করুন। পাজল মেলানো, ধাঁধা সমাধান ও শব্দ নিয়ে গঠিত বিভিন্ন খেলায় অভ্যস্ত করে তুলুন। এতে করে বিভিন্ন প্রযুক্তি পণ্যের প্রতি শিশুর অতি আসক্তি যেমন হ্রাস পাবে, একইসাথে যেকোনো সমস্যা সমাধানেও পারদর্শী হয়ে উঠবে সে। সময়ের সাথে সাথে সুডোকু ও দাবা খেলায় অভ্যস্ত হয়ে উঠলে শিশুর মনস্তাত্ত্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

নতুন ভাষা শিখতে উদ্বুদ্ধ করুন
১০ বছরের বেশি বয়সি শিশুদের মাঝে মাতৃভাষা ছাড়াও অপর আরেকটি ভাষা শেখার সুফল এরই মধ্যে বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে। নতুন ভাষা শেখা শিশুদের শিক্ষার পরিধি যেমন বৃদ্ধি করে, একইসঙ্গে তাদেরকে আরও স্মার্ট ও অকপট করে তোলে। যেসব শিশুরা বিভিন্ন ভাষায় পারদর্শী তারা চাপের মধ্যেও নিজেদের কাজে অন্য শিশুদের তুলনায় অধিক মনোনিবেশ করতে পারে ও দৃঢ়তার সাথে কার্য সম্পন্ন করতে পারে।

কয়েন ও ডাক স্ট্যাম্প সংগ্রহ করা
শিশুর মন খুবই অনুসন্ধিৎসু প্রকৃতির হয়, আর তাই বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ও ডাক স্ট্যাম্প সংগ্রহের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও স্থান সম্পর্কে সহজেই জ্ঞান অর্জন করতে পারবে। শিশুদের কৌতূহলী স্বভাবের ফলে তারা সেসব দেশ ও তাদের বিখ্যাত স্থানসমূহ, মুদ্রা ও ভৌগোলিক অবস্থান সম্পর্কে জানতে উৎসাহী হবে।

গান শেখানো
এটি প্রমাণিত যে, সংগীতের নানাবাদ্যযন্ত্র বাজানোর সক্ষমতা শিশুদের সৃজনশীলতা ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। আর তাই শিশুদের সংগীতের বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের সাথে শৈশব থেকেই পরিচিতি করিয়ে দেয়া উচিত। এরইসাথে সেই বাদ্যযন্ত্রগুলো বাজানো শেখার সুব্যবস্থাও করে দিতে হবে। এতে করে শিশুর সুস্থ সাংস্কৃতিক বিকাশ নিশ্চিত হবে।

শরীরচর্চা ও খেলাধুলায় আগ্রহী করে তুলুন
একা একা খেলাধুলার মাধ্যমে শিশুর ক্রীড়ানুরাগ গড়ে ওঠে ঠিক, তবে দলীয় খেলার মাধ্যমে শিশুর মাঝে বিভিন্ন ইতিবাচক গুণাবলীর প্রকাশ লক্ষ্য করা যায়। নেতৃত্বগুণ, টিমওয়ার্ক ও সাম্যের মতো গুণাবলীগুলো শিশুরা খেলাধুলা থেকে রপ্ত করতে পারে। আর নিয়মিত শারীরিক কসরতের অভ্যাস শিশুর দেহমনকে প্রাণবন্ত রাখতে সাহায্য করবে।

- এইচ এম আব্দুল্লাহ